Home আঞ্চলিক সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুদের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুদের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৬

31

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সুদের টাকা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।


স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এখন থেকে ১৮ থেকে ২০ বছর আগে উপজেলার সোনার মোড় এলাকার মজিবর গাজীর কাছ থেকে সুদে টাকা নেন উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর এলাকার সরকার পাড়া গ্রামের বিমল সরকার। সেই সুদের টাকা আদায় নিয়ে রোববার (২৪ আগস্ট) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিন সকালে মহাজন মুজিবর গাজী বিমল সরকারের কাছে সুদের টাকা দাবি করেন। বিমল সরকার বলেন, টাকা অনেক আগে পরিশোধ হয়ে গেছে। আর কোনো টাকা পাওনা নেই। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের মোট ৬ জন আহত হন। আহতরা হলেন- বিমল কুমার সরকার (৫০), তার ভাই অমল কুমার সরকার (৪৫) ও সুশান্ত কুমার সরকার (৩৬)। অপরদিকে আহত হন মজিবর গাজী (৬২), তার ছেলে আলম গাজী (৩৫) ও শ্রীফলকাটি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম (৩৬)।

এর মধ্যে গুরুতর আহত অমল কুমার সরকারকে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বাকি পাঁচজন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় হামলার শিকার অমল ও বিমলের ভাই সুশান্ত সরকার বলেন, ‘আমার দাদা বিমলের সাথে মজিবরের লেনদেন ছিল এখন থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। আমরা স্থানীয় সালিশি মিমাংসার মাধ্যমে সেই টাকা ১৭/১৮ বছর আগেই পরিশোধ করি। সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমানের মাধ্যমে সে সময় লেনদেনের মিমাংসা হয়।’

সুসান্ত কুমার আরও বলেন, ‘এখন হঠাৎ করে আমাদের কাছে আবারও টাকা চাচ্ছে। আজ সকালে আমার দাদা বিমল সরকারের কাছে টাকা চাইলে দাদা বলেন, টাকা তো অনেক আগেই পরিশোধ করেছিলাম। এখন আবার কিসের টাকা দেব। তখন তার ওপর মজিবর গাজী ও তার ছেলে আলম গাজীর নেতৃত্বে ৫/৭ জন হামলা করে। আমার আরেক ভাই অমল ও আমি ঠেকাতে গেলে আমাদের ওপরও হামলা করে তারা।’

আরও পড়ুন: নিখোঁজের তিনদিন পর খাল থেকে কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

এদিকে মুজিবর গাজীর দাবি, তাদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি গত ১৬/১৭ বছর আগে থেকে বিমল সরকারের কাছে ৯০ হাজার টাকা পেতাম। দীর্ঘদিন আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে আমার পাওনা টাকা সে দেয়নি। যার ডকুমেন্ট আছে আমার কাছে।’

মজিবর আরও বলেন, ‘আজ সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে ও তার ভাইয়েরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে। তখন আমার জামাতা কামাল ও আমার বড় পুত্র আলম গাজী উদ্ধার করতে আসলে তাদের ওপরও হামলা হয়।’

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।