Home Lead ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর উদাসীনতায় নির্মাণ হয়নি সেতু, জনদুর্ভোগ চরমে

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর উদাসীনতায় নির্মাণ হয়নি সেতু, জনদুর্ভোগ চরমে

3


ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।


খুলনার চুকনগর বাজার ও যশোরের গৌরিঘোনা সীমান্তে ভদ্রা নদীর ওপর ’৮০-র দশকে নির্মিত হয় একটি সেতু। দীর্ঘদিনের সেতুটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধসে গেছে গার্ডারও। ভেঙে গেছে সেতুর ঢালাইকৃত কংক্রিটের পিলার। পিলারের রডগুলো বের হয়ে ধরেছে মরিচা। সেতুর ছাদের একপাশ ধসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্তের।

ভগ্নদশার এ সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন। সেতুটি যে কোনো সময় ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ ২০২২ সালে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে কার্যাদেশও দেয়। এরপর কার্যাদেশের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ ফেরত গেছে বরাদ্দকৃত অর্থ।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ২০ হাজার ছোট-বড় যানবাহন ও অসংখ্য মানুষ চলাচল করছে ভাঙা সেতু দিয়ে। চুকনগরে ভদ্রা নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সহজেই শিল্পনগরী নোয়াপাড়া, দৌলতপুর, ফুলতলা, মনিরামপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় যাতায়াত করা যায়। সেতুটি নির্মাণের ফলে চুকনগরে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এতে কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষি ও মৎস্যজীবী মানুষের ভাগ্যেরও উন্নয়ন ঘটেছে।


এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এই অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ সেতুটি ব্যবহার করে। প্রতিদিন ভ্যান, ইজিবাইক, মাহিন্দ্র, পণ্যবাহী গাড়ি, গণপরিবহন চলাচল করে। কিন্তু সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভেঙে যাওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। সেতুর ছাদের একপাশের বড় ভাঙা থাকায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি পুনরায় নির্মাণে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় মিকশিমিল আরএন্ডএইচ-শোলগাতিয়া চুকনগর জিসি সড়কে চেইনেজ ২৩৭৭ মিটারে ৬০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৪২৯ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ হয়। টেন্ডারে কাজটি পায় খুলনার দক্ষিণ টুটপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএ জেডটি (জেভি)।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের ৫ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারের প্রকল্প সমাপ্তে মেয়াদ ছিলো ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট। তবে প্রকল্পের মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু না করায় ফেরত যায় বরাদ্দকৃত অর্থ। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আপার ভদ্রা নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়, কিন্তু সেতুটির সংযোগ সড়কে গৌরিঘোনা প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানা জমি থাকায় সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসেও কোনো সুরহা হয় না। সে কারণে সেতু নির্মাণ কাজ বাতিল করা হয়।

সম্প্রতি ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদার নির্দেশে সেতুর দুই প্রান্তে ভ্যান ও পথচারী চলাচলের রাস্তা রেখে বাকি অংশ ইট দিয়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এভাবে সেতুর উপর যানবাহন চলাচল বন্ধ করায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ, ব্যবসায়ীরা পড়ছেন ক্ষতির মুখে।

চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. শাহিদুর রহমান বলেন, চুকনগর বাজারের অনেক ব্যবসায়ীর গোডাউন রয়েছে সেতুর গৌরিঘোনা প্রান্তের বাজারে। প্রতিনিয়ত তাদের মালামাল লোড আনলোড করতে হয়। হঠাৎ করে সেতু এভাবে আটকে দেওয়াতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণতার কথা বলে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছি কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, সেতুটি যদি পুরাতন খেয়াঘাট এলাকা থেকে করা হয়, তাহলে বাজারের যানজট নিরসন হবে এবং সেতুর সংযোগ সড়ক কোনো ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে নিতে হবে না।

আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলালউদ্দিন বলেন, চুকনগর বাজার একটি বাণিজ্যিক এলাকা। প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা এ বাজারে পরিচালিত হয়। সেতুটি এই এলাকার ব্যবসা সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ কালনা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনতিবিলম্বে সেতুটি পুনর্নির্মাণ না করলে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান থমকে যাবে, ক্ষতির মুখে পরবে ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, সেতুটি চুকনগর বাজার এলাকার পুরাতন খেয়াঘাট থেকে নির্মিত হলে সরকারের জমি অধিগ্রহণ করে সংযোগ সড়ক করতে হবে না এবং বাজারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা মুঠোফোনে বলেন, ইতোমধ্যে সেতুটি আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে যান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

কোন এলাকা দিয়ে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রকল্প পাস হলে পরে আমরা স্থান ঠিক করব। স্থান নির্ধারণ না করে কীভাবে প্রকল্পের প্রস্তাবনা দিয়েছেন এমন প্রশ্নে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পুনরায় তাকে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।