শরিফুল ইসলাম টিপু।।
দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এই ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ে পা রাখছে বিএনপি।
দেশজুড়ে যখন বিজয়ের আনন্দ, তখন খুলনায় উৎসবের আমেজের পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে জোরালো এক দাবি-খুলনার কণ্ঠ যেন জাতীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে খুলনা-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-৪ থেকে নির্বাচিত আজিজুল বারী হেলালকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
খুলনার প্রত্যাশা: এবার আমাদের পালা:
খুলনার রাজপথ, বাজার, পাড়া-মহল্লা-সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে দুটি নাম। স্থানীয়রা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, শিল্প পুনরুজ্জীবন, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই নেতৃত্ব দিতে পারেন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিকরা। একাধিক সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, খুলনা দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামো ও শিল্পখাতে পিছিয়ে রয়েছে। পাটশিল্পের সংকট, রূপসা-ভৈরব অববাহিকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনীতির সুরক্ষা-এসব ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খুলনার প্রতিনিধিত্ব জরুরি।
সতর্ক পদক্ষেপে তারেক রহমান:
বিজয়ের পরই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে দক্ষ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে খুলনার দুই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
মাঠের কণ্ঠস্বর:
খুলনা মহানগরীর এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, খুলনা সবসময় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সময় এসেছে উন্নয়নের সুফল সরাসরি পাওয়ার। বকুল ও হেলাল মন্ত্রী হলে দক্ষিণাঞ্চলের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি। তরুণ প্রজন্মও আশাবাদী। তাদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম বার্তা হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নে খুলনার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
সামনে বড় দায়িত্ব:
২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপই হবে সরকারের আসল পরীক্ষা। খুলনার মানুষ এখন তাকিয়ে আছে-নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের প্রিয় নেতারা স্থান পান কি না, এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে কত দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। খুলনার রাজপথে তাই আজ একটাই স্লোগান- উন্নয়নের মন্ত্রিসভায় খুলনার প্রতিনিধিত্ব চাই।










































