আমিনুল ইসলাম বাবু
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট আগুনের ঘটনায় ভর্তি বাকি পাঁচ জনের কারও অবস্থাই ভালো নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মোট ভর্তি হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও ৫ জন। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ থেকে ২২ শতাংশ দগ্ধের আহতরা রয়েছে। তারা এখন কিছুটা ভালো থাকলেও যেকোনও সময় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে বলে শঙ্কা চিকিৎসকদের। ফলে কাউকে শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে আইসিইউ’র সামনে অপেক্ষমাণ স্বজনরা দিনরাত ভুলে কেবল ভালো খবরের অপেক্ষা করছেন।
চিকিৎসাধীন মো. ফরিদ (৫৫) আইসিইউর ২০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারা ভর্তি আছেন তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দগ্ধ হয়েছিলেন তিনি, ৫০ শতাংশ। তিনি পেশায় শ্রমিক। দুই ছেলে দুই মেয়ের জনক। মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন উল্লেখ করে তার স্ত্রী রীনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মেয়ে খাদিজার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরদিন শুক্রবার এশার নামাজে গেলে দুর্ঘটনার শিকার হন। হাসপাতালের মানুষদের কাছ থেকে জেনেছেন, ফরিদের খুব ব্যথা যন্ত্রণা হয়।
কে কেমন আছে জানতে চান আজিজ:
৪৬ শতাংশ দগ্ধ নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার আব্দুল আজিজ (৪০)। তিনি এখনও জানেন না তার আশপাশে যারা নামাজ পড়ছিলেন তাদের অনেকেই আর বেঁচে নেই। লন্ড্রি দোকানি আজিজের অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, আজিজকে নল দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তার অবস্থা বেশি ভালো নয়। এ অবস্থায়ও তিনি আমাদের সবার খোঁজ খবর নেন। কে কেমন আছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি আশপাশে যারা দগ্ধ হয়েছেন, তারাও কেমন আছেন জানতে চান। তিনি জানেন না এখানে অনেকেই মারা গেছেন। আমরাও তা বলিনি। বার্ন হাসপাতালের ফোরে এখনও কান্না ভেসে আসে। ঘটনার এতদিন পরেও আইসিইউর সামনে নিরলস বসে থাকছেন স্বজনেরা। তবে আগের চেয়ে শান্ত। এতগুলো লাশ চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেছে, নিজেদের স্বজনেরা এখনও বেঁচে আছেন, সেটাই তাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া।
ভাত খেয়ে খুশি আমজাদ: ফকির গার্মেন্টসের গাড়িচালক আমজাদ হোসেন (৩৯) জ্ঞান ফেরার পর থেকে ভাত খেতে চাইছিলেন। তার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তিনি এখনও আইসিইউর ১৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের আবদুল আহাদের আরেক ছেলে মোহন বলেন, তারা পশ্চিম তল্লা এলাকায় থাকেন। রায়সা (৫) নামে এক কন্যাসন্তানের জনক আমজাদ। মোহন বলেন, তিনি ভাত খেতে চাইতেন, চিকিৎসকের পরামর্শে প্রথমদিকে তরল খাবার দেওয়া হতো। গতকাল শনিবার থেকে তাকে ভাত খাওয়ানো হচ্ছে।
কবে ফিরবে বাড়ি: ৩০ শতাংশ দগ্ধ মো. কেনান (২৪) একজন গার্মেন্টস কর্মী। রবিবার তার আরেকটি ড্রেসিং করা হয়। পটুয়াখালী জেলার বাহেরচর উপজেলায় গ্রামের বাড়ি। স্ত্রী খাদিজা বেগম ও এক সন্তান রাফি (২)। ফুফাতো ভাই মিরাজ জানিয়েছেন এসব তথ্য। কবে বাড়ি ফিরবেন বাড়ি সে বিষয়ে এখনও তারা কিছু জানেন না। আইসিউয়ের বাইরে ভাত খাচ্ছেন সিফাতের বাবা ও ভাইনল দিয়েই খাবার দেওয়া হচ্ছে সিফাতকে: ১৮ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন সিফাতকেও নল দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তির চেষ্টা করছিল ছেলেটি। তার শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার বাবা মো. স্বপন শেখ ডেকোরেটরের কাজ করেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তাকে এখনও নল দিয়ে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা। অসহায় চোখে ছেলের সেরে ওঠার অপেক্ষা করছেন এই পিতা। ছেলেটি কবে সুস্থ হয়ে ফিরবে। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম বলেন, ভর্তি পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অনেকটা ভালোর দিকেই। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও কিছু বলা যাবে না। কারণ, আবার যেকোনও সময় খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই কাউকে এখনও আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।










































