Home আঞ্চলিক ধ্বংসের পথে ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার স্রষ্টা কবি কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতিনীড়, সংরক্ষণের...

ধ্বংসের পথে ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার স্রষ্টা কবি কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতিনীড়, সংরক্ষণের দাবি

6

মাগুরা প্রতিনিধি।।

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কালজয়ী ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার স্রষ্টা, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক কবি কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতিধন্য বসতবাড়িটি চরম অযত্ন ও অবহেলায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মুজদিয়া গ্রামে অবস্থিত ইতিহাস ও সাহিত্যের অনন্য এই স্মৃতিনিদর্শনটি সংরক্ষণে দীর্ঘ দিনেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাহিত্যিক, শিক্ষক ও প্রবীণ সুধী সমাজ।

মাগুরা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুজদিয়া গ্রামের এই বাড়িতেই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছেন এবং সাহিত্যচর্চা করেছেন কবি। বাড়ির পাশেই রয়েছে তাঁর সমাধি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, কবির এই বসতবাড়িটি ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত করা হলেও সংরক্ষণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে স্থানীয়দের প্রশ্ন—গেজেটভুক্ত হওয়ার পরও যদি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে তা সংরক্ষণে আর কত সময় লাগবে?

১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন কবি কাজী কাদের নেওয়াজ। বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কবি দেশভাগের পর ঢাকায় এসে শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৬৬ সালে অবসর নিয়ে মাগুরার মুজদিয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

‘মরাল’, ‘দাদুর বৈঠক’, ‘নীল কুমুদী’, ‘মণিদীপ’, ‘হারানো টুপি’-র মতো কালজয়ী সাহিত্য উপহার দিয়ে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতা আজও নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ ও গুরুভক্তির অনন্য প্রতীক।

মাগুরার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গবেষক ডা. কাজী তাসুকুজ্জামান বলেন, “রবীন্দ্র-নজরুল যুগের কবি হয়েও নিজস্ব ভাষা ও ছন্দে কাজী কাদের নেওয়াজ বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান তৈরি করেছেন। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখা এখন সময়ের বড় দাবি।”

একই সুর মিলিয়ে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম কুমার রায় ও গবেষক বিকাশ মজুমদার বলেন, কাজী কাদের নেওয়াজ কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ তুলে ধরতে অবিলম্বে বাড়িটি সংস্কার প্রয়োজন।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) কাজী মাজেদ নেওয়াজ জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যদি বাড়িটি অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তবে কবির পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুবুল হক জানান, কবির বসতবাড়িটি ইতিমধ্যে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে অতি দ্রুত এর ইতিবাচক সমাধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সংস্কৃতি কর্মীদের দাবি, কালক্ষেপণ না করে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করে সেখানে একটি আধুনিক ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি স্মৃতিকেন্দ্র’ গড়ে তোলা হোক।