স্টাফ রিপোর্টার।।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশে কোনো পরিবারের নয়, বরং জনগণের রাজনীতি চলবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা বিভাগ সফরের দ্বিতীয় দিনে যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের পৃথক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সিটি করপোরেশনসহ যশোরবাসীর সব ন্যায্য দাবি পূরণ করা হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না।’
এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একটি দল বলছে তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেবে, অথচ তারাই এখন নারী কর্মীদের গায়ে হাত তুলছে। মা-বোনদের বেইজ্জতি করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’
তিনি বিএনপিকে নিজেদের আচরণ শোধরানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা আপনাদের আদর্শ প্রচার করুন, আমরা আমাদেরটা করি। কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদের দিকে যেতে চায়, তবে তা রুখে দেয়া হবে।’
দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রতিবেশীদের আমরা বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কাউকে প্রভু হিসেবে আসতে দেব না। ভারতের সঙ্গে বন্ধু হিসেবে উত্তম সম্পর্কই আশা করে জামায়াত।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সিলটি পড়বে হ্যাঁ ভোটে। হ্যাঁ অর্থ আজাদি, না অর্থ গোলামি।’ এ সময় তিনি ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের হাত শক্ত করে ধরা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে চুরমার করার অঙ্গীকার করেন।
বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠের নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র এলে কী করবেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না। তবে কেউ ঝগড়া করতে এলেও ছেড়ে কথা বলব না।’
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেয়া মানে তাদের অপমান করা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতার বদলে তাদের হাতে মর্যাদা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ তুলে দেবে।
১২ তারিখের নির্বাচনে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো ফলাফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সন্ধ্যায় বাগেরহাটের খান জাহান আলী মাজার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে একটি দল পেশিশক্তির ব্যবহার করছে।
তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসাফপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান।
বিভাগীয় এই সফরকালে জামায়াতের আমির ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসায় না গিয়ে দেশের সম্পদ রক্ষায় নেতাকর্মীদের পাহারাদারের ভূমিকা পালনের কথা স্মরণ করেন। জনসভাগুলোতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।









































