স্টাফ রিপোর্টার।।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত খুলনার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও আজও পূর্ণতা পায়নি। ভারতের শান্তিনিকেতনের আদলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও রবীন্দ্রপ্রেমীদের মাঝে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এরই মধ্যে বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৮ মে) থেকে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স ও রূপসার পিঠাভোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা। উৎসব ঘিরে এলাকায় সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হলেও স্থানীয়দের প্রশ্ন, বছরের বাকি সময় কেন অবহেলায় পড়ে থাকে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থান?
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হকের উদ্যোগে দক্ষিণডিহির ঐতিহাসিক এই বাড়িটি দখলমুক্ত করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় বাড়িটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে ২০০০ সালের ৮ আগস্ট বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ফুলতলায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরিকল্পনায় ছিল গবেষণা কেন্দ্র, সংগ্রহশালা, পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, রেস্ট হাউস ও পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে ৪৯ লাখ টাকার প্রস্তাব পাঠানো হলেও বরাদ্দ আসে মাত্র ২২ লাখ টাকা। সেই অর্থে ভবনের আংশিক সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ কিছু প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়। একসময় কুষ্টিয়ার শিলাইদহে প্রস্তাবিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা দক্ষিণডিহিতে স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছিল, যা আর এগোয়নি।
বর্তমানে কমপ্লেক্স এলাকায় কবি ও তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আবক্ষ ভাস্কর্য, ‘মৃণালিনী মঞ্চ’, একটি ছোট সংগ্রহশালা, সীমিত লাইব্রেরি, পার্ক, শিশুদের খেলার স্থান ও শৌচাগার রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনও নির্মিত হয়নি রবীন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক অডিটোরিয়াম বা রেস্ট হাউস। এমনকি পর্যটকদের জন্য পিকনিক স্পট, খাবার ব্যবস্থা ও যোগাযোগ সড়ক উন্নয়নের কাজও থমকে আছে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৮ মে) থেকে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিকেল থেকে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সময়ে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালাতেও তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, দক্ষিণডিহিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাদের দাবি, শুধু জন্মজয়ন্তীকে ঘিরে নয়, বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, গবেষণা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণডিহি আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও স্থান করে নিতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন।









































