ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
চিত্রা নদীর দুই পাড়ের সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের বাঁশের সাঁকো বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়েছে। এতে করে দুই পাড়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। এ সাঁকোটি কোটচাঁদপুরে উপজেলার তালসার ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুতি দূর্গাপুরের সংযোগ স্থলে নির্মিত। এ অবস্থা থেকে স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ও একই জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের মাঝে সংযোগ ঘটিয়েছে চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি। যা ২০০৭ সালের দিকে দুই পাড়ের ৭ গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম ও আর্থিক সহায়তায় সাঁকোটি নির্মিত হয়। এ সব গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ সদরের গোপালপুর, হাজিডাঙ্গা, সুতি, মধুহাটি, কোটচাঁদপুরের তালসার, ঘাগা ও কুশনা। এই সেতুটি প্রতি বছর বৃষ্টির সময় আসলে পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়ে।
এতে করে দুই পাড়ের ১০ হাজার মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া। বাজার জাত করতে পারেন না চাষীদের উৎপাদিত ফসল। এ কারণে এ অবস্থা থেকে স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুতী গ্রামের স্বপন পুন্ডুরি বলেন, ‘আমাদের এ পাড় থেকে সাঁকো পার হয়ে ও পাড়ে স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীরা পড়তে যান। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে যান ওপারে। গেল কয়েক দিন ধরে আমরা চরম বিপাকে আছি। বন্ধ হয়েছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া। প্রতিবছর আমাদের এ সমস্যায় পড়তে হয়। এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
কোটচাঁদপুরের তালসার গ্রামের সাকোঁর পাড়ের মুদি দোকানি আসাদুল ইসলাম বলেন, অবিরাম বৃষ্টির পানিতে ভেঙে গেছে সাঁকোটি। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন দুই পাড়ের ৭ গ্রামের মানুষ। পার হয়ে স্কুল-কলেজে আসতে পারছে না অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। কৃষকরা তাদের পণ্য বিক্রি করতে আসতে পারছেন না।
তিনি বলেন, সাঁকোটি নির্মাণের পর বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়েছে। আমরা দুই পাড়ের মানুষ স্বেচ্ছা শ্রম দিয়ে প্রতি বছর মেরামত করি। আর প্রতি বছর আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয় সাঁকোটি নিয়ে। এ সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ওই ভুক্তভোগী মুদি দোকানি।
ওই গ্রামের আকিমুল ইসলাম সাজু বলেন, গেল বছর পানির প্রবল স্রোতে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। আর তা পড়েছিল এক মাসেরও উপরে। দুই পাড়ের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। পরে আবারও দুই পাড়ের মানুষের সহায়তায় মেরামত করা হয় সাঁকোটি। তিনিও এর স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজ বলেন, বৃষ্টির সময় এলেই সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এটা চিত্রা পাড়ের মানুষের প্রতি বছরের একটা ভোগান্তি। এ বিষয়টি নিয়ে এর আগে অনেকবার কথা বলেছি। তবে তেমন সাঁড়া মেলেনি। এ বছর আবারো সাঁকোটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব, যেন এর একটা স্থায়ী সমাধান হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী আনিসুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয়। তবে কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।









































