ঢাকা অফিস।।
‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে আত্মপ্রকাশ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একাংশ নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তাদের প্রার্থীদের। তবে ডাকসু নির্বাচনে এমন ভরাডুবির পরপরই আলোচনায় এসেছে বাগছাস সংস্কার প্রসঙ্গ। নেটিজেনরা বলছেন, সংগঠনটিতে ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা ঢুকে যাওয়ায় এবং সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল থাকায় ডাকসু নির্বাচনে এমন ভরাডুবি হয়েছে তাদের।
আবার লেজুড়বৃত্তিকহীন ছাত্র সংগঠন দাবি করলেও তাদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যোগসাজশও বিড়ম্বনায় ফেলেছে তাদের। যদিও সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, বাগছাস এনসিপির ছাত্র সংগঠন নয়। বড় ভাই হিসেবে নানা সময় তারা পরামর্শ করে থাকেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিসহ সব কিছু মিলিয়ে সংগঠনটি পুনর্গঠনের চিন্তা করছেন নেতাকর্মীরা।
ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি-জিএসসহ ২৮ পদের মধ্যে বিজ্ঞান ও গবেষণা সম্পাদক ব্যতীত ২৭ পদে প্রার্থী দেয় বাগছাস। তবে কেন্দ্রীয় সংসদে তাদের কোনও প্রার্থীই জয়ী হতে পারেননি।
অন্যদিকে জাকসু নির্বাচনে ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেয় বাগছাস। সেখানে বাগছাসের দুই জন প্রার্থী জয়ী হন। সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে জয়ী হন আহসান লাবিব এবং কার্যকরী সদস্য পদে জয়ী হন মোহাম্মাদ আলী চিশতী।
এ বিষয়ে বাগছাসের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে সুবিধাবাদী কয়েকজন লোক শুধু ডাকসুকে কেন্দ্র করে ঢুকেছিল। তারা এখন চলে গেছে। এখন আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোসহ কয়েকটি ধাপে সংস্কার দরকার।’
তিনি বলেন, ‘তবে সংস্কার নয় আমরা পুনর্গঠনের চিন্তা করছি। কাঠামো, আইন-কানুন, নীতিমালাসহ সব দিক দিয়েই আমরা নতুন করে সংগঠনটিকে গঠনের চিন্তা করছি।’
নাম পরিবর্তন নিয়ে বাগছাসের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক বলেন, ‘নাম পরিবর্তন নিয়ে এখনও কোনও ধরনের আলোচনা হয়নি। তবে সংগঠনের সদস্যরা যদি মনে করেন নাম পরিবর্তন দরকার তাহলে সেটা হবে।’
নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাগছাসে কমিটিতে থেকেও যারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছে তারা সংগঠনে আসতে পারবেন। তাদের ক্ষেত্রে আমরা আগে থেকেই শিথিল ছিলাম। তবে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।’
আহ্বায়ক কমিটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে কিনা সে বিষয়ে আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘আমাদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৮ মাস হয়েছে মাত্র। সংগঠনের সবাই যদি চায় আমরা আহ্বায়ক কমিটি থেকে বের হয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দিতে পারি। তবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সাধারণ সভা হয়নি।’









































