স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে তিনটি বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তজেলা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে টুর্নামেন্ট, ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৭ এবং মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট।
এই তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা দেবে সরকার। বাকি অর্থ স্পনসরদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাফুফে। এই অর্থ মাঠ সংস্কার, দলগুলোর ভ্রমণ ও অংশগ্রহণ ফি, পুরস্কারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হবে। পুরো প্রকল্পটি ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করেছে বাফুফে।
সবচেয়ে বড় আয়োজন হবে আন্তজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট, যাতে দেশের ৬৪টি জেলা অংশ নেবে। প্রতিটি দল খেলবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। প্রথম রাউন্ডে আটটি ‘পটে’ ভাগ করে প্রতিটি ‘পটে’ আটটি করে দল রাখা হবে। প্রথম রাউন্ডের বিজয়ীরা দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে এবং সেখানেও থাকবে হোম ও অ্যাওয়ে পদ্ধতি। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়, অর্থাৎ চতুর্থ রাউন্ড থেকে শুরু হবে নকআউট পর্ব। বয়সভিত্তিক কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না এই প্রতিযোগিতায়।
এই টুর্নামেন্ট শুরু হতে পারে আগামী ২৫ থেকে ২৯ আগস্টের মধ্যে এবং চলবে প্রায় চার মাস। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আন্তজেলা টুর্নামেন্ট হিসেবে ‘শেরেবাংলা কাপ’ ছিল একটি স্মরণীয় আয়োজন। ১৯৭৪ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট ১৯৮৬ পর্যন্ত নিয়মিত হলেও এরপর তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। মাঝে কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর ২০২০ সালে আবারও মাঠে গড়ায়, তবে তখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নতুন নামে আয়োজন করা হয়।
শেরেবাংলা কাপের পাশাপাশি একসময় সোহরাওয়ার্দী কাপ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টও তৃণমূল ফুটবলে বড় অবদান রেখেছিল। অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় উঠে এসেছেন এসব টুর্নামেন্ট থেকে।
এবার আবারও সেই তৃণমূল ফুটবল জাগিয়ে তুলতে বাফুফে আয়োজন করছে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট, যা আন্তজেলা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর শুরু হবে। এটিও শুরুর দিকে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে নকআউট পদ্ধতিতে।
বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী এক গণমাধ্যমকে জানান, “তিনটি টুর্নামেন্ট নিয়ে আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এগুলো তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হচ্ছে। ১৬ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে সরকার ১০ কোটি টাকা দেবে—এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত পেয়েছি। বাকি অর্থ আমরা স্পনসরদের মাধ্যমে সংগ্রহ করব। অর্থ বরাদ্দ পেলেই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।”
এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ক্রীড়া লেখক সমিতির এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছিলেন, ‘খেলাধুলার ভিত্তি জেলা থেকেই তৈরি হওয়া উচিত। আশা করছি, ২-৩ মাসের মধ্যেই আন্তজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘তারুণ্যের উৎসব’ এখনো চলমান। এর অংশ হিসেবেই দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের ফুটবল টুর্নামেন্ট, যার চূড়ান্ত পর্ব এখনো বাকি রয়েছে।










































