কেইউ স্টাডিজ জার্নালের মোড়ক উন্মোচন করলেন উপাচার্য
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (কেইউ) স্টাডিজ জার্নালের সদ্য প্রকাশিত ভলিউম ২১(১) (জানুয়ারি-জুন ২০২৪) এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো, রেজাউল করিম তাঁর কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এর মোড়ক উন্মোচন করেন। কেইউ স্টাডিজের সদ্য প্রকাশিত ভলিউম ২১(১) এ ৩০টি গবেষণা নিবন্ধ স্থান পেয়েছে। মোড়ক উন্মোচনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরন্নবী, কেইউ স্টাডিজের এডিটরিয়াল বোর্ডের এক্সিকিউটিভ এডিটর প্রফেসর ড. শেখ জামাল উদ্দিন, এডিটর প্রফেসর ড. মো. আজহারুল ইসলাম, জার্নাল মুদ্রণ কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মুজিবুর রহমান, সদস্য প্রফেসর ড. হায়দার আলী বিশ্বাস ও প্রফেসর ড. মো. ইয়ামিন কবীর এবং উপ-রেজিস্ট্রার বেগম সামছুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন। পরে কেইউ স্টাডিজ জার্নালের সদ্য প্রকাশিত ভলিউম এর কপি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশিদ খান এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এইচপিভি টিকা প্রদান বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরণী
খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান বিষয়ক অবহিতকরণসভা মঙ্গলবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একামেডির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল।
খুলনা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ ফিল্ড অফিসের চিফ মোঃ কাউসার হোসাইন, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আমেনা খানম ও জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মাহবুবা ফরহানা নাজনীন। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন দপ্তরের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
সভায় জানানো হয়, ২৪ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিভাগ ব্যতীত অন্য সাতটি বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভায় এ ক্যাম্পেইন চার সপ্তাহব্যাপী চলবে। এসময় পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি এর টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। নির্দিষ্ট বয়সী ও নির্ধারিত শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কিশোরীরা িি.িাধীবঢ়র.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টিকাকার্ড সংগ্রহ করতে পারবে। পরে ঐ কার্ড দেখিয়ে টিকার ডোজ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবছর বিশ্বে ছয় লাখ নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে প্রায় তিন লাখ ৪২ হাজার মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ নারীর ১১ জন জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। প্রতিবছর প্রায় চার হাজার ৯৭১ জন নারী এ রোগে মৃত্যুবরণ করে।
সভায় আরও জানানো হয়, প্রথম ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও স্থায়ী কেন্দ্রসমূহে টিকা প্রদান করা হবে। পরবর্তী আটদিন কমিউনিটির অস্থায়ী ও স্থায়ী কেন্দ্রসমূহে টিকা প্রদান করা হবে। এইচপিভি ক্যাম্পেইন শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলবে।
অবহিতকরণ সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গার্লস গাইড, স্কাউট, শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীরা অংশ নেন।
মোংলায় মাদ্রাসা সুপারকে অপসারণের দাবীতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় চৌরিডাঙ্গা আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে সরকারি বাজেটের টাকা ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা শেখ জালাল উদ্দিন নুরীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ফুঁসে উঠেছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। সুপারের অনিয়মে প্রতিবাদে ও অপসারণ দাবীতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের মাদ্রাসার মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তবে এ সময় মাদ্রাসায় সুপার উপস্থিত ছিলেন না। যদিও গত ৫আগষ্টের পর থেকেই রহস্যজনক কারণে নিয়ম করে মাদ্রাসায় আসেন না তিনি।
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সুপার শেখ মাওলানা জালাল উদ্দিন নুরী একজন দুর্নীতিবাজ। তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রাচীনতম এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মাত্র ৩৭জন। বছরের পর বছর ধরে তার অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি যা ইচ্ছা তা করে যাচ্ছেন।
তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। সে সব অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- মাদ্রাসা সুপার জালাল উদ্দিন মাদ্রাসায় সরকারি বাজেটের পাঁচ লাখ টাকা, মাদ্রাসার জমি লিজ দেওয়ার টাকা, ছাত্র-ছাত্রীদের দাখিল পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশনের টাকা ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া মাদ্রাসার জালনা-দরজা, পানির ট্যাংক, গাছ বিক্রি করা ও মাদ্রাসার পুরাতন ভবনের ইট নিয়ে নিজের বাড়ীতে নিয়ে রাখাসহ পুকুরের মাছ পর্যন্ত বিক্রি করে সেই টাকা নিজের পকেটে ভরেছেন।
তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগসহ সুনির্দিষ্ট আরও কিছু অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার তদন্ত এসে মাদ্রাসায় সুপারকে খুঁজে পায়নি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। অভিযুক্ত সুপার জালাল উদ্দিনের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্যও নিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এই সুপার জালাল উদ্দিন তাদের সরকারি টাকাও আত্মসাৎ করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাকে বেশ কিছু দিন ধরে তলব করেও তার বক্তব্য জানা যাচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন এলাকাবাসীও। তার স্বেচ্ছাচারিতার ফলে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বারবার। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার জালাল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি। #
মুরগীর ডিম-মাংসে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিপিআইএফ ও পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতি’র মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন
খবর বিজ্ঞপ্তি
মুরগীর ডিম-মাংস উৎপাদক-ভোক্তার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে ও অযৌক্তিক মূল্য তালিকা পুনঃ নির্ধারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবীতে বিপিআইএফ-এর খুলনা বিভাগীয় কমিটি ও খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতি’র উদ্যোগে ২২ অক্টোবর ’২৪ মঙ্গলবার সকল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কৃষি প্রধান বাংলাদেশের বিকশিত-উদীয়মান পোল্ট্রি শিল্প ক্ষুধা-দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসংস্থান ও স্বপ্লমূল্যে আমিষের যোগানদাতা হিসেবে প্রত্যক্ষ ৭০ লক্ষ ও পরোক্ষভাবে ০১ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহ ও তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা ও বিনিয়োগে সম্পূর্ণ বেসরাকারি উদ্যোগের ফসল পুষ্টিকর-নিরাপদ মুরগীর ডিম ও মাংস। খুলনা বিভাগ পূর্বে ডিম-মুরগী উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও বর্তমানে অন্যান্য এলাকা থেকে চাহিদা পূরণ করতে হয়। খুলনা জেলায় ৪৯৫২টি ছোট-বড় খামার হতে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডিমের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ পীচ। অপরদিকে ব্রয়লার, ফকরেল, সোনালী মুরগীর মাংস চাহিদা ১০০ মে. টনের বিপরীতে উৎপাদন হয় ৭০ মে. টন। অন্যদিকে দেশী-বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর সাথে অসম প্রতিযোগিতা ও তাদের ডিম-মুরগীর বাজার সিন্ডিকেটে ধরাশায়ী খামারীরা। এতে অনেক ক্ষুদ্র-মাঝারী খামারীরা অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছে। আবার সরকারও তাদের সাথে মিলে ডিম আমদানীর অনুমতি ও মূল্য নির্ধারণ করছে যা এ শিল্পের জন্য অশনি সংকেত।
দেশে ডিম, মুরগী, খাদ্য-বাচ্চাসহ সকল পর্যয়ে দেশি-বিদেশী কর্পোরেট কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়ায়-কমায়। এদের মধ্যে কাজী ফার্মস, প্যারাগন পোল্ট্রি, সি পি বাংলাদেশ, আফতাব বহুমুখী ফার্ম লিঃ, ডায়মন্ড এগ, সাগুনা, এসিআই, নীরিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী, নাহার এগ্রো অন্যতম। ডিমপাড়া লেয়ার মুরগীর বাচ্চা পাওয়া যায় না। যদিওবা পাওয়া যায় তা ৩-৪ মাস পরে ৯০-১০০ টাকা মূল্যে পাওয়া দুষ্কর। এছাড়া পশুখাদ্য-ওষুধের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র-মাঝারী খামারীরা সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষি বিপনন অধিদপ্তর কর্তৃক বেধে দেওয়া মূল্যে তাদের উৎপাদিত ডিম-মুরগী দিতে পারছে না। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ’২৪ কৃষি বিপনন অধিদপ্তর, পাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও দেশী-বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো প্রান্তিক ক্ষুদ্র-মাঝারী খামারীদের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকারিভাবে ডিম ও মুরগীর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেয়। এতে প্রতিটি ডিমে খামারী-উৎপাদক পর্যায়ে ১০.৫৮ টাকা, পাইকারী পর্যায়ে ১১.১ টাকা ও খুচরা ভোক্তা পর্যায়ে ১১.৮৭ টাকা। অপরদিকে ১ম ও ২য় দফায় ব্রয়লার মুরগীর খুচরা পর্যায়ে ১৭৯.৫৯ টাকা, সোনালী ২৬৯.৬৪ টাকা বেধে দিয়েছে। কিন্তু পাইকারা বেধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক বেশিতে ক্রয় করতে হচ্ছে বলে বেশি দামে বিক্রী করছে। বক্তব্যে আর বলা হয় খাদ্য-বাচ্চা-ওষুধের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ না করলে কোনো অবস্থায় ডিম-মুরগীর দাম কমার সম্ভাবনা নেই। সরকার ঘোষিত ডিম-মুরগীর মূল্য প্রান্তিক ক্ষুদ্র-মাঝারীদের জন্য পুনর্বিবেচনা করা আবশ্যক। এছাড়া ভারতের আমদানী করা ডিমের মূল্য কম হলে বাংলাদেশে বেশি হবে কেন ? সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জিজ্ঞাসাÑসরকারি নির্ধারিত মূল্যে খুলনায় ডিম-মুরগী পাওয়া যাচ্ছে না কেন?ি তার ব্যবস্থা না করে কোনো খুচরা-পাইকারী দোকানে মনিটারিং/পরিদর্শনের নামে জেল-জরিমানা হয়রাণিমূলক, অযৌক্তিক ও অমানবিক। খামারীরা ক্যাশমেমো না দেওয়া পর্যন্ত পাইকার-ব্যবসায়ীদের ক্যাশমেমোতে ক্রয়-বিক্রয় করবেন এটাই যুক্তিযুক্ত এবং এসব অভিযোগে ভোক্তা অধিদপ্তর প্রতিযোগিতা কমিশনসহ অন্যান্য সংস্থা উল্লিখিত সমস্যার গভীরে যেয়ে সমাধানের আহ্বান জানান। সরকারি মূল্যে ডিম-মুরগীর ব্যবস্থা করে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠিন কর্মসূচি গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।
