মো: জামাল হোসেন।।
রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও সরকারি ছুটি চরমভাবে উপেক্ষা করে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে’ও কাজ করাতে বাধ্য করা হয়েছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাগর জুট স্পিনিং মিল ও কোয়ালিটি ডাইভারসিফাইড জুট মিলস লিমিটেডের প্রায় ১৫শ’ শ্রমিককে। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রজুড়ে ঘোষিত ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে চাকরি হারানোর আতঙ্কে ঘাম ঝরাতে হয়েছে এই নিঃস্ব কারখানা কর্মীদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাগর জুট স্পিনিং মিলের প্রায় ১২শ’ এবং কোয়ালিটি ডাইভারসিফাইড জুট মিলের ৩২০ জন শ্রমিক ৫ আগস্টের ছুটির বিষয়ে অবগত থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষের হুমকির মুখে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হন। কর্মচারীদের অভিযোগ, ছুটির বিষয়ে কোনো নোটিশ না দিয়ে উল্টো নির্দেশ দেওয়া হয়—‘কাজে না এলে চাকরিচ্যুত করা হবে’। অতীতে বকেয়া না দিয়ে ছাঁটাইয়ের রেকর্ড থাকায় পেটের দায়ে মুখ বুজে কাজে যোগ দেন নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিঘলিয়ার সেনহাটিতে অবস্থিত মিল দুটি পুরোদমে সচল। ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্রথম শিফটের শ্রমিকেরা কাজ শেষে বের হন এবং বেলা ২টার শিফটের শ্রমিকেরা ভেতরে প্রবেশ করেন। সারা দেশের শ্রমিকেরা ছুটির দিনে উদযাপনে মাতলেও দিঘলিয়ার এই দুই মিলের শ্রমিকদের চোখে-মুখে দেখা যায় নীরব ক্ষোভ আর আক্ষেপ।
কাজে ফেরা একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “৫ আগস্ট ছুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। খুলনা অঞ্চলের অন্য সব কারখানায় ছুটি থাকলেও আমাদের ওপর জোরজবরদস্তি করা হয়েছে। কাজে না এলে চাকরি থাকবে না, তাই মনের কষ্টে বাধ্য হয়ে কাজ করেছি।”
সরকারি আদেশ অমান্য করে মিল চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সাগর জুট স্পিনিং মিলের এডমিন কর্মকর্তা আসাবুল হক দায় এড়িয়ে দাবি করেন, “বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মিল চালু রাখা যায়। জুট মিলস এসোসিয়েশনের গেজেটে বছরে ১১ দিন ছুটির কথা রয়েছে, যেখানে ৫ আগস্ট অন্তর্ভুক্ত নয়। বিজেএমসির সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

একই সুরে কোয়ালিটি ডাইভারসিফাইড জুট মিলের জিএম শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। আশেপাশের মিল চালু দেখে আমরাও চালু রেখেছি। ১১ দিনের বাৎসরিক ছুটির তালিকায় এটি নেই।”
তবে মালিকপক্ষের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) মহাসচিব আব্দুল বারিক খান। তিনি পরিষ্কার জানান, রপ্তানিমুখী হলেও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করে জাতীয় ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্ত জানান, মিল খোলা রাখার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি। সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

শহীদের রক্তে অর্জিত জাতীয় ছুটির দিনে সরকারি আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রমিক নির্যাতন ও হুমকি প্রদানকারী এই দুই জুট মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও শ্রমিক নেতারা।











































