ঢাকা অফিস।।
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঘটনার পর দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। যেসব রোগী এই মুহূর্তে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন, লাইসেন্স বাতিলের পর এখন তাঁরা কী করবেন এই প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, ‘লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নিতে যাওয়া উচিত নয়। যাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি সেসব রোগীদের যেন নিকটতম উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁদের যদি কোনো সহায়তা দরকার হয়, তাঁরা যেন তা আমাদের জানায়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে এখনও আপিলের সুযোগ রয়েছে। অর্ডিন্যান্সের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
মহাপরিচালক জানান, ২৭ মে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর অর্ডিন্যান্সের ১১ ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। এ বিষয়ে ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত জবাব জমা দেয়।
এই ঘটনায় ২৮ মে মৃত নবজাতকের এক বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে কাউকে গ্রোপ্তার করা হয়নি। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।










































