স্পোর্টস রিপোর্টার
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের খেলা, মাঠের বাইরে ভিড় নেই! নেই কোনো কোলাহল এমন দৃশ্য নিকট ভবিষ্যতে ছিল কল্পনাতীত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবারের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই দৃশ্য হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক। সকাল হতেই মাঠের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেখানে প্রতি ম্যাচের আগে ভুভুজেলা, পতাকা বিক্রি আর সাধারণ মানুষের ভিড় লেগেই থাকতো সেখানে দেখা যায় শুনশান নীরবতা। সাধারণ মানুষ তো বটেই সাংবাদিকদেরও মাঠে আসতে গেলে নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামের আশেপাশে কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের আসতে গেলে অ্যাক্রিডেশন কার্ড দেখানো লাগছে কয়েক জায়গায়। সকালে খেলা শুরু আগ মুহূর্তে মাঠের সামনে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডগ স্কোয়াড নিয়ে টহল দিচ্ছে। স্টেডিয়ামের চারপাশে মোতায়েন করা আছে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা কর্মী। অবস্থা এমন শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন বেহুলার বাসর ঘর। নিরাপত্তার ফাঁক গলে একটা পাখিরও এখানে প্রবেশের সুযোগ নেই। শুধু মাঠের বাইরে নয় গ্যালারিতেও এর এবার দেখা যায় অপরিচিত দৃশ্য। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় কম হলেও টেস্টেও গ্যালারিতে মোটামুটি দর্শক আসেন। এবার সেই সংখ্যা আরও কম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা ইস্যুতে সেটাই আশা করেছে কিনা কে জানে! কোনো গ্যালারির নীচের অংশের টিকিট বিক্রি করা হয়নি। ফলে ম্যাচে একটা ভালো ফিল্ডিং করলে বা বাংলাদেশ উইকেট পেলে গ্যালারি থেকে আসছে না কোনো গর্জন। নির্দিষ্ট করে বললে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর শেরে বাংলায় বাংলাদেশের ম্যাচে এমন শুনশান নীরবাত খুব একটা দেখা যায়নি। অবশ্য এমন কঠোর নিরাপত্তার কারণও আছে। এই ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় বলার কথা ছিল সাকিব আল হাসানের। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে দেশেই ফিরতে পারেননি তিনি। এরপর আগে-পরে সাকিব ভক্ত ও বিদ্রোহীরা স্টেডিয়ামের সামনে আন্দোলন করে। ম্যাচের আগের দিন দুই দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমনিতেই রাজনৈতিক পালাবদলে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুবাইয়ে আয়োজন করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফলে এই সিরিজে নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি রাখতে চাইছে না তারা। মাঠের ক্রিকেটেও অবশ্য গতকাল থেকেই ধুকছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ইনিংসে নিজেরা অলআউট হয় ১০৬ রানে। আজ সকালে হাসান এক ওভারে জোড়া উইকেট নিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেই। ৮ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২৮৬ রান, লিড বেড়ে দাড়িয়েছ ১৮০ রানে।










































