Home সম্পাদকীয় এ ধরণের ঘটনা মোটেও কাম্য নয়

এ ধরণের ঘটনা মোটেও কাম্য নয়

13

চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নানা ধরণের আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর সাংসদ কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী শহীদ মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে গার্ড অব অনার না দেয়া এবং বাঁশখালীতে এমপি মোস্তাফিজ কর্তৃক মৌলভী সৈয়দের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন সমাবেশের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধারা। এতে কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা এবং সন্তান কমান্ডের বেশ কয়েকটি সংগঠন অংশ নেয়।

সমাবেশ চলাকালে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী বাঁশখালীর পৌর মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী, এমপির পিএস তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি গ্রুপ মিছিল সহকারে এসে বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। সেসময় তারা মাইক, প্যান্ডেল ভাঙচুর করে এবং সব ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এসময় গুরুতর আহত হয় মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহাম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, ছাত্রনেতা আবু সাদাত, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদসহ আরও অর্ধশত জন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট যাইহোক না কেন মুক্তিযোদ্ধাদের এ ধরণের সমাবেশে হামলা ও হানাহানির বিষয়টি খুবই নিন্দার। করোনাকালে দেশের সব জায়গায় প্রকাশ্য সমাবেশ ও রাজনৈতিক-সামাজিক জমায়েত নিষিদ্ধ থাকার পরেও এধরণের একটি মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে, যেখানে ওই হামলা হয়েছে। প্রশাসন আগে থেকে তাদের বিষয়ে বিনীত পদক্ষেপ নিলে তারা ওখানে জমায়েত হতো না, আর হামলা-হানাহানির বিষয়টিও হতো না।

এছাড়া স্থানীয় সাংসদ ও রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষরাও এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টিকে স্থানীয়-আঞ্চলিক রাজনৈতিক বলে ঘটনাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়, আর মুক্তিযোদ্ধাদেরও সর্বোচ্চ সম্মানিত বলে গণ্য করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুন্ন হয় এমন কাজের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা দরকার বলে আমরা মনে করি। ভবিষ্যতে দেশের কোনো প্রান্তেই যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেবিষয়ে সব মহলের সতর্ক দৃষ্টি ও শোভনীয় আচরণ কামনা করছি।