Home Lead ডেভিলহান্ট অভিযান: খুলনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ডেভিলরা

ডেভিলহান্ট অভিযান: খুলনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ডেভিলরা

366


সৈয়দ রানা কবীর।।
‘শয়তানের’ সন্ধানে দেশ জুড়ে চলছে অপারেশন ডেভিল হান্ট। চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে এ অভিযান চললেও খুলনার কোন প্রভাশালী শয়তানের সন্ধান পায়নি পুলিশ। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন খুলনা মহানগরীতে কথিত গণভবন টু অর্থ্যাৎ শেরে এ বাংলা রোডের শেখ বাড়ির আর্শিবাদে যারা খুলনা দাপিয়ে বেড়িয়েছিলো তারা এখন কোথায়? পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না- নাকি খুঁজছেন না?
৫ আগস্ট পরবর্তী খুলনায় ছোট-খাটো কিছু সন্ত্রাসী ও চুনোপুঁটি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা গ্রেফতার হয়েছেন। যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের সবাই প্রায় কেএমপি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। বাকি ৮ থানার পুলিশ ঠুটো জগন্নাতের ভুমিকায় দায়িত্ব পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, কেএমপির ৮ থানায় অধিকাংশ পুলিশ সদস্যই পতিত সরকারের আমলের; বিধায় তারা ডেভিল গ্রেফতারের ব্যাপারে উদাসিন। এমনও তথ্য আছে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য আগেভাগে ডেভিলদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়ে দিচ্ছেন। জুলাই আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় ৬ মাস হলেও খুলনায় আলোচিত কোন ডেভিল ধরা পড়েনি। বলা চলে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালী ডেভিলরা। সামান্য কিছু মাদক উদ্ধার ও আওয়ামী লীগের নিম্ন পর্যায়ের কিছু নেতা ছাড়া কোন সাফল্য নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।
বিগত পতিত সরকারের আমলের সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজদের শেল্টারদাতা হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, চেম্বারের দীর্ঘ মেয়াদী সভাপতি কাজী আমিনুল হক আমিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সেখ জুয়েল, শেখ সোহেল, শেখ রুবেল, শেখ তন্ময়, বেগম মুন্নজান সুফিয়ান, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সফিকুর রহমান পলাশ, শওকত ওরফে কালা শওকত, খালিশপুরের আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, তালাত হোসেন কাউট, ট্যারা মনির, বেগ লিয়াকত আলী, স. ম. রেজোয়ান, জেড এ মাহমুদ ডন, শ্যামল সিংহ রায়, মকবুল হোসেন মিন্টু, ফারুক হাসান হিটলু, আমিনুল ইসলাম মুন্না, সরদার আনিসুর রহমান পপলু, সাত্তার খলিফা, তসলিম আহমেদ আশা, শেখ শাহজালাল সুজন, এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু, গল্লামারীর ত্রাস হাফিজুর রহমান হাফিজ, খালিশপুরের ফয়েজ ওরফে কুত্তা ফয়েজ, মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, ফকির সাইফুল ইসলাম, শেখ সৈয়দ আলী, নুর ইসলাম বন্দ, মুন্সি আব্দুল ওয়াদুদ, মিন্টু খালাসী, সোহেল বিশ্বাস, নতুন বাজারের তাজুল ইসলাম তাজুল, ইমরুল, সামছুজ্জামান মিয়া স্বপন, এস এম জাকির হোসেন, ২৩নং ওয়ার্ডের মাসুম উর রশিদ, কালা শওকতের ভাই রিপন, ইকবাল নগরের কাজী কামাল হোসেন, কাজী জাহিদ হোসেন, ডালমিল মোড়ের কালা হাসান, ডাক্তার সাইদুর রহমান, ২৪নং ওয়ার্ডে রাজু ও নাসির, কাঞ্চন শিকদার, চানমারি এলাকার ট্যারা মোস্ত, ১৭নং ওয়ার্ডে হাফিজুর রহমান হাফিজ, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের বাশার, নাহিদ মুন্সী, হাফেজ মো. শামীম, সাহাবুদ্দিন, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, মো. শাহাজাদা, ফেরদৌস আলম চাঁন ফারাজী, আবুল কালাম আজাদ কামাল, অধ্যাপক আলমগীর কবীর, মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যা, রুনু ইকবাল, মো. গাউসুল আযম, মনিরুজ্জামান খান খোকন, এসএম আকিল উদ্দিনরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওইসকল ডেভিলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও তারা কেন ধরা পড়ছে না?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, এদের অধিকাংশদের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছেন না। তিনি জানান, নগরীকে অস্থির করতে ওই সকল নেতাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমুলক প্রচারনা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. কুতুব উদ্দিন জানান, একে একে ধরা হবে সকল চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের। উদ্ধার করা হবে অবৈধ অস্ত্রও। সেই সাথে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে চলছে তৎপরতা। কোন ভাবেই খুলনা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না।