স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার দুই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়াুফুলতলা) ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) এ নির্বাচনি মাঠে দৃশ্যমান প্রচারণার আড়ালে চলছে আরেকটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই—সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক দখলের প্রতিযোগিতা। প্রকাশ্যে প্রতীক ও ইশতেহারের রাজনীতি থাকলেও ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ কৌশলে মূল ফোকাস হিন্দু ভোটারদের মন জয়ের দিকে। দুই আসনেই মোট ভোটারের একটি বড় অংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাব নির্ভর করছে এই ভোটব্যাংকের গতিপথের ওপর। মাঠের রাজনীতিতে যতটা সরব ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা, নেপথ্যে ততটাই সক্রিয় সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্ক। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ দুটি আসন কার্যত এখন ‘সুইং আসনে’ রূপ নিয়েছে।
খুলনা-৫: খুলনা-৫ আসনে ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় প্রায় ৩০ শতাংশ হিন্দু ভোটার রয়েছে, যা প্রায় ৯০ হাজারের মতো। অতীতের নির্বাচন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এখানে দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ভূমিকা ও আচরণই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ আলোচনায় উঠে আসছে—নিরাপত্তা, ভূমি দখলমুক্ত পরিবেশ, মন্দির ও শ্মশান রক্ষার নিশ্চয়তা এবং মামলা-হয়রানি বন্ধ—এই চারটি বিষয়ই হিন্দু ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য। প্রতিশ্রুতির রাজনীতির চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছে তারা। ২০০১ সালের নির্বাচনে নৌকা বর্জন করে সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার নজির এখনো আলোচনায়। সে সময় মিয়া গোলাম পরওয়ারের উন্নয়ন ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ আজও অনেক ভোটারের স্মৃতিতে আছে—যা এবারের নির্বাচনে নীরবে প্রভাব ফেলছে।
খুলনা-৬: খুলনা-৬ আসনে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট। মোট ভোটারের প্রায় ২৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৯৫ হাজার হিন্দু ভোটার এখানে সরাসরি ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। অতীতের সব নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—যেদিকে হিন্দু ভোটাররা ঝুঁকেছে, বিজয় সেদিকেই গেছে। এখানকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ উদ্বেগ জলবায়ু সংকট, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, চিংড়ি ঘের দখল এবং ভূমি বিরোধকে ঘিরে। ফলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব সমাধানের আশ্বাসই তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। নীরব সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ফল: প্রচারণার মঞ্চে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা থাকলেও ভোটের দিন বুথের ভেতরে সংখ্যালঘু ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্তই খুলনা-৫ ও ৬ আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই দুই আসনে নির্বাচনের দৃশ্যমান লড়াইয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অদৃশ্য সমীকরণ। বিহাইন্ড দ্য সিন সংখ্যালঘু ভোটের গতি-প্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে যাচ্ছে সংসদে।










































