স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার উপকূলীয় এলাকার নিরাপদ সুপেয় পানির আঁধার পুকুরের সংখ্যা দিন দিন কমছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা, পোল্ডার প্রথা, অব্যবস্থাপনা ও অচেতনতায় এ সংকট সৃষ্টি করেছে। শতকরা হিসেবে পুকুর কমে যাওয়ার হার ৮০ শতাংশ।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর আভা সেন্টারে খুলনা বিভাগের পাইকগাছা, কয়রা ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মিষ্টি পানির পুকুরের মানচিত্র ও বিশ্লেষণ বিষয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি ও পরিবেশ ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক মো. সানাউল ইসলাম হেলভেটাস ও ডরপ্রে সহায়তায় এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে পুকুর, পানির মান, সম্পৃক্ত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করা করা হয়।
অধ্যাপক সানাউল ইসলাম বলেন, দেশে এক সময়ে এক হাজার ৮টির বেশি নদ-নদী ছিল। যার মধ্যে ১৩৮টি মৃতপ্রায়। ৫৩টির ন্যবতা হারিয়েছে। উজানের মিষ্টি পানির আঁধার নষ্ট হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষ নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করত। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পোল্ডার ব্যবস্থাপনা পানি সংকট প্রকট হচ্ছে। কিন্তু পানির জন্য পুকুর ব্যবস্থানার বিকল্প নেই।
গবেষণা বলছে, খুলনার উপকূলীয় কয়রা ও পাইকগাছায় পুকুরের সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমছে, আর বাড়ছে ১৪ শতাংশ। অপরদিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পুকুর সংরক্ষণ বাড়ছে, যার হার ৭২ শতাংশ, আর কমছে ২৮ শতাংশ। এ উপজেলায় পানির একমাত্র আঁধার পুকুর। পুকুর কমে যাওয়ার কারণের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাঁধ সংস্কার, অগভীর পুকুর ৯৩.৩৩%। ৮৬.৬৭% পুকুরে ময়লা-আবর্জনা মিশে যায়, ৬৬.৬৭% হাঁসের অবাধ বিচরণ রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা তিনটিতে ৮৬.৬৭ শতাংশ পুকুর গোসল, কাপড় ধোয়া, গরু-ছাগল গোসল একই সঙ্গে করানো হয়। যা পানির স্বাভাবিক মানকে নষ্ট করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি উপজেলায় পুকুর কমে যাওয়ার গড় হার ৮০ শতাংশ।
হেলভেটাস বাংলাদেশের ওয়াস প্রকল্পের সমন্বয়কারী মৌ তিথি আইচের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক সঞ্জন কুমার বড়ুয়া। প্যানেল আলোচনা করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান, ইউনিসেফ খুলনার বিভাগীয় প্রধান মো. কাউসার হোসেন, ফিল্ড অফিস প্রধান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জগদীশ চন্দ্র জোয়ারদার, রূপান্তর প্রকল্প পরিচালক ফারুক আহমেদ। প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করেন হেল ভেটাসের খাদ্য এবং জলবায়ু বিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।











