এ সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতি’র সভাপতি আলহাজ্ব মাওঃ ইব্রাহিম ফয়জুল্লাহ, সহ-সভাপতি শেখ রেজানুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মামুনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তালুকদার মোঃ হেলালুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল হালিম, নির্বাহী সদস্য শাহ জাফর মাহমুদ মেহেতা, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ রাজা, মোটর সাইকেল মেকানিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ আইনুল হক, খুলনা ট্রেনিং রিহাইব্লিটেশন সেন্টার অব দি ব্লাইন্ড-এর সভাপতি মোঃ মোতালেব শেখ, আছিয়া-সাত্তার ইসলামি সমাজকল্যাণ পরিষদের পরিচালক এস এম তামজিদ হোসেন সৌরভ, খামারী মোঃ শাহজাহান, রবিউল ইসলাম নাদিম, ইম্প্রিয়াল চিকস-এর তৌহিদুজ্জামান তৈহিদ, ডিম ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ রানা, মোঃ মঞ্জু, মনোয়ার হোসেন, সাকিল আহমেদ, মোঃ রাসেল, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নূর হোসেন, মোঃ রাজিব হাওলাদার, মোঃ মোফাজ্জেল, মোঃ জামিল হোসেন রনি, আব্দুল মালেক, মোঃ ইয়াহিয়া মিণ্টু, মোঃ আসিফ খান, মোঃ সাগর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। “ছাত্র জনতার অঙ্গিকার, সড়ক হোক সবার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় শহরের পলাশপোলস্থ নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়।
সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ¦ মুহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ—সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়ে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবুল কালাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক চাকরির পয়গাম পত্রিকার সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বাংলাভিশন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শেখ মাসুদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম।
এ সময় বক্তারা সড়ককে নিরাপদ রাখতে শহরের রাস্তায় ডিভাইডার স্থাপন, বাস ও ট্রাক চালক, ইজিবাইক চালক ও ভ্যান চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সকল ইজিবাইকের ডান পাশে প্রটেকশন হিসেবে রড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ হাফিজুর আল মাহমুদ রিটু, দৈনিক কাফেলা পত্রিকার মোঃ ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার শেখ আব্দুল আলিম, উদিচি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, দৈনিক আমার বার্তা’র জেলা প্রতিনিধি মীর আবু বকর, সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা জেলা কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম সোহরাব হোসেন, জেলা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক বিকাল বার্তা’র এ এস এম শাহনেওয়াজ মাহমুদ রনি, সমাজকর্মী শেখ ফারুক হোসেন, সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম রবি, জি এম মোহাম্মাদ আলী, হাবিবুল্লাহ বাহার, চিকিৎসক মোঃ আবীর হোসেন লিয়ন, মোঃ অহিদুজ্জামান, মোঃ রুহুল আমিন, ব্যবসায়ী মোঃ আতিকুজ্জামান রিপন, মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন, মোঃ আব্দুল মজিদ, মোঃ ইকবাল হোসেন রাজা, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হক, শেখ মাগফুর রহমান জান্টু প্রমুখ। আলোচনা শেষে নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী প্রয়াত জাহানারা কাঞ্চনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ আবুল হোসেন।
খুলনায় এক লাখ চার হাজার ৭১ কিশোরীকে এইচপিভি টিকা দেয়া হবে
তথ্য বিবরণী
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩২ হাজার ৭৪৩ কিশোরীকে এবং খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় ৭১ হাজার তিনশত ২৮ কিশোরীকে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসকল তথ্য জানান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সভায় খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান এস এম হাবিব, মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা প্রমুখ বক্তৃতা করেন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদানের বিশদ বিষয় তুলে ধরেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুর রহমান সজীব।
সকালে একইস্থানে এইচপিভি বিষয়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
খুলনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের শোক সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ও দৈনিক আমার দেশ এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন বলেন, আজন্ম সংগ্রামী বিএফইউজে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী আমাদের জন্য ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ এনে দিয়ে গেছেন। কিন্তু দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা ঘাটি গেড়ে বসে আছে। গণমাধ্যম থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত আমাদেরকে গাজী ভাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় নগরীর ইকবাল নগরস্থ পূর্বাঞ্চল ডায়ালগ সেন্টারে খুলনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী স্মরণে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মো. আসাদ্দুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মু. আল-আমিন গোলদার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক কালের কন্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিন এবং মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ট্রেজারার দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানা। এতে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা এমরান হুসাইন, উপদেষ্টা মুন্সী মিজানুর রহমান ও মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রনেতা মো. রিয়াদুল ইসলাম বেলাল। এ সময় বক্তৃতা করেন ফাউন্ডেশনের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আসাদুজ্জামান, রূপসা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক খান আব্দুল জব্বার শিবলী, দৈনিক সংগ্রামের ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি মো. মঈন উদ্দিন, বটিয়াঘাটা সভাপতি মোহাব্বত আলি খান, কয়রা উপজেলা সভাপতি গোলাম রাব্বানী, পাইকগাছা উপজেলা সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, জাহিদুর রহমান প্রমুখ। কুরআল তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল মান্নান। এ সময় সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী ও শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
প্রধান অতিথি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনসহ সাংবাদিক নির্যাতনের নিন্দা জানান। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। তিনি সারা দেশে সরকারি গণমাধ্যমের নিয়োগে দীর্ঘ সূত্রিতা ও ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন অফিসে কর্মরত থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামী টিভি সহ ফ্যাসিবাদীরা মিডিয়া বন্ধ করে দিয়ে চরম স্বৈরাচারিতা দেখিয়েছিল। অবিলম্বে এ সব মিডিয়ার ক্সতিপুরণসহ চালু কররা দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতা এইচ এম আলাউদ্দিন বলেন, সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী ছিলেন নির্ভীক এবং নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ। তিনি সততা, বিশ্বস্ততা এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সাংবাদিক সমাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল সর্বাধিক এবং সর্বমহলে। তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী ছিলেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক। গত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের নির্যাতনের যাতাকলে নিস্পষিত হয়েছেন তিনি। তিনি ১৯ মাস কারাভোগ করেছেন। আপোষহীন এই সাংবাদিক নেতা আজীবন সংগ্রাম করে দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশের জীবন দিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক রানা বরেন, রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক হিসেবেই নন, বরং যোগ্য নেতা হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি দেশের গণমাধ্যমে সাহসী ভূমিকা এবং সাংবাদিকতা পেশায় অনন্য অবদান রেখেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য সবসময় কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংবাদ প্রকাশ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সবসময় কথা বলেছেন।
পাইকগাছায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিসচা সভাপতি এইচএম শফিউল ইসলামের সভাপতিত্বে ” ছাত্র জনতার অঙ্গীকার, নিরাপদ সড়ক হোক সবার ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন। সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ, ওসি অপারেশন রঞ্জন কুমার গাইন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, পৌর সদস্য সচিব মোস্তফা মোড়ল, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, উপাধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, প্রাক্তন অধ্যক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, সভাপতি জিএম শুকুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, নিসচা সিনিয়র সহ সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, এন ইসলাম সাগর, ফরিজুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, প্রভাষক এস রোহতাব উদ্দিন আহমেদ, সাকিব, তাহরুল, হারুন, মাজেদা খাতুন।
পাইকগাছায় পৃথক ৩ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ এর বাস্তবায়নে পরিচালিত পৃথক ৩ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ” সাইক্লোন এন্টিসিপেটরি এ্যাকশন প্রোগ্রাম “, ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর দি সাইক্লোন রিমেল এ্যাপেক্টেড পিপল ইন বরগুনা, খুলনা এন্ড পটুয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট ” ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিয়াকলাপ টেকসই জল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা ( ল্যান্ড ওয়াটার) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ওসি অপারেশন রঞ্জন কুমার গাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী শেখ, শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব, মেডিকেল অফিসার ইব্রাহিম গাজী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, সমাজ সেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর ঈমান উদ্দিন, উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহদাৎ হুসাইন, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জিএম বাবলুর রহমান, উপ সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ আকন, প্রাণকৃষ্ণ দাশ, প্যানেল চেয়ারম্যান বাবলু সরদার, পীযুষ কান্তি মন্ডল, সিপিবি টিম লিডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রকল্প সমন্বয়কারী ডেভিড অধিকারী, এরিয়া ম্যানেজার ইমরান মিয়।
