স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য দুর্দান্ত গোল এবং অবিশ্বাস্য সেভ দেখা গেছে। তবে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা ফলাফলকে ছাপিয়ে কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে।
কলম্বিয়ার গোলরক্ষক রেনে হিগুইতার ‘স্করপিয়ন কিক’ সেভ ঠিক তেমনই একটি ঘটনা। ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়া।
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জেমি রেডন্যাপ দূরপাল্লার একটি শট নেন। সাধারণ কোনো গোলরক্ষক হলে বলটি সহজেই হাতে তালুবন্দি করতেন। কিন্তু হিগুইতা ছিলেন ব্যতিক্রম।
বলটি যখন তার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি হঠাৎ সামনের দিকে ঝাঁপ দেন এবং নিজের দুই পা মাথার পেছনে তুলে গোড়ালির সাহায্যে বলটি ক্লিয়ার করেন।
মুহূর্তটি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে মাঠে উপস্থিত দর্শক, খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকাররা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। ফুটবলবিশ্ব সেদিনই জন্ম নিতে দেখেছিল ‘স্করপিয়ন কিক’ নামের এক নতুন কিংবদন্তির। কে ছিলেন এই রেনে হিগুইতা কলম্বিয়ার কিংবদন্তি গোলরক্ষক রেনে হিগুইতা ফুটবল ইতিহাসে শুধু একজন গোলরক্ষক হিসেবেই নয়, ব্যতিক্রমী খেলার ধরন এবং সাহসী মানসিকতার জন্যও স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৬৬ সালের ২৭ আগস্ট কলম্বিয়ার মেডেলিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হিগুইতা। ১৯৮৫ সালে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে অ্যাটলেটিকো ন্যাশনালের হয়ে। ১৯৮৯ সালে কোপা লিবার্তাদোরেস জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হিগুইতা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেটিই ছিল কোনো কলম্বিয়ান ক্লাবের প্রথম কোপা লিবার্তাদোরেস জয়।
জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন খেলেছেন হিগুইতা। ১৯৯০ ফিফা বিশ্বকাপে কলম্বিয়াকে শেষ ষোলোতে তুলতে সাহায্য করেন তিনি।
হিগুইতার খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল গোলপোস্ট ছেড়ে অনেক দূর পর্যন্ত উঠে এসে বল নিয়ন্ত্রণ করা। আধুনিক যুগের ‘সুইপার-কিপার’ ধারণার অন্যতম পথপ্রদর্শক তিনি ছিলেন..এ কথা নিশ্চিন্তভাবেই বলা যায়।
তবে তার এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলার ধরন নিয়ে অনেক সময় সমালোচনাও হয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে এক ম্যাচে ভুল করেন হিগুইতা। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় কলম্বিয়াকে। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা।
তবু ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে হিগুইতা রয়ে গেছেন ভিন্ন এক চরিত্র হিসেবে। তার সাহসী মানসিকতা, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং ওয়েম্বলির সেই ‘স্করপিয়ন কিক’ আজও ফুটবলবিশ্বের বিস্ময় হয়ে আছে।










































