Home আন্তর্জাতিক ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাটে স্থবির স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগাল

ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাটে স্থবির স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগাল

22


খুলনাঞ্চল ডেস্ক
স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সে ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে। পুরো স্পেন ও পর্তুগাল সোমবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়, ট্রেন চলাচল থেমে যায় এবং বহু মানুষ লিফটে আটকা পড়ে। অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশেও অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
স্পেনের সরকার এই বিশাল বিপর্যয়ের উৎস চিহ্নিত করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংযোগ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড ইলেকট্রিকারের সদর দপ্তরে গিয়ে অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং তারা জনগণকে বিভ্রান্তিকর জল্পনা-কল্পনা না করতে অনুরোধ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মেট্রো স্টেশনগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে, ট্রেনগুলো থেমে আছে এবং অফিস ও করিডরে মানুষ ফোনের আলো ব্যবহার করে চলাফেরা করছে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ডিজিটিকে গাড়িচালকদের গাড়ি থামিয়ে দিতে বলে। কারণ ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ায় গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলছিল এবং পুলিশ সদস্যরা ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক পরিচালনা করছিলেন। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় এএফপির সাংবাদিকরা দেখেছেন, মানুষ রাস্তায় বের হয়ে স্মার্টফোন তুলে নেটওয়ার্কের সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া স্পেনের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বহু মানুষ লিফটে আটকা পড়েন।
ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস এএফপিকে জানিয়েছে, এই ব্ল্যাকআউটের ফলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর বড় অংশ অচল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক ব্যবহারের মাত্র ১৭ শতাংশে নেমে আসে ওয়েব সংযোগ।
ফ্লাইট বিলম্বিত : পর্তুগালের বিদ্যুৎ অপারেটর আরইএন এএফপিকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোটা আইবেরীয় উপদ্বীপ এই ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়ে এবং দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশেও অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল বলে সে দেশের বিদ্যুৎ অপারেটর জানিয়েছে, তবে সেখানে এখন বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে।
ফ্রান্সের হাই-ভোল্টেজ গ্রিড অপারেটর আরটিই জানিয়েছে, ‘বর্তমানে একটি বৈদ্যুতিক ঘটনা স্পেন ও পর্তুগালকে প্রভাবিত করছে, যার কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।’
ইউরোপীয় কমিশন স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে ‘এই বিপর্যয়ের অন্তর্নিহিত কারণ বোঝার জন্য’ যোগাযোগ রেখেছে বলে জানিয়েছেন একজন মুখপাত্র।

স্পেনের রেল অপারেটর আদিফ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এয়ারপোর্ট অপারেটর আইনা জানিয়েছে, বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, তবে দেশের বিমানবন্দরগুলো ‘বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থার’ মাধ্যমে চালু রয়েছে।
স্পেনের রেড ইলেকট্রিকা জানিয়েছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, তবে পুরোপুরি সমস্যা সমাধান হয়নি। তারা বলেছে, ‘আমরা বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
স্পেনের দৈনিক এল পাইস তাদের ওয়েবসাইটে মাদ্রিদে থেমে থাকা মেট্রো ট্রেন, ট্রাফিক পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্য ও টর্চলাইটের আলোয় কাজ করা নিজস্ব প্রতিবেদকদের ছবি প্রকাশ করেছে। তারা আরো জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো ব্যাকআপ জেনারেটরের সাহায্যে চালু থাকলেও কিছু ইউনিট বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশেও বিশাল বিদ্যুৎবিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিউনিশিয়া, ২০২০ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কা ও ২০১৯ সালের জুনে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েতে বড় ধরনের বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটেছিল। ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভারতে এক বিশাল ব্ল্যাকআউট হয়। ইউরোপেও ২০০৬ সালের নভেম্বরে জার্মানির গ্রিডে ব্যর্থতার কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও স্পেনে এক ঘণ্টার জন্য এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।