সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনের একটি বনদস্যু চক্রের আস্তানা থেকে পালিয়ে ছয় দিন পর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন নূরুজ্জামান শেখ (৪৫) নামে এক জেলে। ফল ও গাছের পাতা খেয়ে সুন্দরবনের গভীরে আত্মগোপন করে জীবন বাঁচিয়ে অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন তিনি।
বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যার পর একটি জেলে নৌকার সহায়তায় বাড়িতে ফেরেন নূরুজ্জামান। তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামের আহমেদ শেখের ছেলে।
নূরুজ্জামান জানান, গত ৪ জুন বুড়িগোয়ালিনী বন অফিস থেকে কাঁকড়া আহরণের অনুমতি (পাস) নিয়ে তিনি ও তার সঙ্গীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। পরদিন কচুখালী খালে কাঁকড়া ধরার সময় বিকেলে অস্ত্রধারী বনদস্যু জোনাব বাহিনীর সদস্যরা তাদের নৌকায় হানা দেয়।
তিনি বলেন, দস্যুরা অস্ত্রের মুখে আমাকে ও আরও তিন জেলেকে জিম্মি করে। পরে মুক্তিপণ হিসেবে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিয়ে অন্য দুই জেলেকে ছাড়িয়ে নিলেও আমাকে আটকে রাখা হয়।
নূরুজ্জামানের ভাষ্য, একপর্যায়ে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে তিনি দস্যুদের আস্তানা থেকে পালিয়ে যান। এরপর সুন্দরবনের ভেতরে একটি উঁচু গাছে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করেন। টানা পাঁচ দিন তিনি গাছের ফল ও পাতা খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে ছিলেন।
চারদিকে ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটিয়েছি। দস্যুরা খুঁজে পেলে হয়তো আর বাঁচতাম না। তাই দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকতাম, রাতে চলাফেরা করতাম, বলেন তিনি।
পাঁচ দিন পর সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী একটি জেলে নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন নূরুজ্জামান। পরে ওই নৌকার সহায়তায় তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
তার ফিরে আসার খবরে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় স্বজনরা তার জীবিত ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, নূরুজ্জামান নামে এক জেলে বাড়িতে ফিরে এসেছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এখনও বনদস্যুদের বিচ্ছিন্ন তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যেই মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাওয়া জেলেরা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।











