রামপালে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে অবহিতকরণ সভা
রামপাল সংবাদদাতা
রামপালে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় এবং টিকা ক্যাম্পেইন বিষয়ক এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডাক্তার সুকান্ত কুমার পাল এর সভাপতিত্বে অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) একটি যৌনবাহিত ভাইরাস। এটি জননাঙ্গে আঁচিল (ওয়ার্টস) ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সৃষ্টি করে। দেশে শতকরা ৯৯ ভাগ জরায়ুমুখ ক্যান্সার এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। আজকের কিশোরী আগামী দিনের মা। তাদের সুস্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। অবহিতকরণ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাব রামপাল এর সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস (ই.পি.আই) কমলেশ কান্তি দাস, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ সেখ ওমর ফারুক, সাংবাদিক রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ ও মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ।
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রী অথবা ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের জন্য এই টিকা বিনামূল্যে এক ডোজ করে প্রদান করা হবে। এই টিকা কেবলমাত্র নিবন্ধনের মাধ্যমেই নিতে পারবেন। তার জন্য সরকারি িি.িাধীবঢ়র.মড়া.নফ এই ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, অসেচেতনার জন্য জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের লক্ষ্মণ অতিরিক্ত সাদা স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনিয়মিত রক্তস্রাব, শারীরিক মিলনের পর রক্তপাত, মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রক্তপাত এবং কোমর, তলপেট ও উরুতে ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি।
দাকোপে বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও কর্মপরিকল্পনার উপর কর্মশালা
দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপে বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং বাল্যবিবাহ কমাতে বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা বিয়ষক উপজেলা পর্যায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েয়ে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এবং নবযাত্রা প্রকল্প-২ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুরাইয়া সিদ্দীকার সভাপতিত্বে এবং নবযাত্রা প্রকল্প-২ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের হেলথ নিউটেশন সিস্টেম স্ট্রেন্দেনিং স্পেশালিস্ট স্টিফেন হেমবরম এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাল্যবিবাহের নানা কুফল পরিস্থিতি এবং বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসমত হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথির থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম,উপজেলা সমাহ সেবা কর্মকর্তা প্রজিত কুমার রায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুমন্ত কুমার পোদ্দার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পরিতোষ আউলিয়া,ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, অধ্যক্ষ অসীম কুমার থানদার,চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওঃ অজিহুর রহমান, দাকোপ প্রেসক্লাব সভাপতি গোবিন্দ বিশ^াস, নবযাত্রা প্রকল্প ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মোঃ আজিজুল হক, এ্যাড্রা বাংলাদেশ এর উপজেলা ম্যানেজার পল বাড়ৈ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোজ কান্তি রায়, চালনা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র হালদার,ইউপি চেয়ারম্যান মানস মুকুল রায়, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ, বিবাহ রেজিঃ কাজী ইমদাদুল হক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ শিপন ভূঁইয়া, ইউপি সচিব মোঃ ইমরান হোসেন, ইউপি সচিব প্রদীপ কুমার সাহা, ইউপি সচিব গোবিন্দ রায়, ইউপি সচিব সঞ্জিত বাকচি, ইউপি সদস্য মিন্টু গাজী, লিপি মন্ডল,এনজিও কর্মকর্তা ব্রোজেন্দ্র নাথ শীল,পংকজ রায় প্রমুখ।
বাগেরহাটে ৮০ হাজার কিশোরী পাচ্ছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
মানবদেহে বিভিন্ন প্রকার ক্যানসার হয়ে থাকে। এর কিছু বেশির ভাগ ক্যান্সার হওয়ার কারন যানা যায় না। তবে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে মানুষের শরীরের বাইরের জীবানুর মাধ্যমে হয়ে থাকে। বিশেষ করে যৌন সংক্রমনের মাধ্যমে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে। প্রতি বছর বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১ জন নারী মারা যায়। তথ্য অনুযায়ী এক লক্ষ নারীর মধ্যে ১১ জন এই ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে এই জরায়ুমুখের ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কারর হয়েছে, বর্তমানে সফলভাবে ইই টিকা কাজ করছে । বাংলাদেশর নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সারে ঝুঁকি কমাতে বর্তমান সরকার ৫ম শ্রেণির ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত কিশোরীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলায় প্রায় ৮০ হাজার কিশোরীরকে এই টিকা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ( ২২ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এই তথ্য জানান।
এসময়, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ রিয়াদুল জামান, ডাঃ রিয়াসত আজীমসহ গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেপিুটি সিভিল সার্জন আরও বলেন, এই টিকা প্রদানের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। আমাদের টিকাদানকর্মী প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে কিশোরীদের টিকা প্রদান করবে। জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সব শ্রেনির মানুষদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের আহবান জানান বক্তার।
টিকা গ্রহনের জন্য নির্দিষ্ট বয়সী ও নির্ধারিত শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কিশোরীরা িি.িাধীবঢ়র.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টিকাকার্ড সংগ্রহ করতে পারবে। পরে ঐ কার্ড দেখিয়ে টিকার ডোজ গ্রহণ করতে হবে। বাল্যবিবাহ, ঘনঘন সন্তান প্রসব, একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপায়ী, দুর্বলরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী, যে সকল নারী প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন নন এবং সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের অথবা স্বাস্থ্য কর্মীর পরামর্শ নেন না তাদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে বাগেরহাটে র্যালী ও আলোচনা সভা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
“ছাত্র জনতার অঙ্গীকার নিরাপদ সড়ক হোক সবার” এই প্রতিপাদ্যক সামনে রেখে বাগেরহাটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে শহরের পুরাতন পুলিশ লাইন এর সামনে থেকে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠন, বাগেরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে একটি র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাগেরহাট সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে কর্মসুচির উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ।
পরে বাগেরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বিআরটিএ বাগেরহাট সার্কেলের আয়োজনে নিরাপদ সড়কে করনীয় বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অরবিন্দ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ। সভায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক লাইলাতুল মাওয়া, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই, বাগেরহাটের সভাপতি আলী আকবর টুটুল, নিরাপদ সড়ক চাই‘র নেতা মাসুদুল হক, এইচ এম মইনুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সড়ককে নিরাপদ করতে সকলকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পথচারী যানবাহনের চালক সহ সড়ক ব্যবহারকারীদের সতর্ক হতে হবে। সড়কে চলাচলের সময় সকলকে আইন মেনে সতর্কভাবে যাতায়েত করতে হবে। সেই সাথে লাইসেন্স ছাড়া চালক ও ফিটনেস বিহীন যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের হুশিয়ারী দেন বক্তারা।
নাটকে ফুটে উঠল ভাঙ্গনকবলিত রোমজায়পুরবাসীর কষ্ট, বেরিবাঁধের দাবি
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বছর দুয়েক ধরে বাগেরহাটের মোংলা ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। ভাঙ্গনে রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের রোমজায়পুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের দুই কিলোমিটার জুড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, পাকা সড়ক, নানা স্থাপনাসহ চিংড়ি ঘের। অব্যাহত ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।ভাঙ্গন কবলিত রোমজায়পুর গ্রামবাসীর কষ্টের চিত্র মঞ্চনাটকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন কিছু তরুণ-তরুণী।নাটকের মাধ্যমে তারা কষ্টের বিষয়টি মানুষকে জানানোর পাশাপাশি বেরিবাঁধের দাবি করেন।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর)দুপুরে বাগেরহাট শহরের্ এসিলাহা মিলনায়তনে “নদীরতীরে, জীবনজ্বলে” শিরোনামে মানব উন্নয়ন সংস্থা ও এ্যাকশন এইডের সহযোগিতায় এই নাটক প্রদর্শন করা হয়। নাটক প্রদর্শণ শেষে টেকসই বেরিবাঁধের দাবিতে গনস্বাক্ষর গ্রহন করা হয়।
এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুনী। বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ ওমর ফারুক, মৎষ অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক রাজকুমার বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের উপ সহকারী প্রকৌশলী হোসনেয়ারা জামিল সুমানা, একশন এইড বাংলাদেশের ইন্সপাইরেটর সুইটি খানসহ রোমজায়পুরের গ্রামের তরুণ-তরুণীরা উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ-তরুণীরা জানান, ঘষিয়াখালী চ্যানেলের তীরের ভাঙ্গনে রোমজায়পুর গ্রাম এখন বিলীন হওয়ার পথে। ইতোমধ্যে কয়েকশ একর জমি ও বেশিকিছু ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এই গ্রামের বিপরীত পাশ দিয়ে একটি চর জেগেছে, চরটি মূলত এখন প্রভাবশালীদের দখলের রয়েছে। ওই চরটি খনন করে দিলে চ্যানেলের স্রোত ওই দিক দেয়ে গেলে এই গ্রামের ভাঙ্গন রোধ হওয়া সম্ভব। গ্রামটিকে রক্ষার জন্য অতিদ্রুত টেকসই বেরিবাঁধ নির্মানের দাবি জানান তারা।
রোমজায়পুর এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, ভৌগলিক কারণে রামপাল উপজেলা লবনাক্ত এলাকা । এরপরেও চিংড়ি চাষের অযুহাতে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে লবন পানি প্রবেশ করানো হয়। যার ফলে অনাবাদি থঅকে হাজার হাজার হেক্টর জমি।অপরিকল্পিতভাবে নদী ও খালে বাঁধ দেওয়া, প্লাবন ভূমি আটকে মাছ চাষ, রাস্তা ও বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো এবং নদীর মধ্য থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পেরিখালি ইউনিয়নের উড়ুবুনিয়া থেকে রোমজয়পুর পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হবে।
নাটক ও তরুন-তরুনীদের বক্তব্য শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুনী বলেন, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপালের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বেরিবাঁধ নেই। বেরিবাঁধ না থাকায় রোমজায়পুর এলাকাও খুবই ঝুকিপূর্ণ। সরেজমিন পরিদর্শন করে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মককর্তা।
কয়রায় আমাদী মহিলা সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা
কয়রা প্রতিনিধি
কয়রায় আমাদী মহিলা সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় আমাদী খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজের অডিটোরিয়ামে নবযাত্রা প্রকল্প-২ , ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগীতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমাদী মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি সরস্বতী দাশের সভাপতিত্বে ও সমিতির কোষাধ্যক্ষ সুরাইয়া খাতুনের সঞ্চলনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমবায় অফিসার তানভীর মাসুদুল হাসান, খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজের প্রভাষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, সমবায় অফিসের পরিদর্শক হাফিজ উদ্দীন, দীপন জোয়াদ্দার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার আশীষ কুমার, অপারেশন ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস, স্পেশালিষ্ট মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, অফিসার রায়হান শেখ, সমিতির সেক্রেটারী লিলি পারভীন, সদস্য রুমা, বেগম, রেহেনা পারভীন আকলিমা খাতুন প্রমুখ অনুষ্টানে সমিতির সভাপতি সরস্বতী দাশ তার বক্তব্যে বিগত বছরের যাবতীয় উন্নয়ন ও ২০২৪-২৫-এর বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ২২৩ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাসে সমর্থন দিয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
কয়রায় উত্তরনের প্রকল্প অবহিতকরন সভা
কয়রা প্রতিনিধি
কয়রায় ঘুর্নিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাবের মাঝে জরুরী সাহায্য সেবা প্রকল্পের অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা উত্তরন এই অবহিতকরন সভার আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও উত্তরনের এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান ইমনের পরিচালনায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সমির সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শরিফুল আলম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, সহকারি শিক্ষা অফিসার ইসলামুল হক মিটু, পল্লী বিদ্যুৎতের ডিজিএম মোঃ কাওছার রেজা, কয়রা সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষক জহুরুল হক,এস এম, কবির আহমেদ, বাজার কমিটির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলম,উত্তরনের প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার তানিয়া আক্তার প্রমুখ। অবহিতকরন সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক সহ সুশিল সমাজের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে শ্যামনগরে সাংবাদিক পুত্রের সংবাদ সম্মেলন
শ্যামনগর প্রতিনিধি
মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে শ্যামনগর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক পুত্র জয়নাল আবেদিন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সকাল ১০ টায় শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জি এম মোহাম্মদ আলীর পুত্র জয়নাল আবেদিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন গত ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের মামলা চলমান ঠিক সেই মুহুর্তে কে বা কাহারা শত্রুতামুলকভাবে তার পিতা জি এম মোহাম্মদ আলীর নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় মিথ্যা মামলা করেছেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদিন বলেন সাতক্ষীরার জেলার ভোমরা ইউনিয়নের ১০/০৭/২০১৪ ইং তারিখে অর্থাৎ বিগত দশ বছর পূর্বে বিএনপি নেতা মোঃ খলিল আহম্মেদ পিতা-মৃত আজগর আহম্মেদ, গ্রাম ভোমরা লক্ষী বাড়ী,সাতক্ষীরা নামে এক ব্যক্তি ক্রসফায়ারে নিহত হন।নিহতের ভাই মোঃ জাফর গাজী বাদী হয়ে কোটের মাধ্যমে ৬৬ জনের নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৫।তারিখ-১৭.০৯.২০২৪ইং। এই মামলায় কে বা কাহারা শুত্রুতা মুলকভাবে তার পিতা জি এম মোহাম্মদ আলী,পিতা-মৃত মোঃ দাউদ আলী গাজী, ঈশ্বারীপুর সাতক্ষীরাকে ৩৭ নং আসামী হিসাবে জড়িয়ে হয়রানী করেছেন। এঘটনায় তার পিতা ও পরিবারবর্গ মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলা থেকে নিস্কৃতি পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু সু দৃষ্টি কামনা করেছেন।
বটিয়াঘাটায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী-স্ত্রী রক্তাক্ত
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী-স্ত্রী রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এব্যাপারে ভূক্তোভগীদের পক্ষ থেকে সমীর মন্ডল গতকাল ২১ অক্টোবর সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভেন্নাবুনিয়া এলাকার বাদী সমর মন্ডলের পুত্র সমীর মন্ডল(৪০) ও তার স্ত্রী রনজিতা মন্ডল(৩১) এর সাথে বিবাদী একই এলাকার অনিমেষ মন্ডলের পুত্র অনিক মন্ডল (২৫) ও তার মা সাথী মন্ডল (৪২) এবং নারায়ন বৈরাগীর পুত্র লিটন বৈরাগী (৪০) ও তার স্ত্রী মিতালী বৈরাগীদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। তারাই ধারাবাহিকতায় গতপরশু সোমবার বিবাদীদের বাড়িতে হাঁস যাওয়ায় উক্ত হাঁস আটকিয়ে রেখে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা, দাঁ ও কাস্তে সহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে স্বামী ও স্ত্রীকে রক্তাক্ত জখম করে এবং স্ত্রী রনজিতাকে টেনে হেঁচড়ে মাটিতে পুঁতে জীবন নাসের চেষ্টা চেষ্টা চালায়। এসময় ১নং বিবাদী অনিক বাদীর স্ত্রী রনজিতার শরীরের বিভিন্ন স্থান গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ২ নং বিবাদী ও ৩ নং বিবাদী মিতালী মিলে রনজিতার কানে থাকা একজোড়া কানের দুল ও হাতে থাকা স্বর্ণের বাঁধানো শাঁখা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাদীদের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময়ে বিবাদীরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর স্ত্রী রনজিতা মন্ডলের শরীর থাকা বস্ত্র খুলে বস্ত্রহীন করে শ্লীলতাহানি ঘটায় বলে ভূক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে। এব্যাপারে ভূক্তভোগী রনজিত আরো জানিয়েছে বিবাদী অনিক ও লিটন মিলে বিভিন্ন সময়ে বাদীর স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে কুপ্রস্তাব দেয়ার পাশাপাশি প্রস্তাবে রাজি না হলে জীবনে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে আসছিল । এব্যাপারে ভূক্তভোগীরা বিবাদীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ।
ফকিরহাট সদরে ভোররাতে গনি মঞ্জিলে চুরি
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর এলাকায় ভোর রাতের দিকে আ: গনি মঞ্জিলের একটি ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।
বাড়ির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক জানান, মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোর রাতের কোন এক সময় ঘরের তালা ভেঙ্গে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি থেকে নগদ ২৫হাজার টাকাসহ স্বর্ণের দুটি রুলি, একটি চেন, একজোড়া কানের দুল, দুইটি আংটি ও দুইটি রুপার চুরি নিয়ে গেছে চক্রটি। এতে তার দেড়লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সময় ঐ ঘরে কেউ ছিলেন না বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানান।
ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে চুরির ঘটনা ও চোর শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্রয়লারের ডাবল সেঞ্চুরি, চালের বাজারেও উত্তাপ
দাকোপ প্রতিনিধি
নিত্যপণ্যের দামের আগুনে পুড়ছেন ক্রেতা। দাকোপ উপজেলার সকল বাজারে এখনও সরকার নির্ধারিত দামের থেকে বেশিতেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। এরমধ্যে আবার পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগি ও চালের দাম। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতার অস্বস্তি বাড়িয়েছে সবজি ও মাাছ। ব্রয়লার মুরগি ও চালের বাজারে আবারও উত্তাপ। সবজির বাজারও অস্থিতিশীল। উচ্চমূল্যের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। এমন পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চান তারা। আ। আকাশচুম্বী দামে ডিম যেন উঠছে না গরিবের পাতে! ‘সিন্ডিকেট’ কারসাজি করে দফায় দফায় বাড়িয়ে দেয়ায় ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তাতেও স্বস্থি নেই বাজারে। গত দুই সপ্তাহের মধ্য ডিমের ডজন সর্বোচ্চ দাম ঠেকে ১৮০ টাকা। এত দামের জন্য দায়ী কারা? প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতাদের দাবি, এখনও কারসাজি চলছে বাজারে। যদিও দাকোপের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ২০-২৫ টাকা কমে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, একদিনের ব্যবধানে যদি ডজনে ২০-৩০ টাকা কমে ডিম বিক্রি হয়, তখন বোঝাই যায় সিন্ডিকেট কাজ করছে। ডিমের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ব্যস্ত যখন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, তখন আবার বাড়ছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে ব্রয়লারের কেজি। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। এদিকে কোনোভাবেই কমছে না সবজির দর। প্রতিদিনই ওঠানামায় আছে করলা, শিমসহ সব ধরনের সবজির দাম। বেগুনের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটল ও ঢেড়স ঘুরপাক খাচ্ছে ৭০ টাকার আশপাশে। নতুন করে দামের উত্তাপ চালের বাজারেও। সাত দিনের ব্যবধানে বিআর-২৮ চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। কমতি নেই পাইজাম, মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দামেও। মাছের চড়া দরে নাকাল অবস্থা ক্রেতার, ২৫০-৪০০ টাকায় মিলবে এক কেজি রুই আর তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ির জন্য গুনতে হবে হাজার টাকা।
