স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় নতুন বছরের শুরুতেই ফের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় দিনে জেলার রূপসা উপজেলার রাজাপুর বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফারুক হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের দিকে রাজাপুর বাজার এলাকায় অবস্থানকালে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা হঠাৎ ফারুক হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম আল-বিরুনী জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রূপসা থানার রাজাপুর বাজার এলাকায় এক ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত ব্যক্তির নাম ফারুক হোসেন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফারুক হোসেন র্যাবের একজন সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নতুন বছরের শুরুতেই এ ধরনের সহিংস ঘটনায় ফের আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে খুলনাবাসী। কারণ, ২০২৫ সালজুড়েই খুলনা মহানগর ও জেলা ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তার জনপদ। প্রকাশ্যে খুন, আদালত চত্বরে জোড়া হত্যাকাণ্ড, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যা, নদী থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বছরজুড়েই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় ছিল খুলনা অঞ্চল।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট ৮৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৬টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪৭টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নদী থেকে অর্ধশতাধিক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, নতুন বছর এলেও খুলনার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের বছরের মতোই গুলি, খুন ও সন্ত্রাসের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মানুষ চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং রাজাপুর বাজারে গুলির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনই স্বস্তি ফিরছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নতুন বছরের শুরুতেই এ ধরনের সহিংস ঘটনা খুলনার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে খুলনায় নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা হবে এবং সহিংসতার এই ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে।










































