সৈয়দ রানা কবীর
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)’র তদন্ত কমিটি, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের আবেদন বারবার প্রত্যাখান করে উপচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আন্দোলরত কয়েকজন শিক্ষার্থী। এর আগে দুই দফায় শিক্ষকদের আলোচনার আহবানও প্রত্যাখান করেন তারা। আজ বুধবার সকালে ইউজিসি’র তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম কুয়েটে আসছেন। আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে দু’ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের কুয়েট হাসপাতালে ও নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে কুয়েট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কয়েকজন শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাঁচটি দাবি বাস্তবায়ন করেছে। তবুও ভিসির পদত্যাগের দাবিটি অযৌক্তিক ও আন্দোলন অব্যাহত রাখা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবিকে কুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষার্থী সঠিক মনে করছে না।
তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেন , কিছু শিক্ষার্থী নোংরা ভাষায় শিক্ষকদের হেয় করার পাশাপাশি সাইবার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা একটি শিক্ষিত সমাজে কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিমূলক পথ পরিহার করে সুষ্ঠু পথে ফিরে এসে কুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন । শিক্ষক সমাজ সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন রয়েছেন বলে কুয়েটের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান।
সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটায় কুয়েটের ৩২ ছাত্র উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচিতে বর্তমানে ২৭ শিক্ষাথী অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার অনশন চলাকালে দু’ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে এমটিই বিভাগের আজিজুল হক সিয়ামকে কুয়েট হাসপাতালে ও সিএসসি বিভাগের শফিক সিদ্দিক ফারিককে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আজ বুধবার সকালে ঢাকা থেকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে সকল তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে ইউজিসির কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নিকট পেশ করবে। ইউজিসির এই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে সুপারিশমালা অনুযায়ী কুয়েটের চলমান সংকটের সমাধান হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকালে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বলেন, দুই মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি দিয়ে আমাদের দাবি জানিয়েছি। তারা এতোদিন কোন কিছু করেননি। যখন শিক্ষার্থীরা অনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তখন তারা আসবেন বলে জানিয়েছে। এই একদিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের যদি কোন অঘটন ঘটলে তার দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে। তারা ইউজিসির কমিটিকে প্রত্যাখান করে এক দফা দাবিতে অনশন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এর আগে দুপুরে শিক্ষকদের একটি দল শিক্ষার্থীদের সাথে এসে কথা বলেন। তাদের আলোচনার আহবান জানান। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের আহবান প্রত্যাখান করে।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার জানান, আমরা সব সময়ই শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। তাদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহবান জানাচ্ছি। কিন্ত একটি সিমিত সংখ্যক ছাত্র তারা কোন কথা না শুনে তাদের মনগড়া সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। সকাল থেকে দুই জন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের কুয়েট ও নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । গত সোমবার আরো তিন জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা বাসায় চলে যান। বর্তমানে মাত্র ২৭ জন শিক্ষার্থী অনশন করছে।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছাত্রী হলের তালা ভেঙে হলের ভেতরে প্রবেশ করে গুটি কয়েক ছাত্রী।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গত ১৫ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় এ ঘটনায়। এছাড়াও আগামী ০৪ মে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু ও ২ মে হল চালুর সিদ্ধান্ত দেয় সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে ছাত্ররা ১৬ এপ্রিল হলের তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ করে। ২০ এপ্রিল তারা ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে একদফা দাবিতে অনশনের ডাক দেয়। বর্তমানে তাদের এক দফার আন্দোলন চলমান রয়েছে।











