ডুমুরিয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই দিবস পালিত
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
“ছাত্র জনতার অঙ্গীকার, নিরাপদ সড়ক হোক সবার” এ প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে ডুমুরিয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনের উপজেলা শাখার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কে শোভাযাত্রা শেষে কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খান মহিদুল ইসলাম। খান আরিফুজ্জামান নয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, সাংবাদিক কাজী আবদুল্লাহ,মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ফজলুল করিম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা সরদার শরিফুল ইসলাম,শিক্ষক সরদার রাকিবুজ্জামান, সমাজসেবক শাহাজাহান জমাদ্দার, মনির হোসেন গোলদার,লিটন রহমান, জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রমূখ।
ফুলতলায় বিএনপি কর্মী জিকো হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা প্রিন্স গ্রেফতার
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
ফুলতলা থানা পুলিশ বিএনপি কর্মী শেখ সাজ্জাদুর রহমান জিকো হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ শহিদুল্লাহ (৪৫) কে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরন করে। তিনি ফুলতলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শেখ রওশন আলীর পুত্র ও গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি । ওসি মোহাম্মাদ হানিফ বলেন রোববার দিবাগত রাতে শহিদুল্লাহ প্রিন্স কে ফুলতলা বাজার এলাকা থেকে জিকো হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে গ্রেফতার ও পওে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই ২০২৪ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালী
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৪ , ছাত্র জনতার অঙ্গীকার ,নিরাপদ সড়ক হোক সবার , দেশব্যাপী র্যালি ও সমাবেশের অংশ হিসাবে গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টায় নিরাপদ সড়ক চাই খানজাহান আলী আলী থানা শাখার উদ্যোগে এবং গণসেবা সংস্থার সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও এক বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত। র্যালিটি শিরোমণি খুলনা যশোর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গনসেবা সংস্থার কার্যালয় এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খানজাহান আলী থানা নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি শেখ আব্দুস সালাম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এস এম দাউদ। নিসচার সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা লিমন হোসেনের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন মীনা মুরাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, এস এম ইলিয়াস হোসেন, খান জাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি শেখ বদর উদ্দিন, ইমদাদ হোসেন, বাহারুল আল মিলন, সিদ্দিক হোসেন, শাহিন সরদার, মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, সাগর শেখ, রানা শেখ, হুমায়ুন খান, বাচ্চু শেখ, শেখ আসলাম হোসেন, রিফাত, চঞ্চল, শেখ মাসুম বিল্লাহ, সিয়াম, তানভীর, শাহেদ আহমেদ সহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বটিয়াঘাটা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটা উপজেলার ২ নং বটিয়াঘাটা ইউনিয়নের বেন্নাবুনিয়া এলাকায় ২১/ ১০/ ২০২৪ তারিখ সকাল দশটায় বেন্নাবুনিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শুশীল মন্ডলের বড় মেয়ে সাথী মন্ডল (৪০) তিনি বলেন,” একই এলাকার সমির মন্ডলের বাড়ি যান।সমির মন্ডল এর হাঁস, মুরগী বাড়িতে এসে ক্ষতি করে বলে বেদে রাখতে বলায়, সমির মন্ডলের স্ত্রী বাসন্তি মন্ডল আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি তাদেরকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করি, বাসন্তী মন্ডল সমির মন্ডল কে নির্দেশ দেয় এবং খারাপ ভাষায় গালি দিয়ে বলে ওকে এমন জাগায মারবে যেন কাউকে দেখাতে না পারে। তখন সমীর মন্ডল কথা শোনা মাত্রই আমার উপর দেশি অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাশের লাঠি লোহার রড দিয়ে আমার বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি ভাবে মারতে থাকে এবং স্পর্শ কাতর স্থানে গুলোতে আঘাত করে।আমি তখন মাটিতে পড়ে গেলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাদার সঙ্গে চেপে ধরে। বাসন্তী মন্ডল আমার বাম কানের দুল ছিড়ে নেয়। আমার ছেলের গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যার আনুমানিক মূল্য ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। আমাদের আত্মচিৎকারে আমার বোন ও বোনের ছেলে সহ আশেপাশে এলাকার লোকজন এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে ।এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেই। বিগত আওয়ামি লীগ আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিভিন্ন নেতারা তার বাড়ি যাতায়াত করত সেই পাওয়ারে এলাকার লোকজনের সাথে সে খারাপ ব্যবহার করত। অনৈতিক কাজকর্ম চলত।সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার প্রতিবাদ করি বিধায় কোন উসিলা না পেয়ে আমাকে একা পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করে।আমার ছেলেকে বিভিন্ন মামলার হুমকি দেয়, আমার বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আওয়ামী লীগের আমলে নেতাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারেনি। আমরা সাধারণ এলাকাবাসী সহ সকলের সুস্থ তদন্ত ও এর উপযুক্ত একটি বিচার হয়।”
সাতক্ষীরা ৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিঃ মুকুলের জনসমাবেশ
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতায় সাতক্ষীরা ৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের র্যালি ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর’২৪) বিকালে র্যালি ও জনসমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকে দেবহাটা, আাশাশুনি ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নলতা কালীবাড়ি ওয়ালটন প্লাজার সামনে জড়ো হয়। পরে একত্রিত মিছিলটি প্রথমে যান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাতক্ষীরার প্রথম শহিদ দেবহাটার আস্কারপুরের সন্তান শহিদ আসিফের কবর জিয়ারত করতে। পরে মিছিলটি নলতা কালীবাড়ি ফিরে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়র আইয়ুব হোসেন মুকুলের পরিচিতি পর্ব ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও স্থানীয় নেতাকর্মীয় জনসমর্থকদের নিয়ে কালিবাড়ি হতে নলতা চৌমুহনী বাজার পর্যন্ত র্যালী শেষে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মোঃ রোকনুজ্জামান, সদস্য সচিব ছোটন, জাসাস এর আহ্বায়ক মুর্শিদ ও আশাশুনি স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ লিটন।জন সমাবেশ আরও উপস্থিত ছিলেন নলতা ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান, আহবায়ক ওসমান ও সদস্য সচিব হাবিবুল ইসলামসহ আরো অনেকে। জন সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল বলেন, আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল শহীদদের প্রতি, স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমানকে, আমি আপনাদের নেতা হতে আসি নাই আমি আপনাদের কর্মী হয়ে, সেবক হয়ে থাকতে চাই। সারা জীবন আপনাদের সুখে দুঃখে কাজ করতে চাই। আপনাদের এই ভালোবাসা আমি কখনো ভুলবো না। শহীদ আদর্শের যে কোনো নেতাকর্মী আমাকে স্মরণ করলেই পাশে পাবেন ইনশাআল্লাহ।
কালিগঞ্জে বিএনপির জনসভা ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করলেন ইফতেখার আলী
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় বিষ্ণুপুর, চাম্পাফুল ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে দক্ষীন শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জুলফিকার আলি সাঁপুই এর সভাপতিত্বে ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এম হাফিজুর রহমান শিমুল এর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সংগ্রামী আহবায়ক এ্যাডঃ সৈয়দ ইফতেখার আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির আহবায়ক শের এ আলী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ডাঃ শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, সন্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব এসএম মোতাহার হোসেন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শেখ আব্দুল করিম, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের নেতা জাফর ইকবাল বাবু। