Home আন্তর্জাতিক হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা, ঝুঁকির মুখে যুদ্ধবিরতি

হরমুজে পাল্টাপাল্টি হামলা, ঝুঁকির মুখে যুদ্ধবিরতি

2

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় হয়েছে।

ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিতে দুটি জাহাজের পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা কেবল ইরানি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের তিনটি ডেস্ট্রয়ারের ওপর তেহরান কোনো উসকানি ছাড়াই হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার গোলাগুলির পর বর্তমানে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় শহর এবং দ্বীপগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তারা ইরানের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক তখন এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এই সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাল্টাপাল্টি হামলার পরও যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হামলাকে ‘লাভ ট্যাপ’ বা সামান্য সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প বলেন, তারা (ইরান) সামান্য ঝামেলা করার চেষ্টা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র তাদের উড়িয়ে দিয়েছে। এটা খুবই তুচ্ছ বিষয়।

আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি হয়তো হবে না, আবার যেকোনো দিন হয়েও যেতে পারে। আমার চেয়ে তারা (ইরান) এই চুক্তির জন্য বেশি মরিয়া।’

এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলার খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০১ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

এই হামলার ঠিক আগে খবর এসেছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তানের মাধ্যমে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক আদান-প্রদান করছে। তারা একটি প্রাথমিক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে গত কয়েকদিনে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, আলোচনা দীর্ঘায়িত করে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া উচিত। তাদের ধারণা, নির্বাচনের সময় ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রচণ্ড চাপে থাকবে এবং তখন ইরান আরো সুবিধাজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে।