Home আঞ্চলিক খুলনায় ২০ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তার ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনায় ২০ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তার ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা জরিমানা

8

স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ১১টি টিম খুলনা বিভাগসহ বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালায়। এ সময় নানা অনিয়মের দায়ে মোট ২০ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এসব অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে চাল, তেল, গ্যাস, ঔষধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর যাচাই করা হয়।

ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

খুলনা মহানগরীর নিরালা বাজারে উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযানে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে নিরালা ফার্মেসীকে ২ হাজার এবং নাহার ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে আরেক অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মা স্টোর ও লাবিব স্টোরকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে এবং অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে ভোজন বাড়ি হোটেলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খুলনার হেরাজ মার্কেটে সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে অভিযানে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও পণ্য সরবরাহে অনিয়মের দায়ে মেসার্স পি কিউ এস ড্রাগ হাউজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযানে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে অপূর্ব ঘোষ দধি ভাণ্ডারকে ৫ হাজার, হরিনারায়ণপুর দধি ভাণ্ডারকে ৫ হাজার এবং পবিত্র ঘোষ দধি ভাণ্ডারকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাগুরার কেশব মোড় ও নতুন বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের দায়ে মেসার্স বাগাট মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলার মগরা বাজারে সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ভাই ভাই স্টোরকে ২ হাজার এবং রনি স্টোরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

যশোর সদর উপজেলার কৃষণবাটি বাজারে সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযানে অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে মোলাসেচ ফুড এন্ড ন্যাচারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বাঙালের মোড় বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের দায়ে মেসার্স হাবিব স্টোরকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া বাজারে সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স সৎসঙ্গ স্টোরকে ১ হাজার এবং পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে মেসার্স অর্ণব স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে শওকত স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স আসিফ ট্রেডার্সকে ৩ হাজার, মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার দায়ে বেল্টু কসমেটিকসকে ২ হাজার এবং মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অপরাধে মেসার্স মিজান বেকারিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে মোট ২০ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় জানায়, ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলতে সতর্ক করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।