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জিএম রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব আজিজুর রহমান খান, যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান হাবিব, মোস্তফা মাহমুদ, গোলাম রসুল সরদার, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আল মাহমুদ ছট্টু, সদস্য সচিব মাহমুদ মোস্তফা, মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক কাজী ফজলুর রহমান, সদস্য সচিব কাজী মোফাজ্জেল হোসেন পলাশ, রতনপুর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সবুর, উপজেলা যুবদলের সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কাজী আবু সাঈদ সোহেল, তরুন দলের উপজেরা সেক্রেটারী আলতাপ হোসেন, তাতি দলের আহবায়ক শরীফ আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, শ্রমিক দলের আহবায়ক সেলিম প্রমুখ। সন্ধ্যার পরে বাশতলা বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। কালিগঞ্জ উপজেলা ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন এ্যাডঃ সৈয়দ ইফতেখার আলী বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে শেখ হাসিনা দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, ব্যাংকগুলো শেষ করে গেছে। পিলখানা ট্রাজিটি থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৫ই আগষ্ট পর্যন্ত বাংলার নিরীহ মানুষকে পাখির মত হত্যা করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম করেছে, গুলি করে হামলা করে পঙ্গু করেছে। আমরা দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ শান্তির, সমৃদ্ধির, বৈষম্যবিরোধী ও জনকল্যাণমুখী সরকার গঠন করবো ইনশাআল্লাহ। আমার নেতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে এজাতিকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। আমার ভোট আমি দিবো স্বাধীনভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবো। পছন্দের নেতা নির্বাচন করে সরকার গঠন করবো। তিনি আরও বলেন আমি এসেছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্র নায়ক, দেশ নায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে। এদেশ শান্তি সম্প্রিতির দেশ। একটি চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে ফায়দা লুটতে চায়। শহীদ জিয়ার গড়াদল বিএনপি শান্তি ও সম্প্রিতির জন্যে কাজ করে এবং আগামীতেও কাজ করবে। কালিগঞ্জে বিএনপির আহবায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ডাঃ শেখ শফিকুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে তৃনমুল পর্যায়ের মজবুত করতে হবে। আর আওয়ামীর সন্ত্রাসীরা এখনো বাড়াবাড়ি করলে রেহাই নেই। তাদের গড়া আয়নাঘরে তাদেরকেই পাঠানো হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভয়নগর উপজেলা শাখার মানববন্ধন
খবর বিজ্ঞপ্তি
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শাখার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে চারটায় অভয়নগর থানা গেটের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন অভয়নগর শাখার উপদেষ্টা আজীমুদ্দীন, উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি আবু রায়হান, সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা শাহাদাৎ হুসাইন, সেক্রেটারি মো আব্দুল করীম, পৌর শাখার সভাপতি মোঃ মোকাররম শেখ, সেক্রেটারি আখতারুজ্জামান পলাশ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এই মানববন্ধন থেকে বক্তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মাদক ও চোরাকারবারি, অবৈধ দখলদারিত্বসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব পালনের উদাও আহবান জানানো হয়।
খুলনায় বেলার নেটওয়ার্ক সমন্বয় সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনায় সুন্দরবন রয়েছে, রয়েছে নদী বন্দর কিন্তু নেই পরিবেশ আদালত। সারা দেশের মধ্যে ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটে পরিবেশ আদালত রয়েছে। খুলনায় নেই। কিন্তু পারিপার্শিকতায় খুলনায় পরিবেশ আদালত খুবই প্রয়োজন। এছাড়া যারা পরিবেশ ধ্বংস করছেন তারা কেউ না বুঝে আবার কেউ বুঝে করছেন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। এ জন্য ভূমি ব্যবহারে জোনিং নিয়ম চালু হলে যে কেউ যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারবে না। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরারো ভূমিকা রাখতে হবে। খুলনার অধিকাংশ নদ-নদী, খাল-বিল মৃত প্রায়। স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিল ডাকাতিয়া, ভুতিয়ার বিল আর ভবদহ যেন কৃষকের নিকট অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী গ্রামে জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠেছে ইশানা নন ওভেন নামের শিল্প কারখানা। এই শিল্পকারখানার মালিক এলাকার পরিবেশ নানাভাবে নস্ট করছে। দালালের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। বিষয়টি তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার সকালে খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) খুলনা বিভাগীয় নেটওয়ার্ক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। এ সময় অংশ গ্রহণকারীদের কাছ থেকে খুলনা বিভাগে নদ-নদী,খাল-বিল, কৃষি জমা ও পুকুর ভরাট, ইটভাটা, অপরিকল্পিত শিল্পায়নসহ ৩৪টি সমস্যা তুলে ধরা হয়। বেলা এসব সমস্যা সমাধানে নেটওয়ার্ক সদস্যদের নিয়ে এডভোকেসি, আন্দোলন প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক নেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। বক্তৃতা করেন সুজন জেলা কমিটির সম্পাদক এড. কুদরত ই খুদা, বেলার প্রোগ্রাম অফিসার এ এসএম মামুন, পিএমএস আঃ মতলেব সরদার, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ খুলনার সাঃ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ, বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, বেলার আসাদুল্লাহ গালিব, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মেরিনা যুথি, ছায়াবৃক্ষের মাহবুব আলম বাদশা প্রমূখ।
চুয়াডাঙ্গার সাবেক এমপি টগরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জামায়াতে ইসলামীর নেতার ছেলে রোকনুজ্জামানকে (২০) গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাবেক এমপি আলী আজগার টগর ও দামুড়হুদা মডেল থানার সাবেক ওসি সুকুমার বিশ্বাসসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত রোকনুজ্জামানের বাবা দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) আমলি আদালতে (২) মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বিচারক মো. মোস্তফা কামাল মামলাটি আমলে নিয়ে তা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন: দামুড়হুদা মডেল থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কে এম জাহাঙ্গীর, এসআই তপন কুমার নন্দী, শেখ রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল দিপু গাঙ্গুলি, খালিদ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, শফিউর রহমান, ফিরোজ ইকবাল এবং দর্শনার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মাসুম, আলীহিম, সুমন , রাজিব ও সজল।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোকনুজ্জামানের বাবা-মা ভিন্ন মতের অনুসারী হওয়ায় এমপি আলী আজগার টগরের ক্যাডার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে রোকনুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মেহেরপুরে বোমা সাদৃশ্য বস্তু চিরকুট ও কাফনের কাপড় উদ্ধার
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনীতে দুইটি বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কড়ুইগাছি গ্রামে সুমন আলী সমর (৩২) নামে এক ব্যক্তির রান্না ঘরের সামনে থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
সুমন আলী সমর উপজেলার কড়ুইগাছি গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে ও রায়পুর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক।
চিরকুটে মৃত্যুর জম পরিচয়ে ফেলে যাওয়া বোমা সদৃশ দুইটি বস্তু, কাফনের কাপড় ও দুই পাতা বিশিষ্ট চিরকুট এলাঙ্গী ক্যাম্পের এসআই রেজাউল হক উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী সুমন আলী সমর জানান, প্রায় দুই মাস বাহিরে ছিলাম। ১০ দিন আগে বাড়ি এসেছি। রাতের আঁধারে কে বা কারা এগুলো রেখে গেছে তা জানি না। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে আছে। আমি রাইপুর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কারণে এটা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাংনী থানা পুলিশের এলাঙ্গী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রেজাউল হক এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সকালে সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমন আলী সমরের রান্না ঘরের সামনে থেকে লাল টেপ দিয়ে জড়ানো দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও ১টি চিরকুট, একটি সাবান, আগরবাতি, গোলাপজল উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কাহারা এটা রেখে গেছে তার কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ মাঠে রয়েছেন। দলীয় কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষণে সবজি চাষিদের ১০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় লাভের আশা নিয়ে আগাম সবজি চাষ করে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ৩৩২ জন কৃষক। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এমন পরিস্থতিতে দাম সবজির বাজারে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারিভাবে অর্থিক সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানান কৃষকরা। তবে আগামী বোরো মৗসুমে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ।
কৃষকরা জানায়, সাতক্ষীরায় উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বড় একটি অংশ সরবরাহ হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। চলতি মাসে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে শীতকালীন সবজি ও আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের সবজি চাষি মো. ওসমান আলী গাজী ও জাকির হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতায় পচন ধরেছে বিভিন্ন সবজির গাছ ও চারায়। এদিকে মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি ক্ষেতের উপরে এখনও পানি থৈ থৈ করছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকার কৃষক আফসার আলী ও রকিব সরদার বলেন, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মৎস্য ঘেরের আইলে শীতকালীন সব সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারের সবজি ক্রেতা আমিনুর রহমান বলেন, সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ভারী বর্ষণে সাতক্ষীরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৩২ জন। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি আগামী বোরো মৗসুমে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছেন।
খুলনায় ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯ জনের মৃত্যু হলো।
হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার সুহাষ রঞ্জন হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা হলেন- খুলনার তেরখাদা উপজেলার আরজিনা (৩৫) ও বরিশালের ভান্ডারিয়া এলাকার লাভলু (৬৫)।
এর আগে ৬ অক্টোবর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু হয়।
সুহাষ রঞ্জন হালদার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত দুজন মারা গেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে ৭৯ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন।
