Home আঞ্চলিক ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধরেছে ফাটল: পাইকগাছায় সরকারি পাঠাগার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধরেছে ফাটল: পাইকগাছায় সরকারি পাঠাগার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

9


পাইকগাছা প্রতিনিধি
অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহের কারণে পাইকগাছা উপজেলার একমাত্র সরকারি পাঠাগারের অবস্থা এখন জরাজীর্ন। বেহাল অবস্থার কারণে এখন পাঠকরাও কম আসেন। প্রতিদিন পত্রিকাও রাখা হয় না। অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহের কারণেই পাঠাগারের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাঠাগারে হাতে গোনা কয়েকটি টেবিল-চেয়ার ও আলমারি ছাড়া বাকি সব আসবাবপত্রের অবস্থা ভঙ্গুর। নতুন কোনো বই নেই। ধুলোবালি আর অযত্ন অবহেলায় রয়েছে পাঠাগার। দেওয়ালের রঙ চটা অবস্থা আর বিভিন্ন স্থানে ধরেছে ফাটল। পাঠাগারের ভবন ফেটে পানি পড়ে এবং জানালা-দরজাও প্রায় সব ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় উপজেলার এই পাঠাগারে বই পড়তে ভিড় জমাতেন ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ পাঠকরা। এখন মাত্র হাতে গোনা ৫/৬ জন চাকরি প্রত্যাশী এই লাইব্রেরিতে আসেন। পূর্বে স্থানীয় এবং জাতীয় অনেক পত্রিকা রাখা হতো। কিন্তু এখন পত্রিকাও আসে না। শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও অনেকটা কমে গেছে।
শিক্ষার্থী জোবায়ের ইসলাম বলেন, বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহে বেশি আগ্রহী। ফলে প্রযুক্তিহীন লাইব্রেরির কদর কমে গেছে। ডিজিটাল লাইব্রেরি থাকলে পাঠক সহজেই ই-বুক প্রবন্ধ ও গবেষণা ডাটাবেজ ব্যবহার করতে পারতো। এ ছাড়াও তথ্য সংগ্রহে অনেক সময় নষ্ট করতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তি থাকলে সময় কম লাগে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার একটি আধুনিক লাইব্রেরির অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা গবেষণায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে বই সংরক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। বই পড়লে মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, একটি উপজেলায় লাইব্রেরি থাকলে অনেক গরিব শিক্ষার্থী লাইব্রেরি থেকে পড়াশোনা করতে পারেন। অনেকের বই ক্রয়ের সামর্থ্য নেই, যার কারণে অনেক সময় তাঁদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে উপজেলার লাইব্রেরিতে নতুন নতুন বইয়ের সংগ্রহ থাকলে সকলে সুবিধা পাবেন।
পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, উপজেলার এই পাঠাগারটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সর্বপ্রথম পাঠাগার সংস্কার করতে হবে। পাঠাগারে বর্তমানে পাঠকের সংখ্যা নেই বললে চলে। একটা সময় দেখেছি এই পাঠাগারে পাঠকরা ভিড় জমাতেন। তিনি আরও বলেন, সব ধরনের পত্রিকার ব্যবস্থা করতে হবে এবং নতুন নতুন বই যোগ করতে হবে। তাহলে আস্তে আস্তে আবারও পাঠকরা এই লাইব্রেরিতে আসবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা বলেন, আমি অনেক আগে দেখেছি এই লাইব্রেরিতে অনেক পাঠক আসতো কিন্তু এখন মাত্র কয়েকজন পাঠক আসেন। এখন কেন পাঠকরা এই লাইব্রেরিতে কম আসেন, তা আমাদের আগে খুঁজে বের করতে হবে। এ ছাড়াও পাঠকের চাহিদা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, এই লাইব্রেরিতে যদি ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে নতুন প্রজন্মের সুবিধা হবে। তিনি আরও বলেন ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন নতুন বইয়ের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পাইকগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, আমরা পাঠাগারের কার্যক্রম পুনর্জীবিত করার পরিকল্পনা নিচ্ছি। পাঠাগার কেবল বই রাখার স্থান নয়, এটি মানুষের চিন্তা চেতনা ও মানবিকতার বিকাশের জায়গা। উপজেলার পাঠাগারের অবস্থা উন্নয়নের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন বই, আসবাবপত্র, ডিজিটাল সুবিধার সংযোজন এর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে তরুণরা বইয়ের গন্ধে ফিরে আসে। পাশাপাশি পাঠাগারটি সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে।