স্পোর্টস ডেস্ক।।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যতটা না উত্তেজনা, তার চেয়ে বেশি আলোচনা চলছে মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক নিয়ে। এর আগে কোনো বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ফুটবলের মূল সৌন্দর্য এভাবে ঢাকা পড়ে গেছে কি না, তা মনে করা কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ শুরু হতে মাত্র এক মাস বাকি। অথচ এখন শিরোনাম দখল করে আছে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার রাজনৈতিক টানাপড়েন, ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক ভক্তের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা।
এটা ঠিক যে, মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়রাই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো সুযোগ না পেলেও তারকার অভাব হবে না।
তবে ফুটবলের আসল প্রাণ যারা, সেই সাধারণ ভক্তদের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ এবার ক্ষীণ। টিকিটের মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে বিশ্বজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা সামলাতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ টিকিটের এই মূল্য কাঠামোকে ‘জবরদস্তি’ এবং ‘বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ফিফা এই টুর্নামেন্ট থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে টিকিট। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ ডলার; সেখানে ২০২৬ সালের ফাইনালের সর্বোচ্চ দাম রাখা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার!
ফিফা দাবি করছে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো সেকেন্ডারি মার্কেট সাইটগুলোতে প্রচুর টিকিট অবিক্রীত পড়ে আছে। এমনকি ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের টিকিটও এখনো পাওয়া যাচ্ছে। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও টিকিটের এমন উচ্চমূল্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের টিকিটের দাম ১ হাজার ডলার, সেটি তিনি জানতেন না। নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেখানে (গ্যালারিতে) থাকতে চাই, কিন্তু সত্যি বলতে আমিও এই দামে টিকিট কিনব না।’
দুশ্চিন্তার বিষয় শুধু স্টেডিয়ামের টিকিট নিয়ে নয়। ভারত ও চীনের মতো জনবহুল দেশের কোটি কোটি মানুষ হয়তো টিভিতেও সরাসরি খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সময়সূচির জটিলতা (গভীর রাত বা ভোরবেলা) এবং প্রচারস্বত্বের উচ্চমূল্যের কারণে এই দুই দেশে এখন পর্যন্ত কোনো সম্প্রচারকারী সংস্থা স্বত্ব কেনেনি।
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনও এই বিশ্বকাপের মূল চেতনাকে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। শুরুতে একে তিন উত্তর আমেরিকান দেশের ‘ঐক্যবদ্ধ আয়োজন’ বলা হলেও এখন সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, যদিও ইনফান্তিনো ও ট্রাম্প উভয়ই নিশ্চিত করেছেন যে ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।
তবে ফুটবল দুনিয়ার এই প্রভাবশালী কর্তারা আশা করছেন, মাঠের লড়াই শুরু হলে সব বিতর্ক আড়ালে চলে যাবে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসি এবারও ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে পাল্লা দেবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৮-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বড় কোনো শিরোপার খোঁজে থাকা ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে, ৪৮ দলের এই বর্ধিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে কুরাসাও ও কেপ ভার্দের মতো দেশগুলোকে। বিশেষ করে জনসংখ্যার দিক থেকে কুরাসাও হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্রতম দেশ।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকায় শুরু হবে এই দেড় মাসব্যাপী ফুটবল উৎসব। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ৮২ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের।










































