শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি।।
প্রায় এক বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে আছে। দুই পাশের রেলিংও নেই। গর্তের কারণে এলাকাবাসী ধরে ধরে প্রতিটা যানবাহন পারাপার করে। এতে দুর্ভোগের শেষ নেই। ক্ষোভের সুরে শনিবার কথাগুলো বললেন ইজিবাইক চালক সোহেল খান। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামে। জিকে (গঙ্গা-কপোতাক্ষ) সেচ প্রকল্পের আওতায় বাগুটিয়া জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ এলাকার এই সেতুর কারণে প্রতিদিন ১৫-২০ গ্রামের হাজারো মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
সোহেল খান বলেন, জমিতে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে চাষিরা ব্রিজটি পার হয়ে হাটবাজারে যেতে পারেন না। ঘোরাপথে যেতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। তাঁর তথ্যের সত্যতা মেলে বাগুটিয়া গ্রামের ভ্যানচালক গোলাম আলী শেখের কথায়ও। তিনিও জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন লাঙ্গলবাঁধ, শিতালী, দলিরপুর, নাগিরহাট, বকশিপুর, লক্ষ্মীপুর, দামুকদিয়া, মনোহরপুরসহ ১৫-২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঝিনাইদহসহ অন্যান্য এলাকায় যাতায়াত করে। এ সেতুর এক প্রান্তে একটি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রয়েছে দুটি বাজার। অথচ এক বছরের বেশি সময় ধরে এক প্রান্তে ভেঙে গর্ত হয়ে আছে। এখনও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।
সেতুর উত্তর প্রান্তের ঢালাই ভেঙে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় ইজিবাইক, ভ্যান, নছিমন, করিমনসহ বিভিন্ন যানবাহর ধরে ধরে পার করতে দেখা যায়। বাগুটিয়ার বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, পাউবোর সেতুটিতে দীর্ঘদিন ধরে রেলিং নেই। এক প্রান্তে গর্তের সৃষ্টি হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বা রোগী নিতে এলে যানবাহনকে থেমে থাকতে হয়। ফলে ১৫-২০টি গ্রামের বাসিন্দার ভোগান্তির শেষ নেই।
বাগুটিয়া এমপি মোড় হতে ঝিনাইদহগামী সড়কের এই সেতুতে গর্তের কারণে দুর্ভোগের কথা জানান পাশের জরিপ বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। অথচ এটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।
ঝিনাইদহ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার বলেন, এই সেতুগুলো গত শতকের ষাটের দশকে নির্মিত। এই সেচ খালের অনেক সেতুতেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপাতত মেরামতের জন্য একটি গুচ্ছ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাগুটিয়ার সেতুটি পরিদর্শনের পর দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









































