স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার আলোচিত যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন ওরফে ‘কালা শওকত’ গ্রেপ্তারের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই সব মামলায় জামিন পাওয়ায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতার এত দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আইনজীবীসহ সচেতন মহল।
গত ৫ মার্চ রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মাত্র ১০ দিনের মাথায় গত সোমবার তিনি তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন পান। তবে রিলিজ অর্ডার দেরিতে পৌঁছানো এবং ছুটির কারণে এখনো কারাগার থেকে মুক্তি পাননি।
জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের বডিগার্ড হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থান ঘটে শওকতের। পরবর্তীতে তিনি খুলনা নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ ও শেখ সোহেলের নাম ভাঙিয়ে খুলনায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শওকত সশস্ত্র দলবল নিয়ে ছাদখোলা জিপে ঘুরে বেড়াতেন এবং প্রভাব বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। অপহরণ, মারধর, দরপত্র বাক্স ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘কালা শওকত’ নামে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম জানান, শওকতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় দেড় বছর পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, জামিনের নথিতে আইনজীবী হিসেবে সফিউল আলমের নাম থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। আইনজীবী সমিতির তালিকায় একই নামে অন্য কোনো আইনজীবী না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এ কে এম শহিদুল আলম বলেন, “এত দ্রুত জামিন সাধারণত উচ্চ আদালত ছাড়া সম্ভব নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
প্রবীণ আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি কুদরত-ই-খুদা বলেন, “জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার হলেও এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “শওকতের গ্রেপ্তার ছিল পুলিশের বড় সাফল্য। তবে জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত।”
সব মিলিয়ে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এক আলোচিত ব্যক্তির স্বল্প সময়ে জামিন পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-আইনের প্রয়োগ কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য ভিন্ন পথ খোলা থাকে?








































