স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অস্ত্র আইনে মামলা করা হলেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, মাদক চোরাচালান, সরকারি প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতসহ নানান অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে হরিঢালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত রফিক উদ্দিন সরদারের ছেলে রাজুকে আটক করে। একই মামলায় শহরের মোহাম্মদ হোসেন অ্যান্ড কোং নামে একটি বন্দুকের দোকানের মালিক নজরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তারকরা হয়। তাকে প্রথমে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৈমুর ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রাজুর অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত থাকলেও তিনি সেটি জমা না দিয়ে গোপনে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ৫ আগস্টের পর সরকার বৈধ সব অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় বা লাইসেন্সধারী দোকানে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু রাজু পুরনো তারিখ দেখিয়ে অস্ত্রটি দোকানে জমা দেওয়ার ভুয়া স্লিপ সংগ্রহ করেন। বিষয়টি জানার পর রাজুকে নজরদারিতে রাখা হয় এবং বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজু ও দোকান মালিক নজরুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এর বাইরে আরও কোনো অস্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। আটকের পর ভূক্তভোগী অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালে পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অন্ততঃ ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে ইউনিয়ন পরিষদের ৮জন নির্বাচিত সদস্য। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজ বাড়িতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, ইউপির দায়িত্ব পালনের থেকে ব্যবসায়ের প্রতি বেশি মনোযোগী চেয়ারম্যান রাজু। তিনি মানুষের জমি লীজ নিয়ে মাছ চাষ করলেও অধিকাংশ জমির মালিককে হারি (লীজের টাকা) থেকে বঞ্চিত করেন। সবসময় সরকারি দলের সঙ্গে থাকা এই চেয়ারম্যান চাকুরি দেওয়ার নামে অনেক দরিদ্র তরুণ-তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি, নিজে বোনের সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনায় একাধিকবার আদালত ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।









































