স্পোর্টস ডেস্ক।।
অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে ফ্রান্স। তাদের এই দুর্দান্ত পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণভাগ। সেই আক্রমণভাগের প্রাণ হলো কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে জুটি। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই জুটির কল্যাণে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। সে সঙ্গে জুটি রেকর্ডও গড়েছেন তারা। ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রোনালদো ও রিভালদো জুটির পাশে বসেছেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে জুটি।
২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দুই তারকা রোনালদো ও রিভালদো জুটি মোট ১৩ গোল করেছিলেন; যেখানে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৮ ও রিভালদোর ৫টি। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে ও দেম্বেলে জুটিও ১৩ গোল করেছেন। এরমধ্যে এমবাপ্পে ৮ এবং দেম্বেলে ৫ গোল করেছেন। আর ২০০২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো একটি দেশের দুইজন পাঁচটি বা এর বেশি গোল করলেন। ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহো ট্রায়ো মিলে ২০ গোলে অবদান রেখেছিলেন। এবার ফ্রান্সের এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে জুটি মিলে ২৩ গোলে অবদান রেখেছেন। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় ফরাসিদের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে।
ফলে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের। এমবাপ্পে ও দেম্বেলে জুটি আরও বড় একটি অর্জন করতে পারেন। বিশ্বকাপের এক আসরে এক দেশের দুই খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সম্মিলিত গোলের রেকর্ড ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইন ও রেকমন্ড কোপার দখলে। ১৯৫৮ সালে তারা দুজন মিলে ১৬ গোল করেছিলেন। হাঙ্গেরির সানদর ককসিস ও ফেরেঙ্ক পুসকাস জুটি মোট ১৫ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এমবাপ্পে ও দেম্বেলের জুটির সামনে।
এই জুটির দাপটের কারণেই কোয়ার্টার ফাইনালে একবারও মনে হয়নি যে মরক্কো জিততে পারে। বরং এমবাপ্পে পেনাল্টি মিস করার পরও দর্শকদের প্রায় সবাই নিশ্চিত ছিলেন যে ফ্রান্সই জিততে যাচ্ছে। প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই ভেঙে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ। ৬০ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে ট্রেডমার্ক নিখুঁত মাপা শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপ্পে। ৬ মিনিট পর দেম্বেলেও দর্শনীয় গোলে লিডটা দ্বিগুণ করেন। তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সের এই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার পেছনে মূল রহস্য এই জুটি।
দেম্বেলে কিন্তু ফ্রান্সের গত দুটি বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও ছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী দলে সুযোগ পেলেও কাতারে নিয়মিতই খেলেছেন তিনি। কিন্তু এমবাপ্পের সঙ্গে জুটি গড়ে ওঠা তো দূরের বিষয়, গত দুই আসরে দেম্বেলে গোলের দেখাই পাননি। অবশ্য এন্টিনিও গ্রিজম্যান, অলিভার জিরুদ, কোলু মোয়ানিদের কারণে এমবাপ্পের সঙ্গে তাঁর জুটি হয়নি।
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম তাঁর এই ফরোয়ার্ড জুটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে পেনাল্টি মিস করার পরও নাকি তাঁর মনে জয় নিয়ে কোনো শঙ্কা ছিল না। আর এমবাপ্পের গোলেই সে জয় আসবে সেটিও নিশ্চিত ছিলেন তিনি। তবে পেনাল্টির আগে রেফারির তিন মিনিটের দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্সের কোচ।
এই বিরতি খেলোয়াড়ের মনোসংযোগে চির ধরিয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি। দেম্বেলের গোলটিরও প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দেশম। দেম্বেলের গোল তাদের জয়টা নিরাপদ করে দিয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।









