ভোল পাল্টে যশোর সিভিল সার্জনের দাবি তার পরিবার ‘ডানপন্থি’
যশোর প্রতিনিধি
কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই বক্তব্যে তাকে আন্দোলনকারীদের ‘ফ্যাসিবাদী ও জঙ্গি’ আখ্যা দিতে দেখা গেছে। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি নিজেকে ‘ডানপন্থি’ হিসেবে পচিচয় দেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময়ে যশোর সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের বিরোধিতা করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে জেলার চিকিৎসক নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন তিনি। ওই বিক্ষোভ সমাবেশের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান আন্দোলনকারীদের ‘ফ্যাসিবাদী ও জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেন। দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে যে হত্যাযজ্ঞ-ভাঙচুর চালানো হয়েছে, এসব ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা জানান।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা কোটা আন্দোলনের প্রতিটা দাবি মেনে নিয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনের নামে এক দফা দাবি উঠিয়েছে। সেটা কখনো আমরা মেনে নিতে পারি না। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই শক্তিকে আমরা ঘৃণা করি। এই শক্তিকে আমরা প্রতিহত করবো।’ এসময় সব স্তরের চিকিৎসককে এক দফার দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
রিপন হোসেন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হাসিনার পতনের আগে জামায়াত-বিএনপি-ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী-জঙ্গি বলে এখন যশোরের গণঅধিকার আর কথিত সমন্বয়কদের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছেন আওয়ামী ডাক্তার যশোরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। কেন আহতরা চিকিৎসা পাচ্ছে না, কেন হাসপাতালগুলোতে এখনো নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে, এগুলোর কারণ আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম।’
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান স্বীকার করেন ভাইরাল হওয়া ভিডিও বক্তব্য তার নিজের। তিনি বলেন, ওইসময়ে আমাদের কিছুই করার ছিল না। ওই কর্মসূচিতে আমরা স্বেচ্ছায় যাইনি। তার পরিবার ডানপন্থি বলেও দাবি করেন তিনি।
ডিমপ্রতি এক টাকা বেশি নিয়ে জরিমানা গুনলেন ৮ হাজার টাকা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ডিমপ্রতি এক টাকা বেশি নিয়ে আট হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন দুই ডিম ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার স্টেশন বাজার ও হলবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর মধ্যে এক টাকা ২০ পয়সা বেশি নেওয়ায় সাব্বির হোসেনকে (৩৫) তিন হাজার এবং দেড় টাকা বেশি নেওয়ায় রবিউল ইসলামকে (৬৫) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কৃষি বিপণন আইন ১৮ (ক) ধারায় আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিরুল আরাফাত। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন কুমারখালী থানা পুলিশ।
বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকা ২০ পয়সা বেশিতে ডিম বিক্রির অপরাধে সাব্বিরকে তিন হাজার এবং দেড় টাকা বেশি দামে বিক্রির অপরাধে রবিউল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইবির সেই শিক্ষকের কুশপুতুল দাহ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ এনেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা তার কুশপুতুলে আগুন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিভাগটির শতাধিক শিক্ষার্থী বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে হাফিজুল ইসলামের ছবি সম্বলিত কুশপুতুল হাতে মিছিল করেন। তারা পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে কুশপুতুলে আগুন দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাফিজুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলতেন। তিনি পোশাক নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন। এছাড়া ছাত্রদের জোরপূর্বক সমকামিতায় বাধ্য করা, কথা না শুনলে মার্ক কম দেওয়া, মেয়েদের ব্যক্তিগত নম্বরে কল দিয়ে বিরক্ত করা, ফেক আইডি দিয়ে বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কথোপকথন করতেন।
এর আগে ৭ অক্টোবর এসব অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের কাছে তারা লিখিতভাবে ২৭ দফা অভিযোগ করেন ও মৌখিকভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন। অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দিতে মঙ্গলবার হাফিজুল ইসলাম ক্যাম্পাসে আসার কথা জানার পর শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেন। তবে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে ওই শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসেননি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
বিভাগটির শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা তাকে বিভাগ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হোক। তাকে যদি আজীবনের জন্য বরখাস্ত করা না হয়, আমাদের আন্দোলন-কর্মসূচি চলবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তদন্ত কাজে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে আমরা বাধা দিচ্ছি না। আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার প্রত্যেকটি অপকর্মের প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। তদন্তের মাধ্যমে তার এসব অভিযোগ অবশ্যই প্রমাণিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ওই শিক্ষকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ বলেন, অভিযোগ তদন্তে সোমবার আমরা কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়েছিলাম। আজ মঙ্গলবার বিভাগের শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলামের ক্যাম্পাসে আসার কথা থাকলেও তিনি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য আসেননি। তার সাক্ষাৎকার কীভাবে নেওয়া যায় আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো।
হলুদের মধ্যে মিললো চক পাউডার
মেহেরপুর প্রতিনিধি
হলুদের গুঁড়ার মধ্যে চক পাউডার পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ উপকরণটি মেলে মেহেরপুরের একটি মুদি দোকানে।
এ ঘটনায় গাংনীতে সাঈদ স্টোর নামে একটি দোকানে অভিযান চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারে হলুদে চক পাউডার পাওয়া যায়।
মেহেরপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীন জানান, নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে গাংনী বাজার থেকে মাছ, তেল, হলুদসহ খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যা পরীক্ষা করে হলুদের মধ্যে চক পাউডারের গুঁড়া এবং ফুটপাতের ফাস্ট ফুডের তেলের মধ্যে মেলে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার পোড়া তেল। এসময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তেল ও ২৫ কেজি হলুদ জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টিম সহযোগিতা করে।
শ্রমিকলীগ নেতার বাড়িতে বোমা সদৃশ বস্তু ও কাফনের কাপড় রেখে হুমকি
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কড়ুইগাছি গ্রামের শ্রমিকলীগ নেতা সুমন ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি বোমা সদৃশ বস্তু ও মরদেহ দাফনের সরঞ্জামসহ প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে এলাঙ্গী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল সেগুলো উদ্ধার করে।
রাইপুর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন ইসলাম গ্রামের ভিটা পাড়ার মোড়ে একটি কাপড়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন।
তিনি জানান, আজ সকালে তার বাড়ির রান্না ঘরের মধ্যে লাল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি বোমা সদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড়ের টুকরো, আগরবাতি, সাবান, গোলাপজল ও প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত হাতে লেখা একটি চিরকুট দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত চিরকুটে লেখা আছে, ‘দোকান খুলতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় গ্রাম ছাড়তে হবে।’
এ বিষয়ে গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না’
স্টাফ রিপোর্টার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে খুলনায় গণজমায়েত ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে তারা এই আন্দোলনের করেন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দোসর। তিনি কীভাবে রাষ্ট্রপতি পদে আছেন, আমরা জানতে চাই। ৫ আগস্ট তিনি বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র আমার কাছে আছে’। আর গতকাল বলেছেন, ‘আমার কাছে নেই’। তিনি এভাবে দুরকম কথা বলার পরও কীভাবে এতো বড় একটা পদে বসে থাকেন? এমন অনেক ব্যক্তি বড় বড় পদে বসে আছেন, তাদের সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি যে পর্যন্ত তার পদ থেকে পদত্যাগ না করবেন সে পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাব না।
তারা বলেন, আমাদের এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা এখনও রক্ষা করতে পারিনি। ছাত্র-জনতা এক হলে সুন্দরভাবে দেশটা পরিচালনা করা যাবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনার সমন্বয়ক ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহিব্বুল্লাহ বলেন, বিপ্লবের বজ্রাঘাতে পতন হয়, পদত্যাগ নয়। কিন্তু বিনা ভোটের সরকারের তৈরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আজকে পলাতক হাসিনার পদত্যাগপত্র খুঁজতে উদগ্রীব। যে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গেছে তার আবার কীসের পদত্যাগপত্র। চুপ্পু সাহেব হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে জাতির সঙ্গে চরম মিথ্যাচার করেছেন। এই মিথ্যাচারের কোনো ক্ষমা হয় না। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে আহ্বান জানাবো স্বৈরাচারের তৈরি মিথ্যাবাদী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পাঁয়তারা করছে। তাদেরকে বাংলার ছাত্র-জনতা রক্তের বিনিময়ে একবার তাদের উৎখাত করেছে। প্রয়োজনে বাংলার ছাত্র-জনতা আবারও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে। সুতরাং অতিদ্রুত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করে বাংলার বুকে তাদের কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।’
