Home Lead ১৪ বছর পর সচলের হাতছানি: মাত্র ১২ লাখ টাকা পেলেই আলো ছড়াবে...

১৪ বছর পর সচলের হাতছানি: মাত্র ১২ লাখ টাকা পেলেই আলো ছড়াবে সোলার পার্ক!

25


সচল করতে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ফেড’-এর ৬ দফা সুপারিশ


স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব সোলার পার্কটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলেই মৃতপ্রায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় সচল করা সম্ভব। বুধবার (১০ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম’ (ফেড)। একই সাথে সোলার পার্কটি সচল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ৬ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির লিখিত বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ খাতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। অথচ ২০০৮ সালে ৪ দশমিক ৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে আছে। অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা গেলেই ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সোলার পার্কটি আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারে।”

ফেড-এর উত্থাপিত ৬ দফা সুপারিশ:
সংবাদ সম্মেলনে খুলনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ফেড-এর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়—

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটির সংস্কার কাজ শেষ করে এটি পুনরায় চালু করা।
২. পার্কের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের অংশে নতুন সৌর প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৩. খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ভবনসহ নগরীর বড় বড় স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
৪. অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা।
৫. নতুন বহুতল ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিধান কার্যকরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কেডিএ) সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৬. খুলনাকে একটি সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ।

রয়েছে ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোলার পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ভাসমান সৌর প্যানেলের (Floating Solar) মাধ্যমে ২৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

ফেডের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, নতুন প্যানেল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে যদি প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়, তবে এখান থেকে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ওপেক্স (OPEX) মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি পরিচালিত হলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের পুরো অর্থ উঠে আসবে এবং পরবর্তী ১৫ বছর প্রায় কোনো খরচ ছাড়াই মিলবে বিপুল বিদ্যুৎ সুবিধা।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে খুলনা সিটি করপোরেশন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়।