Home আঞ্চলিক কপিলমুনিতে হারির টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক ঘের করতে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

কপিলমুনিতে হারির টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক ঘের করতে ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ

7


কপিলমুনি প্রতিনিধি
পাইকগাছার কপিলমুনির শেখেরডাঙ্গা মৌজায় ইজারা পরিবর্তন করে ভিন্ন মালিকানায় ডিড দেওয়ায় জমি মালিকসহ ডিড গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ মহল বিশেষ মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনৈক দীপক মুনি ইজারা চুক্তিতে জমির ডিডি নিয়ে দীর্ঘ দিন হারি না দিয়ে জোরপূর্বক ঘের করায় জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে ভিন্ন মালিকানায় ডিড দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঐ হয়রাণীমূলক মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে।
এ সংক্রান্তে দীপক মুনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হয়রাণিমূলক মামলা করেন, যার নং-৩৪৭/২৫। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, পাইকগাছা উপজেলার শেখেরডাঙ্গা মৌজার এসএ ১৯ নং খতিয়ানে ১৩.৬৬ একর জমিতে মালিক থাকেন, মতিলাল মুনি, প্রফুল্ল, ফকির, রাজেন্দ্র নাথ রায় দিং। যার ৪.৫৫ একর জমির মালিক থাকেন মতিলাল মুনি। পরবর্তীতে রাজেন্দ্র নাথ, ভোলা নাথ ও যদু নাথ তাদের প্রাপ্ত জমি মতিলাল মুনির নিকট হস্তান্তর করেন। এরপর মুনসুর আহম্মেদ মতিলালের সম্পত্তির দাবি করলে তিনি খুলনা ৩য় মুনসেফ আদালতে ৮৮/৫৭ নং মামলা দায়ের করেন। এরপর ৫/১১/৫৮ মতিলাল রায় প্রাপ্ত হয়ে পাইকগাছার চাঁদখালী সিও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৫৪ ধারা মতে ৬৮/৬৭-৬৮ নং মামলায় ২৪/৪/৭০ তারিখের আদেশে নামজারীপূর্বক দখলকার থাকা অবস্থায় মতিলাল মুনি ১১/৫/৭৩ তারিখে ২৫৭৬ নং কোবলা দলিল মূলে ১.৯৮ একর জমি সূধা রাণী সাধু, ২৮/৭/৭০ তারিখে ১৫৭২ নং কোবলায় জোতির্ময় সাধ বরাবর ২.০০ একর, ২৩/৬/৭৩ তারিখে ৩৫৮৭ নং কোবলায় .৬৬ একর সম্পত্তি কাঞ্চনবালা বরাবর, ২৩/৬/৭০ তারিখে ৩৫৭৪ নং কোবলায় গীতা রানী বরাবর ১.৯৮ একর সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। তবে বিআরএস জরিপে ২৪ ও ২৯ নং খতিয়ানে ৫.৩৫ একর জমির রেকর্ড প্রস্তুত হয়। এছাড়া উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের মৃত এসএম এলাহী বক্স এর স্ত্রী কানিজ নূরজাহান বেগম একই খতিয়ানের একই মালিকানায় .৭৭ একর জমি খরিদ পূর্বক ভোগদখলে থাকাবস্থায় সূধা রাণী সাধু, নারায়ন চন্দ্র সাধু, হারান সাধু, নারায়ন চন্দ্র দত্ত, চঞ্চল দত্ত ২০০৯ সালে দিপক মুনি বরাবর প্রায় ২০ বিঘা জমির ইজারা দেন। তবে দীর্ঘ দিন ধরে দিপক তাদের হারির টাকা না দেওয়ায় তারা পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-৩৮০/২৪। মামলায় আদালত বিষয়টির তদন্তমূলক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকতার্কে নির্দেশ প্রদান করেন। গত ৩০/৯/২৪ তারিখে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক উভয় পক্ষের কাগজ-পত্র পর্যালোচনা পূর্বক দিপক মুনিকে বাদীপক্ষের দাবিকৃত ২০ বিঘা জমির হারির সমুদয় টাকা পরিশোধ করতে আদালতকে সুপারিশ করেন। এরপরও দিপক জমি মালিকদের হারির টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা ও কতিপয় জাল-তঞ্চকিমূলক কাগজ-পত্রাদি উপস্থাপন করে আদালতে হয়রাণিমূলক মামলা দায়ের করেন।
সর্বশেষ উপজেলার রেজাকপুর গ্রামের মৃত সামছের আলী সরদারের ছেলে সোহরাব সরদার নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিটের মাধ্যমে জমি মালিক কপিলমুনির নারায়ন চন্দ্র দত্ত, চঞ্চল কুমার দত্ত, অসীম সাধু, প্রশান্ত সাধু, কৌশিক সাধু, নিলয় সাধু ও কাশিমনগর গ্রামের কানিজ নূরজাহানের নিকট থেকে পৃথক ডিড মূলে যথাক্রমে ২০ বিঘা ও .৭৭ একর জমির ডিড নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন।
বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিপক মুনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হয়রাণিমূলক মিথ্যা মামলা ও সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে রীতিমত মিথ্যাচার শুরু করেছেন।
এ ঘটনায় জমির মালিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে সূ-দৃষ্টি কামনা করেছেন।