মিলি রহমান।।
খেজুর পুষ্টিকর, শক্তিবর্ধক ও সুস্বাদু একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। তাই অনেক চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার পরামর্শ দেন। শরীরচর্চা, ভ্রমণ বা দীর্ঘ সময় পরিশ্রমের পর দ্রুত শক্তি ফেরাতেও খেজুর বেশ কার্যকর।
তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের খেজুর খাওয়া নিয়ে অনেক সময় দুশ্চিন্তা থাকে। কারণ খেজুরে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি। ফলে পরিমাণে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেজুর খেতে পারেন।
পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন খাবারের সঙ্গে এবং কিভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর খাওয়ার পর রক্তে শর্করার প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে এর সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।
বাদামের সঙ্গে খেজুর খাওয়া
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরের সঙ্গে বাদাম খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কমে।
কাঠবাদাম, চিনাবাদাম বা আখরোটে থাকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খেজুরের শর্করাকে ধীরে ধীরে শরীরে মিশতে সাহায্য করে। কারণ প্রোটিন ও ফ্যাট সহজে হজম হয় না। ফলে খেজুরের চিনি দ্রুত রক্তে পৌঁছাতে পারে না। এতে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শরীরচর্চার সময় খেজুর খাওয়া
শরীরচর্চার আগে বা পরে খেজুর খাওয়া উপকারী হতে পারে।
ব্যায়ামের সময় শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। তখন খেজুরের প্রাকৃতিক শর্করা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় শরীর সেই শক্তি ব্যবহার করে ফেলে, ফলে রক্তে অতিরিক্ত সুগার জমার আশঙ্কা কম থাকে।
ফাইবার বাড়ালে কমবে ঝুঁকি
খেজুরে কিছুটা ফাইবার থাকলেও তা একা যথেষ্ট নয়। তাই পুষ্টিবিদরা খেজুরের সঙ্গে বাড়তি ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিয়া পুডিং, গ্রিক ইয়োগার্ট, শসা বা গাজরের মতো সালাদের সঙ্গে খেজুর খেলে হজম ধীরে হয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না। এই খাবারগুলোর ফাইবার অনেকটা ছাঁকনির মতো কাজ করে এবং শরীরে চিনি ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।










































