Home আঞ্চলিক আ.লীগ নেতা আশরাফ ও আকা মোল্যার তাণ্ডব: আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের

আ.লীগ নেতা আশরাফ ও আকা মোল্যার তাণ্ডব: আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের

14


দিঘলিয়া প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা মোল্যা আশরাফ হোসেন ও মোল্যা আকরাম হোসেন ওরফে আকা মোল্যার অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ডিগবাজিতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা দলিল উদ্দিন মোল্ল্যার পুত্র আশরাফ এবং মৃত শাখাওয়াত মোল্যার পুত্র ও সেনহাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আকা মোল্যা দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এই দুই নেতা সাময়িক চাপে থাকলেও তাদের অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে সেনহাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আকা মোল্যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোল পাল্টে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেন। নির্বাচনে সেনহাটি ৪নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঐক্য জোটের প্রার্থী (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) ৫১১ ভোটে জয়লাভ করার সাথে সাথেই আশরাফ ও আকা মোল্যা তাদের দলবল নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাসান সরদারের বাড়ির সামনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা বিকট শব্দে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়, যা পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে পরবর্তীতে খুলনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আশরাফ ও আকা মোল্যা সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা আরও জানান, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের রাতে আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আশরাফ ও আকা মোল্যার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শর্টগান, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন এবং আবু হানিফের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যাতে মোটরসাইকেলসহ ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
দিঘলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশরাফ মোল্যা এবং আকা মোল্যা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। তাদের নামে হত্যা, অস্ত্রবাজি, ডাকাতি, চুরি, ইউএনও অফিস ও সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরসহ একাধিক রাজনৈতিক ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চিহ্নিত অপরাধীদের সর্বদা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রাখা এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।