Home স্বাস্থ্য রাতের যে তিন অভ্যাস বাড়তি চাপে ফেলে কিডনিকে

রাতের যে তিন অভ্যাস বাড়তি চাপে ফেলে কিডনিকে

3

মিলি রহমান।।

কিডনি শরীরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা ঘুমের সময়ও নিজের কাজ বন্ধ করে না। এটি মূলত শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। রক্তে থাকা দূষিত পদার্থ আলাদা করে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শরীর সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।

কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে পুরো শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাস, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় করা কিছু কাজ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই না জেনে এই অভ্যাসগুলো গড়ে তোলেন, যা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।

রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান
রাতে ঘুমানোর আগে বেশি বেশি পানি পান করা মানুষের একটি সাধারণ অভ্যাস। শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ জরুরি হলেও একবারে বেশি পানি খেয়ে ঘুমাতে গেলে সমস্যা হতে পারে। এতে কিডনি বেশি প্রস্রাব তৈরি করে, ফলে মূত্রথলিতে চাপ পড়ে। এর কারণে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাবের জন্য উঠতে হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নকচুরিয়া বলা হয়। এটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

প্রস্রাব চেপে রাখা

আরেকটি খারাপ অভ্যাস হলো প্রস্রাব চেপে রাখা। অনেকেই বিশেষ করে রাতে বা শীতের সময় আলস্যের কারণে প্রস্রাবের প্রয়োজন হলেও তা এড়িয়ে যান। এই অভ্যাস নিয়মিত হলে মূত্রথলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এটি ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন (ইউটিআই) হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অতিরিক্ত প্রোটিন বা ভারী খাবার খাওয়া

রাতে অতিরিক্ত প্রোটিন বা ভারী খাবার খাওয়াও কিডনির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রোটিন হজমের সময় ইউরিয়া সহ কিছু বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, যা কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তবে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে এসব বর্জ্য পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় এই অবস্থায় থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দিচ্ছেন, কিডনিকে সুস্থ রাখতে রাতের এসব অভ্যাসে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সহজ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে কিডনির বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।