- স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিহিংসার মামলার ফরমায়েশি রায়ে খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্তিতে খুলনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলের মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে পালিত হবে কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচি। এর আগে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, রোগমুক্তি এবং কারামুক্তি চেয়ে বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বাদ জুম্মা নগরীর ৩১ টি ওয়ার্ড এবং প্রতি ইউনিয়নে একটি মসজিদে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে দোয়া হবে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয় আদালত। কর্মসূচি সফল করতে মহানগর বিএনপির এক সাংগঠনিক সভা বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১২ টায় কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক, কেসিসির সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, খালিশপুর থানার আহবায়ক স ম আব্দুর রহমান, খানজাহান আলী থানার আহবায়ক মীর কায়সেদ আলী, সদর থানার আহবায়ক জলিল খান কালাম, দৌলতপুর থানার সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক নান্নু, সোনাডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ, মহিলা দল সভানেত্রী রেহানা ঈসা, যুবদল সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, স্বেচ্ছাসবক দল সভাপতি একরামুল হক হেলাল, ছাত্রদল সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ ইকবাল হোসেন, শাহজালাল বাবলু, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দীপু, মহিবুজ্জামান কচি, শফিকুল আলম তুহিন, শাহিনুল ইসলাম পাখী, ইকবাল হোসেন খোকন, জালু মিয়া, নিজাম উর রহমান লালু, সাদিকুর রহমান সবুজ, এহতেশামুল হক শাওন, শেখ সাদী, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সাজ্জাদ হোসেন তোতন, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, মুজিবর রহমান ফয়েজ, আবুল কালাম জিয়া, হাফিজুর রহমান মনি, জামিরুল ইসলাম, বদরুল আনাম, তরিকুল্লাহ খান, আফসারউদ্দিন মাস্টুর, ইসাহাক তালুকদার, আব্দুল লতিফ, হাবিব বিশ্বাস, তরিকুল ইসলাম, আকরাম হোসেন খোকন, মেজবাহউদ্দিন মিজু, রবিউল ইসলাম রবি, তৌহিদুল ইসলাম খোকন, আবু সাঈদ শেখ, ওমর ফারুক, কাজী শাহনেওয়াজ নীরু, ইমতিয়াজ আলম বাবু, বাচ্চু মীর, মোস্তফা কামাল, শফিকুল ইসলাম শাহিন, হাসনা হেনা, নিঘাত সীমা, মাওলানা আব্দুল গফফার, ইউসুফ মোল্লা, এনামুল হাসান ডায়মন্ড, আবু বক্কর, আব্দুর রহমান, শামসুর রহমান, হুমায়ুন কবির, ময়েজউদ্দিন চুন্নু, মাজেদা খাতুন, মুন্নি জামান, আনজিরা বেগম, মনিরুল ইসলাম, ইসমত আর কাকন প্রমুখ।
সভা থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দীত্বের দুই বছর পূর্তিতে কেন্দ্র ঘোষিত শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং শুক্রবার দোয়া মাহফিল সফল করতে সকল থানা বিএনপি এবং মহানগরী পর্যায়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে প্রস্ততি সভা করার নির্দেশ দেয়া হয়। সভা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম নামের প্রহসন, জালিয়াতি, বিএনপির প্রার্থী-এজেন্ট-কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, ভোটারদের ওপর হামলা ও শাসক দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা জোরপূর্বক বোতাম চেপে নৌকায় ভোট দিয়ে দেওয়া, সর্বশেষ ভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে ভোর রাত পর্যন্ত লেগে যাওয়ার তিব্র নিন্দা জানানো হয়। নির্বাচনে ক্যাডারদের সশস্ত্র মহড়ার ছবি তুলতে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতিহাসের সর্বনি¤œ সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি এবং ভোট বিমুখতা গণতন্ত্রের জন্য চরম অশনী সংকেত বলে সভা থেকে দাবি করা হয়।
সভা থেকে চাল, ডাল, তেল, পেয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। লুটেরা সরকারের মন্ত্রী এমপি এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের কারনে পণ্যমূল্য বাড়ছে বলে সভা থেকে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে এবং নি¤œ আয়ের মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সভা থেকে সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে নানা পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ দ্বারা রাষ্ট্রীয় ও জনগনের সম্পদ-অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের ঘটনার তিব্র নিন্দা জানানো হয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তাদের ক্রমাগত লুটপাটের কারনে দেশের অর্থনীতি চরম ঝুকিতে পড়েছে বলে সভা থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।









































