Home খেলাধুলা লড়াইয়ের বিশ্বাসটাকেই এগিয়ে রাখছেন মুশতাক

লড়াইয়ের বিশ্বাসটাকেই এগিয়ে রাখছেন মুশতাক

18


স্পোর্টস রিপোর্টার

মুশতাক আহমেদের কণ্ঠে ঘুরেফিরে একটাই শব্দ- বিশ্বাস। এর কারণটাও জানালেন তিনি। ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। দল পড়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায়। কিন্তু সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী অনিক মিলে গড়ে তোলেন ১৩৮ রানের জুটি। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ৮১ রানের, হাতে আছে তিন উইকেট। মিরপুর টেস্ট গড়িয়েছে চতুর্থ দিনে। আর এমন লড়াইটাকে ‘বিশ্বাস’ হিসেবে দেখেন বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ মুশতাক। সংবাদ সম্মেলনে তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-

ড্রেসিং রুমের অবস্থা কেমন?
মুশতাক: ড্রেসিংরুমের অবস্থা সবসময় ভালো। কারণ আপনাকে তো বিশ্বাস রাখতে হবে। পাকিস্তান সিরিজে ২৬ রানে ৬ উইকেট থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সবাই বিশ্বাস রাখে আমরা জিততে পারি, যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। একটু চিন্তার বিষয় আছে তবে এভাবে ম্যাচ জিততে থাকলে জয়ের বিশ্বাস চলে আসে, টপ অর্ডারেও। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য হলো ঘুরে দাঁড়ানো। যেকোনো ম্যাচে, যেকোনো দলের লোয়ার অর্ডার যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রতিপক্ষ ঘাবড়ে যায়। আমার মনে হয় এটা দারুণ লক্ষণ। শিগগিরই দেখবেন এই ছেলেরা বিশ্বের যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

কতো রান হলে জয় সম্ভব?
মুশতাক: যত বেশি রান করা যায়। যত লিডই হোক, আমাদের জয়ের বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

হাতে মাত্র ৩ উইকেট, মিরপুরের পিচে শেষ পর্যন্ত কি ২০০ রানের লিড নেয়া সম্ভব?
মুশতাক: ২০০ রান, কেন নয়? ২৬/৬ থেকে আমরা টেস্ট জিতেছি। এই বিশ্বাস রাখতে হবে। আমরা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কোচিং স্টাফ, আমরা এই বিশ্বাস ছড়িয়ে দেই। সব পরিস্থিতিতেই বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, দল হিসেবে বিশ্বাস রাখলে, ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস রেখে প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে যেকোনো পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

জয়ের কথা ভাবা যাচ্ছে কি?
মুশতাক: তৃতীয়বারের মতো বলছি, ২৬/৬ থেকে ম্যাচ জিতেছি। ইনশাআল্লাহ এই ম্যাচও জিততে পারি। এই বিশ্বাসটাই শুধু রাখতে হবে। বিশ্বাস হলো সেই জিনিস, আপনি জানেন কোন প্রক্রিয়ায় জিততে হবে এবং হাল ছেড়ে দিবেন না। তাইজুল (আসলে নাঈম হাসান) দারুণ ব্যাট করেছে। ১৬ রানের মতো করেছে। এটাই লড়াই। হাল ছাড়া যাবে না। মানুষ যাতে তোমাকে নিয়ে আশা করতে পারে।

জয়-মুশফিক যেভাবে আউট হলো তাতে আপনারা কতোটা হতাশ?
মুশতাক: আমাদের চেয়ে ওরা আরও বেশি হতাশ। মুশফিককে তো চেনো। সে একবার সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলতে চায়। জয় তরুণ খেলোয়াড়, তার টেম্পারমেন্ট দারুণ, বাঘের মতো লড়াই করে। প্রথম ইনিংসেও ভালো করেছে। তখন খেলা অনেক কঠিন ছিল। তার সঙ্গে মজা করে কথা বলছিলাম। সে বলল, রাবাদার বল অনেক সুইং করছিল। আমি স্টাম্প ও এলবিডব্লিউ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। বিশ্বাস রেখেছিলাম ক্রিজে টিকে থাকলে রান আসবে। তরুণদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস থাকা মানে দলটা ভালো অবস্থানে আছে।

সুইপ শট কতোটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে?
মুশতাক: এশিয়ান স্পিনার হিসেবে একটা জিনিস আমি জানি- যদি ভালো বলে সুইপ, ব্যাকফুট, ফ্রন্টফুট না খেলো, সিঙ্গেলের পেছনে ছোটো, অবশ্যই তোমাকে সংগ্রাম করতে হবে। তাই এভাবেই রান বের করতে হবে। ৭০-১০০ রান যারা করে ওরা প্রচুর সুইপ খেলে। আজ আমাদের ব্যাটাররা সফলও হয়েছে। এমন পিচে বোলাররা ভালো করলে আপনাকে এভাবেই খেলতে হবে। তাইজুলও ভালো বল করেছে, কিন্তু ওরা সুইপ, রিভার্স সুইপ করে গেছে। এটা স্পিনারদের চাপে ফেলে। আমাদের ব্যাটারদের অ্যাটাকিং অপশনে আমি খুশি। সুইপ ভালো একটা অপশন।

রিশাদের অভিষেক পারফরম্যান্স?
মুশতাক: আমার মনে হয় সে বাংলাদেশের খুব ভালো ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে সাদা বলে। বিশ্বকাপ তো দেখলেনই। বিশ্বের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ওপর নজর আছে। সে আপনাকে উইকেট এনে দিতে পারে, যেকোনো সময় ম্যাচ জেতাতে পারে। দারুণ স্পিন, ভালো গতি, ড্রিফট, লম্বা একজন লেগ স্পিনার, ভালো গুগলি দেয়াও শিখছে। তাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে হবে। ভালোভাবে ৪-১০ ওভার করার সঙ্গে ওকে ২৫ ওভার করাও শিখতে হবে, আর তা শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই সম্ভব।