বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি।।
খুলনা শহরের তীর ঘেঁষে বটিয়াঘাটা উপজেলা’র জলমা ইউনিয়ন। শহরতলী হওয়ায় ইউনিয়টিতে রাতা-রাতি জমির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ভূমি খেকো ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলবাজদের দখলদায়িত্বে জলমা ইউনিয়ন’র অধিকাংশ সরকারি খাস ও ভরাটী খাল এবং জলাশয়। এ সকল ভরাটী খাল ও জলাশয় দখলে নিয়ে গড়ে তুলছে কাঁচা-পাকা ইমারত ও দোকান ঘর এছাড়া সরকারি জায়গায় দিয়ে প্লটের রাস্তা নির্মাণ পূর্বক লক্ষ লক্ষ টাকা লুটে নিচ্ছে এ চক্রটি। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসকল ভূমি খেকো ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলবাজদের রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলমা ইউনিয়ন এর মৌজা ম্যাপে যে সকল সরকারী খাস খাল ও খাস ভরাটি খাল রয়েছে সময়ের পরিবর্তনে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। দখলকৃত সরকারি খাস খাল ও খাস ভরাটী খাল এবং জলাশয় ভরাট করায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, পরিবেশে হারাচ্ছে তার ভারসাম্য ।
জলমা ইউনিয়নে রয়েছে নাম জানা না জানা প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট বড় খাল। যা দিয়ে এই ইউনিয়নের পানি সরবরাহ ও কৃষি কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু আজ এ সকল খালের অধিকাংশ বিভিন্ন দখলদারদের দখলে রয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় খাল ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে জমির প্লটের রাস্তা, আবার অনেক জায়গায় খাল ভরাট করে জমিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে , কোথায়ও আবার আড়াআড়ি বাঁধ তৈরি করা হয়েছে রাস্তা, অনেক জায়গায় খালের জায়গা ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকান ঘর। যে কারনে প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে পানি সরবরাহে বেঘাত সৃষ্টি হচ্ছে যার ফলে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা এবং নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসল। এখনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরো ভয়াবহ দিন পার করতে হবে ইউনিয়ন বাসীর। যা নিয়ে ইউনিয়ন বাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোপের সঞ্চয় হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, জলমা ইউনিয়নে ইনেদো খাল, কচুবুনিয়া খাল, কাটাখালি খাল, চরালির খাল, গুপ্তমারী খাল, বিষ নদী, ষষ্টের জলাকর, বাদালের খাল, ঠাকুরন বাড়ী খাল, বড়বাড়ী/লাঠেলের খাল, বদনাখালী খাল, গজালমারী খাল, ভেকটমারী খাল, বারুয়ার কাটা খাল, সমুদ্রের খাল, দক্ষিণ রাঙ্গেমারী খাল, বিদুরের খাল, নিলোবাড়ী খাল, ঝড়ভাঙ্গা খাল, সাচিবুনিয়া খাল, চরার খাল, কাদেরের কাটা খাল, রামদেরের খাল, বড়ো রামদিয়া খাল , হোগলাডাঙ্গা খাল, বাঁশবাড়িয়া খাল, হাতিয়ামান্দার জলাকর, সিন্দুরতলা খাল, ঢাকইঁদার খাল, বড় কৈয়ের জলাকর, সুড়ীখালী খাল, লাউড়ী ময়ুর খাল, নারকেল বাড়িয়া খাল, তিতুখালী খাল, কাজিবাছা জলকর (খোলা), ঠিকরাবাদ জলকর, কৃষ্ণনগরের খাল ইত্যাদি। এই সরকারী খালগুলোর মধ্যে অধিকাংশ খাল এখন ব্যক্তি দখলে। অনেক যায়গায় খাল ভরাট করে প্লট ও প্লটের রাস্তা এবং দোকান নির্মাণ করা হয়েছে ।
সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গুটি কয়েক ভূমি খেকো ভূমিদস্য ও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমি ঠিক রাখার স্বার্থে ভিপি জমি, সরকারি খাস জমি, সরকারি খাল বা খাস ভরাটী খাল দখল এবং তার উপর দিয়ে প্লটের রাস্তা নির্মাণ করে তা দেখিয়ে প্লট বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যে কারণে সরকার হারাচ্ছে তার খাস ও খাস ভরাটি জমি এবং কৃষক ও ইউনিয়নবাসী ভুগছে জলাবদ্ধতায়।
এ ব্যাপারে জলমা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক রুহুল মোমেন লিটন বলেন, কিছু ভূমিদস্যু ও স্বার্থন্বেষী মানুষ ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে সরকারি জমি,খাল ইত্যাদি দখল করে তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। যার কারনে সরকার হারাচ্ছে তার জমি এবং ইউনিয়ন বাসী ভুগছে জলাবদ্ধতায়। প্রশাসনের উচিত ঐ সকল দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।
এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত ঈল ইভান বলেন, সরকারী খাস খাল বা খাস ভরাটী খাল ও ভিপি জমির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালগুলো উদ্ধার করা হবে। কারো কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জানালে দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড়তে দেওয়া হবে না আইন অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে।









































