স্টাফ রিপোর্টার।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বিএনপির জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সনাতন ধর্মালম্বী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন। পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে মাঠ গোছানো এবং তরুণ নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে ডুমুরিয়া ও ফুলতলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষভাবে যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মন্দিরভিত্তিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরার মাধ্যমে আস্থা অর্জনের চেষ্টা চলে। দলীয় একাধিক নেতার দাবি, এ কৌশল ফলপ্রসূ হয়েছে। তারা বলেন, “সনাতন সম্প্রদায়ের ভোট এ আসনে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করেছে।” যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ হয়নি, তবুও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে বিএনপি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে।
এ বিজয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েত। তরুণ এই সংগঠক দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়া-ফুলতলা অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন। বিশেষ করে যুবসমাজকে সক্রিয় করা, ভোটার তালিকা যাচাই, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন এবং নির্বাচনী দিনে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা চালু রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য-এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবায়েতের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত টিম মাঠে কাজ করেছে। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে যোগাযোগ, এবং নির্বাচনদিনে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক সমন্বয় সেল গঠন করা হয়।
একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন, “শুধু প্রচারণা নয়, ভোটের দিন মাঠে থাকার কৌশলটাই ছিল বড় বিষয়। রুবায়েত এর নির্দেশনায় প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব বণ্টন পরিষ্কার ছিল।” অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে বিএনপির জয় কেবল একটি ফ্যাক্টরের ফল নয়।
জাতীয় রাজনীতির প্রভাব, প্রার্থী ইমেজ, স্থানীয় ইস্যু এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান-সবকিছু মিলিয়েই ফল নির্ধারিত হয়েছে। তবে সনাতন ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।








































