Home আন্তর্জাতিক ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাবে রাশিয়া

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাবে রাশিয়া

31


অনলাইন ডেস্ক।।
ইউক্রেনে পরীক্ষামূলক মনোভাবে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবেন বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ’ বলে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার কাছে যথেষ্ট সংখ্যক উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তারা অব্যাহতভাবে ইউক্রেনে এগুলোর পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান অনলাইনের।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে নতুন একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে প্রথমবারের মতো ‘ওরেশনিক’ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পুতিন একে সফল পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় কিয়েভ পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ক্রেমলিনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলা চালানোর জবাবেই হাইপারসনিক ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর আগে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর প্রশাসন রাশিয়ায় হামলায় ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। এতে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

শুক্রবার পুতিন বলেন, আমরা প্রয়োজনে যুদ্ধক্ষেত্রেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করব, বিশেষ করে যদি রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে উড়ে যেতে পারে এবং তিনি এর উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওরেশনিকের অর্থ হলো, ‘হ্যাজেল ট্রি’ (বিশেষ ধরনের একটি বৃক্ষ)। নতুন মাঝারি পাল্লার এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। বিষয়টি জনসমক্ষে আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি।

পেন্টাগন বলেছে, ‘আরএস-২৬ রুবেজ’ নামে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ওরেশনিক। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ গতিতে ছুটতে পারে। আবার পথিমধ্যে কৌশল বদলাতে পারে। এ কারণে এগুলো শনাক্ত করা ও আটকে দেওয়া অধিকতর কঠিন।

রিস্ক অ্যাডভাইজরি কোম্পানি সিবিলাইনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসিকে বলেন, মস্কো সতর্কতা হিসেবে ওই হামলা করে থাকতে পারে। তাঁর মতে, যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তা এত দ্রুতগামী ও আধুনিক, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে মারাত্মকভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষায় পুতিন উচ্ছ্বসিত হলেও এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। জেলেনস্কি বলেন, অন্য দেশকে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো স্পষ্টতই একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এ ঘটনায় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ইউক্রেনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলতি সপ্তাহের এই উত্তেজনাকর অবস্থা নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশ্বনেতাদের অনেকে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এতে বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের সত্যিকার ঝুঁকি আছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান বলেন, পশ্চিমাদের উচিত ভ্লাদিমির পুতিনের সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়া। কারণ, রাশিয়া সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেই নীতি ঠিক করে। আর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।