স্টাফ রিপোর্টার।।
আমাকে ধমক দিয়েন না। অনেক ধমক ধামকি দিয়েছেন। আপনার ধমককে এখন আর পরোয়া করি না। আমি আপনার দল করি না। শেখ হাসিনার দল করি। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি। ভবিষ্যতেও তাই করবো। আপনি যা পারেন কইরেন। এমন কথা খুলনা সদর আসনের সাবেক এমপি, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ জুয়েলকে সরাসরি অতি সম্প্রতি গ্রুপ কলে বলেছেন খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নানা কারনে দলে আলোচিত, বিতর্কিত নেতা এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। সেই রাতে গ্রুপ কলে ছিলেন, আওয়ামী লীগের এমন একাধিক সুত্র বলেছে, পূর্বের কোন একটি বিষয় নিয়ে সেখ জুয়েলের স্ত্রী শম্পার সমালোচনা করেছিলেন এডভোকেট সাইফুল। শম্পার সমালোচনা করতে গিয়ে এডভোকেট সাইফুল দলের কোন একজনকে বলেছিলেন, শম্পা কবে থেকে আওয়ামী লীগ করে? ও তো বিএনপি পরিবারের মেয়ে। সেখ জুয়েলের স্ত্রী বিধায় আমরা তাকে ভাবি হিসাবে সম্মোধন করি। কিন্তু ও আওয়ামী লীগের কেউ না, বরং ওরা খুলনা আওয়ামী লীগটাকে শেষ করেছে।
শম্পাকে নিয়ে এডভোকেট সাইফুলের এমন মন্তব্য মুহুর্তেই স্বামী খুলনা সদর আসনের সাবেক এমপি সেখ জুয়েলের কানে চলে যায়। সেখ জুয়েল যারপর নাই ক্ষিপ্ত হন। দিনভর এডভোকেট সাইফুলের গুষ্টি উদ্ধার করে সমালোচনা করতে থাকেন। কাছের অনেককেই এডভোকেট সাইফুলের উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা বলেন। সেই রাতে গ্রুপ কলে হঠাৎ করেই যোগ দেন খুলনা সদর আসনের সাবেক এমপি সেখ জুয়েল। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য সেখ জুয়েল সাধারণত গ্রুপ কলে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগ দিতেন না। বরাবরই তিনি পর্দার পেছনের মানুষ। কম কথা বলেন। কিন্তু সে রাতে তিনি গ্রুপ কলে ঢুকেই এডভোকেট সাইফুলের নাম উচ্চারণ করে সরাসরি সমালোচনা শুরু করে দেন।
উত্তেজিত সেখ জুয়েল বলেন, সাইফুল নিজেকে কি মনে করে? ও কোন সাহসে আমার পরিবারকে নিয়ে কথা বলে? ও কিভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে, আমি দেখবো? এর মধ্যেই এডভোকেট সাইফুল চুপিসারে গ্রুপকলে যোগ দেন। সাইফুলের অনুসারীরা এডভোকেট সাইফুলকে খবর দিয়ে গ্রুপ কলে ডেকে নেন।
সেখ জুয়েলের বক্তব্য শেষ হতেই এডভোকেট সাইফুল ফিল্মি স্টাইলে সেখ জুয়েলকে আসসালামু আলাইকুম জুয়েল ভাই বলে আলাপচারিতা শুরু করেন। সালাম দিয়ে ঠান্ডা মাথায় অথচ ধমকের সুরে বলেন, আমাকে ধমক দেবেন না। বহুত ধমক দিয়েছেন। আপনার ধমককে ভয় পাই না। আর আপনি বলেছেন, আমি কিভাবে আওয়ামী লীগ করি, আপনি দেখতে চেয়েছেন। যা করতে পারেন, কইরেন, পারলে করে দেখাইয়েন। আমি আপনার আওয়ামী লীগ করি না। আমি বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি। শেখ হাসিনার দল করি। এই সময়ে সেখ জুয়েল ছিলেন নিশ্চুপ। লজ্জা- অপমানে মাথা নুয়ে ছিলেন। গ্রুপকলে যোগ দেয়া অন্যান্যরা এডভোকেট সাইফুলের প্রতুত্তরে অপার বিস্ময়ে ছিলেন বিস্মিত। পরে সাইফুলের বক্তব্য শেষ না হতেই গ্রুপকল ছেড়ে চলে যান সেখ জুয়েল। এর কিছুক্ষণ বাদেই বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক সন্তান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল গ্রুপকলে যোগ দেন। আলোচনার শুরুতেই শেখ সোহেল বলেন, সেখ জুয়েলের উচিত হয়নি, গ্রুপকলে এসে এডভোকেট সাইফুলের বিরুদ্ধে ওপেন বক্তব্য দেয়া। তিনি সাইফুলের সাথে নিজে কথা বলে নিতে পারতেন। তিনি সেখ জুয়েলের হয়ে এডভোকেট সাইফুলের কাছে দু:খ প্রকাশ করে বিষয়টির তাৎক্ষনিক সম্মানজনক ফয়সালা করে দেন। এই নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করতে দলের নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানান।









































