Home Lead পাঁচ মাসে মনিরুল হাসান বাপ্পীর তিন চমক: ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব-জেলা পরিষদের প্রশাসক

পাঁচ মাসে মনিরুল হাসান বাপ্পীর তিন চমক: ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব-জেলা পরিষদের প্রশাসক

139


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও স্বীকৃতি পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব, খুলনা-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন এবং সর্বশেষ খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ-এই তিনটি ঘটনাকে অনেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের বড় তিনটি চমক হিসেবে দেখছেন।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সংগঠনের কঠিন সময়েও তিনি কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতার স্বীকৃতিই যেন একে একে মিলতে শুরু করেছে তার রাজনৈতিক জীবনে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবু অসুস্থ থাকায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ আবু হোসেন বাবু গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চলতি বছরের মে মাসে তাকে থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি দেশে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ফলে সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে বাপ্পীকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও বাপ্পীর নাম ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই নেতাকে প্রার্থী ঘোষণা করা অনেকের কাছে ছিল বড় চমক। কারণ ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তবু দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে বাপ্পীর নাম ঘোষণাকে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ১৫মার্চ ২০২৬ তারিখে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই খবরে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে বাপ্পীর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা রূপসা উপজেলায়ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে বাপ্পীকে অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, বাপ্পী একজন কর্মীবান্ধব নেতা। দলের কঠিন সময়েও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে বলে তারা আশা করছেন।
খুলনার রাজনীতিতে অনেকেই মনে করছেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা বাপ্পীর এই ধারাবাহিক উত্থান মূলত তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মনিরুল হাসান বাপ্পী। রূপসার বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরে তিনি খুলনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সহসভাপতি হিসেবে দাযি়ত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি রূপসা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে খুলনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও পরে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মনিরুল হাসান বাপ্পী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করবো। জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে কাজ করবেন। একসময়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান খুলনা জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করবো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি একইভাবে সংগঠন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে খুলনার রাজনীতিতে মনিরুল হাসান বাপ্পী আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন-এমন প্রত্যাশাই এখন তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।