Home আঞ্চলিক ঢালাইয়ের ৭ দিনের মধ্যে উঠে গেলো পিচ কালীগঞ্জের সেই রাস্তা পরিদর্শনে দুদক

ঢালাইয়ের ৭ দিনের মধ্যে উঠে গেলো পিচ কালীগঞ্জের সেই রাস্তা পরিদর্শনে দুদক

5

॥ সাবজাল হোসেন ॥

নির্মাণের সাত দিনের মাথায় উঠে গেলো রাস্তার পিচ। ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কালীগঞ্জ -ডাকবাংলা ২২ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র তিন কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ায় রাস্তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইতোমধ্যে রাস্তার পিচ উঠার চিত্র নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সড়কটির বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেছেন। এর আগে সড়কটি পরিদর্শন করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্না রানী সাহাও।

উল্লেখ্য,ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়ারিং এর কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিং বা বিচিকরণের কাজ শুরু করে। ৪ থেকে ৫ দিনে তিন কিলোমিটর কাজ সম্পন্ন করে। এরপর ঠিকাদার বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর গ্রামের অংশের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে। এছাড়াও সড়কের নির্মিত অংশে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মানের পর ৭ দিনের মধ্যেই পিচ উঠে যাওয়ায় এলাকায় মুখোরোচক গল্পে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার কাজের শুরু থেকে নি¤œ মানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সে সময়ে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের এ সড়ক দেখভালে দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেরকে জানিয়ে ছিলেন। কিন্ত অদৃশ্য কারনে তারা কর্নপাত করেননি। পরে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পিচ উঠা শুরু করলে এখন সকলের টনক নড়েছে। এখন সকাল বিকেল রঙ বেরঙের গাড়ি ভরে মানুষ আসছেন আলোচিত সড়ক দেখতে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুহিঙ্গীর আলম তপন জানান, এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা পিচ ঢালাই দেয়া হয়। কিন্তু এর দুইদিন পরে থেকেই রাস্তায় ফাঁটল দেখা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে ঢালাই দেয়া পিচ উঠতে থাকে। এ কাজটি হয়েছে একেবারেই নি¤œ মানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে। রাস্তার উঠে যাওয়া পিচের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। এরপর স্থানীয় ঠিকাদার শ্রমিক পাঠিয়ে পিচ উঠে যাওয়া অংশটুকু খুঁড়ছিলেন পুণঃ নির্মানের জন্য। কিন্ত এলাকাবাসীর দাবি নির্মিত সড়কের সম্পূর্ণ অংশটুকুই পুনঃনির্মান না করলে অল্প দিনেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জানান,ইতোমধ্যে রাস্তাটি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। নির্মিত অংশে নি¤œ মানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, নির্মিত রাস্তার সম্পূর্ণ অংশ টুকুই পুনরায় করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা জানান, রাস্তাটি তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। নির্মিত অংশটুকু দেখে মনে হয়েছে অত্যন্ত নি¤œ মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।