Home খেলাধুলা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরলেন আরতান, বীরের সম্মান দিল সোমালিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পেরে দেশে ফিরলেন আরতান, বীরের সম্মান দিল সোমালিয়া

2

স্পোর্টস ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে সোমালিয়ায় ফিরে গেছেন রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। বুধবার ভোরে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে পৌঁছান তিনি। দেশে ফেরার পরই বিমানবন্দরে তাকে বীরের সম্মান দিয়ে বরণ করে নিয়েছে উল্লসিত জনতা।

বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেলে ইতিহাস গড়তেন আরতান। তিনিই হতেন প্রথম সোমালি রেফারি, যিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেতেন। কিন্তু তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেও দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট নিয়ে দেশে ফেরা এই সোমালি রেফারিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। ফুল ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে দেশের গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন সোমালি জনতা।

সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনও তার সম্মানে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরতান ফিফা ও সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বকাপে দায়িত্ব না পাওয়ার হতাশা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, বিশ্বকাপে রেফারির দায়িত্ব পালনা করা তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনও কল্পনাও করেননি তিনি।

তার দাবি, প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তবু তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় কিছু উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কিত কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন আরতান।

হতাশার মধ্যেও আশাবাদ হারাতে চান না আরতান। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু তরুণদের প্রতি তার আহ্বান, কোনো বাধায় স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে নতুন সুযোগ অবশ্যই আসবে।

হর্ন অভ আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ সোমালিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে আফ্রিকান ফুটবলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

২০২৪ সালে প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি। এর পরের বছর পান আফ্রিকার সেরা রেফারির স্বীকৃতি।