-মিজানুর রহমান মিলটন
রূপসী রূপসা আর ভৈরবের শান্ত স্রোতধারার পাশে গড়ে ওঠা শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনা। সেই নগরীর খালিশপুরে জন্ম নিয়েছিলেন এক স্বপ্নবাজ তরুণ-রকিবুল ইসলাম বকুল। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের সন্তান হিসেবে দেশপ্রেম, সাহস আর দায়বদ্ধতার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন পরিবার থেকেই। শৈশব কেটেছে খালিশপুরের অলিগলিতে, সাধারণ মানুষের হাসি-কান্নার ভেতরেই বেড়ে উঠেছেন তিনি।
খালিশপুর রোটারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা, খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক, এরপর খুলনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক-প্রতিটি ধাপেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী। ১৯৮৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। খুলনার সীমানা পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ ছিল তার জীবনের এক বড় মোড়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। সময়ের পরিক্রমায় তিনি হল কমিটির সহ-সভাপতি (১৯৮৬-৮৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক (১৯৮৮-৮৯) এবং ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৯০-৯১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্বের প্রতিটি ধাপে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন নিষ্ঠা ও আদর্শের ভিত্তিতে। পরপর দুইবার (১৯৯৭-৯৮ ও ১৯৯৮-৯৯) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তার গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান-যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্বীকৃতি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান ৬৬ হাজার ১০ ভোট পান। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন-খুলনার মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে।
রকিবুল ইসলাম বকুলের রাজনৈতিক দর্শনও আলাদা এক আবেদন বহন করে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সৌন্দর্য আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে শিখিয়েছেন। আমি তার আদর্শ ও চিন্তার খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি।” এই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। তার ভাষায়, ভিন্ন মতাদর্শের সঠিক প্রস্তাব ও গঠনমূলক সমালোচনাকেও তিনি গ্রহণ করবেন-কারণ উন্নয়ন দলীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সবার অধিকার।
খুলনার উন্নয়ন নিয়ে তার স্বপ্ন বিস্তৃত। দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে খুলনাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরীতে রূপান্তর, তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা-এসবই তার অঙ্গীকারের অংশ।
রকিবুল ইসলাম বকুলের গল্প আসলে এক নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা-খালিশপুরের মাটি থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের মতোই তিনি বিশ্বাস করেন, সংগ্রাম ছাড়া অর্জন সম্ভব নয়। রাজনীতিকে তিনি কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে দেখেন না; দেখেন মানুষের সেবা ও স্বপ্নপূরণের পথ হিসেবে।
আজ খুলনার মানুষ তাকে শুধু একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, নিজেদের একজন হিসেবে দেখতে চায়-যিনি বলবেন, শুনবেন, এবং কাজ করবেন সবার জন্য। রূপসা ও ভৈরবের জোয়ার-ভাটার মতোই তার পথচলা হোক দৃঢ় ও নিরন্তর-এই প্রত্যাশাই এখন খুলনাবাসীর। (লেখক: সংবাদকর্মী)










































