মিলি রহমান।।
বিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত ও সামাজিক বন্ধন। এটি শুধু নারী-পুরুষের বৈধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে না, বরং পরিবার গঠন, চরিত্র সংরক্ষণ এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ইসলাম বিয়েকে উৎসাহিত করেছে এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের দ্রুত বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিয়ে মানুষের দ্বীনের একটি বড় অংশ পূর্ণ করে। অন্য একটি হাদিসে তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, যাদের বিয়ের সামর্থ্য রয়েছে তাদের বিয়ে করা উচিত। কারণ বিয়ে মানুষের দৃষ্টি ও চরিত্রকে সংযত রাখতে সহায়তা করে।
তবে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন দেখা যায়, নিকাহর সময় কি অবশ্যই ‘কবুল’ শব্দটি উচ্চারণ করতে হবে? ইসলামি আইনশাস্ত্রের আলোচনায় দেখা যায়, বিষয়টি শুধু একটি নির্দিষ্ট শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল) থাকতে হবে। তবে গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশের জন্য ‘কবুল’ শব্দ ব্যবহার করাই একমাত্র শর্ত নয়। বরং এমন যেকোনো স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য, যা বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণের অর্থ প্রকাশ করে, তা নিকাহকে বৈধ করে।
ফিকহের কিতাবগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, ‘ক্ববিলতু’ (আমি গ্রহণ করলাম), ‘রদ্বিতু’ (আমি রাজি হলাম), ‘তাজাওয়াজতুহা’ (আমি তাকে বিবাহ করলাম), ‘আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু’ (আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ দিলাম) কিংবা ‘আজাযতুহু’ (আমি অনুমোদন করলাম) এসব শব্দও পরিস্থিতিভেদে কবুলের অর্থ বহন করে এবং নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
তবে শুধু শব্দ উচ্চারণ করলেই হবে না। নিকাহ বৈধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি, বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণের স্পষ্টতা এবং শরিয়ত নির্ধারিত সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামি আইনবিদদের মতে, নিকাহর ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো দুই পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি। তাই ‘কবুল’ শব্দটি প্রচলিত হলেও, এর সমার্থক ও গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশকারী অন্যান্য শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমেও বিয়ে শুদ্ধভাবে সম্পন্ন হতে পারে।










































