Home Lead খুলনায় নির্বাচনী উত্তাপ: প্রতিশ্রুতির বন্যা, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

খুলনায় নির্বাচনী উত্তাপ: প্রতিশ্রুতির বন্যা, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

41
ছবি: এআই


শামিম শিকদার।।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শিল্পনগরী খুলনায় এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মোট ৩৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দিনরাত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।


তবে এবারের নির্বাচনে একটি ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী মাঠে না থাকায় ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন প্রার্থীরা। এ কারণে প্রচারের শুরু থেকেই ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রার্থীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ অর্থের প্রভাব ও সন্ত্রাসী তৎপরতা ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।


খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণসংযোগকালে বলেন, “বর্তমান পরিবেশ আপাতদৃষ্টিতে শান্ত হলেও আমরা উদ্বিগ্ন। জনগণের রায় ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা হলে খুলনার মানুষ তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।”


অন্যদিকে খুলনা-৩ আসনে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল শিল্পাঞ্চল খুলনার হারানো ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক প্রাণ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাসও দেন তিনি।


খুলনা-৪ আসনে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনী প্রচারে ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে জোর দিচ্ছেন। তিনি দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন।
খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষক ও নারীদের জন্য বিশেষ কল্যাণ কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।


উপকূলীয় খুলনা-১ আসনে প্রার্থী আমির এজাজ খান দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
খুলনা-৬ আসনে বিএনপির এসএম মনিরুল ইসলাম বাপ্পি ও জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ কয়রা-পাইকগাছা অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


আসনভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যা: খুলনার ছয়টি আসনে প্রার্থীর সংখ্যায় ভিন্নতা দেখা গেছে। খুলনা-১ আসনে সর্বাধিক ১২ জন, খুলনা-২ আসনে ৩ জন, খুলনা-৩ আসনে ১০ জন, খুলনা-৪ আসনে ৪ জন, খুলনা-৫ আসনে ৪ জন এবং খুলনা-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।