তবে সম্প্রতি মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এসংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়ত সময় পাননি।’ এরপর নতুন করে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সরকার পতনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজ।
ঝিনাইদহে ১৬৩ শতক জমির পান গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশাটিয়া ইউনিয়নের কেসমত ঘোড়াগাছা গ্রামে তিন কৃষকের ১৬৩ শতক জমির পান বরজ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২১ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। কৃষকদের দাবি, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পান, কলা, পটলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষতি করে আসছে দুর্বৃত্তরা।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার কেসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ, সারি সারি পানক্ষেত। তার ও শোলা দিয়ে ঘিরে রাখা পানক্ষেতের ভেতরে দেখা যায়, খণ্ড খণ্ড পানক্ষেতের পান গাছের গোড়া থেকে সব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। কৃষকেরা উপড়ে ফেলা পান গাছগুলো মেরামত করার চেষ্টা করছে। কিছু কিছু পান গাছ মরে শুকিয়ে গেছে। আবার নতুন করে উপড়ে ফেলা গাছগুলো থেকে পান নষ্ট হওয়ার আগ থেকেই কিছু পান সংগ্রহ করা হচ্ছে। পানচাষিদের যে ক্ষতি হয়েছে দুই-এক বছরের মধ্যে সেই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ওই মাঠে ১৬৩ শতক পানক্ষেত নষ্ট হয়েছে, যা টাকার পরিমাণে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, হরিণাকুন্ডুতে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করেন কৃষকেরা। এই উপজেলার পান খুবই সুস্বাদু। যার কারণে সারা দেশে এই পানের চাহিদা অনেক। আবার কিছু বাছাইকৃত পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। উপজেলার কাপাশাটিয়া ইউনিয়নের কেসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে দুর্বৃত্তরা কৃষকের পান বরজের ক্ষতি করে আসছে। এতে করে পানচাষিরা আর্থিকভাবে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি লিটন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০১১ সাল থেকে পান চাষ করি। এর আগে কখনো আমার পান বরজে কোনো ক্ষতি হয়নি। আমাদের মাঠে কলা, পান, পটল ও বেগুন ক্ষেত কেটে দিত দুর্বৃত্তরা। এবার আমাদের পান গাছ উপড়ে দিয়েছে। গত এক মাস ধরে আমারসহ ছয়জন পানচাষির ৮ বিঘার জমির উপর পান গাছ উপড়ে দিয়েছে। আমার নিজের প্রথমে ৩৬ শতক জমির পান গাছ উপড়ে দেয়, এক সপ্তাহ পর ২০ শতক জমির পান উপড়ে দিয়েছে। আজ আবার আমার ছোট ভাইয়ের ১৮ শতক এবং আমার ১৯ শতক জমির পান গাছ উপড়ে দিয়েছে। কে বা কারা এই পান গাছ উপড়ে দেয়, আমরা আবার অনেক কষ্ট করে সেই গাছ ঠিক করার পর আবারও উপড়ে দিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল আমরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পান বরজ পাহারা দিয়ে বাড়ি গেছি। সকালে মাঠে এসে দেখি পান গাছের গোড়া থেকে সব উপড়ে ফেলেছে। দুই-তিন বছরের মধ্যে টাকার অঙ্কে প্রায় ৭২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। গাছ উপড়ে দেওয়ার পর গাছে যে পান আছে বর্তমান বাজারে সেগুলো অর্ধেক দামে ৫০ টাকা পোন (৮০ পিস পানে এক পোন) দরে বিক্রয় করতে হবে। অথচ এই পান দুই মাস পর বিক্রয় করতে পারলে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রয় করা যেত।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিল্টন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গতকাল সারাদিন বরজে কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়িতে গেছি। আমার কাজ মাঠে পান বরজে কাজ করা আর নামাজ পড়া। আজ সকালে মাঠে এসে দেখি পানের পাতা নেতিয়ে গেছে। পরে দেখি কে বা কারা পান গাছের গোড়া থেকে সব গাছ উপড়ে দিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। কারও সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতাও নেই। তাহলে কেন আমার এমন ক্ষতি করলো। এর আগে আমার ভাইদের পান গাছ উপড়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ইউনিয়ন পরিষদেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলাতেও জানানো হয়েছে তবুও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ১৫/১৬ বছর ধরে আমাদের মাঠে এই ধরনের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু আজও ধরা পড়েনি কে বা কারা এসব করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক হিটলার বলেন, কেসমত ঘোড়াগাছা গ্রামের মাঠে ৩৫ শতক জমিতে পানের আবাদ করেছি। সন্তানের মতো করে পান ক্ষেত যত্ন করে রেখেছি, সামনের সিজনে ভালো দাম পাব বলে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে পাশাপাশি সব বরজের পান উপড়ে দিয়েছে। আমার ক্ষেতবোঝাই পান, ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার পান ছিল বরজে। সেই পান গাছ সব উপড়ে দিয়েছে। কারা এই কাজগুলো করে তা আজও ধরতে পারিনি। এই নিয়ে হরিণাকুন্ডু থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। আমাদের দাবি এই কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, যারা কৃষকের বরজের পান গাছ উপড়ে দিয়েছে তারা দুর্বৃত্তকারী। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকলে আমার দপ্তর তার পাশে থাকবে। আইনগত সহায়তার জন্য থানায় অভিযোগ করলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব। এ ছাড়া বরজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পুনরায় চারা রোপণ করতে পারলে হয়ত কিছুটা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়াউর রহমান বলেন, কৃষকের পান বরজের গাছ উপড়ে ফেলা খুবই দুঃখজনক। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী কৃষকরা আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। কৃষকরা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঝিনাইদহে আদালতে ৭২ সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জিপি ও পিপি হিসেবে ৭২ জনকে সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার (২০ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে ঝিনাইদহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া এক চিঠিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও এর অধীন আদালতে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে পূর্বে নিয়োগকৃত সব আইন কর্মকর্তার নিয়োগাদেশ বাতিল করে নতুনভাবে ৭২ জন সরকারি আইন কর্মকর্তাকে নিয়োগ আদেশ দেওয়া হয়।
হাতে আসা ওই চিঠিতে দেখা যায়, উপ সলিসিটর (জিপি-পিপি) সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত নিয়োগাদেশে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সততা সম্পর্কে জেলার জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারা এবং দ্য লিগ্যাল রিমেমব্রেন্সার্স ম্যানুয়াল, ১৯৬০ এর ২ নম্বর অধ্যায়ের ১ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধি ৯ এবং ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধি ১৭ এর বিধান মতে তাদের নামের বিপরীতে উল্লেখকৃত পদে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) মো. মোকাররম হোসেন টুলু, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম মশিয়ুর রহমান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ইশারত হোসেন খোকন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এডিশোনাল জিপি) হিসেবে মো. শফিউল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে দেখা যায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আটজন ও জেলা জজ আদালতে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি হিসেব নয়জনকে এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে ৫১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আলা উদ্দীন (আজাদ) ঢাকা পোস্টকে বলেন, পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সততা সম্পর্কে আমাদের বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিজ্ঞ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশোনাল পিপি) মো. আকিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার আমাদের যাচাই বাছাই করে নিরপেক্ষ লোক দেখে নিয়োগ দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো সাধারণ জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি, ভোগান্তিতে না পড়েন। তারা যেন আইনের সঠিক চিবার পান সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাব এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।
দাকোপে বাজার মূল্য পর্যাবেক্ষন, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রন কমিটির সভা
দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপে বাজার মূল্য পর্যাবেক্ষন, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রন কমিটির সভা মঙ্গলবার (২২ অক্টোকার ) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে বাজার মূল্য পর্যাবেক্ষন, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসমত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উক্ত কমিটির সদস্য সচিব অনিন্দ কুমার দাশ এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ যুবায়ের জাহাঙ্গীর, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান, চালনা খাদ্য গুদাম এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিবাকর দেবনাথ, দাকোপ ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোবিন্দ বিশ^াস, চালনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম কুমার সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিমাই সাহা, বাজুয়া বাজার সমিতির সভাপতি, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক প্রমূখ। সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে চালনা বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালানো হয়।
মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
খুলনা মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা গতকাল সকাল সারে ১১টায় মহাবিদ্যালয়রে কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ বদরুল আলম এর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র প্রভাষক মোঃ আব্দুল রশিদ মোড়ল এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ শেখ শরিফুল আলম, বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের বিদোৎসাহী সদস্য অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী নেহিবুল হাসান, সাবেক বিদোৎসাহী সদস্য এস এম সেলিম বাচ্চু, সাবেক কাউন্সিলর শেখ কামরুজ্জামান, খান জাহান আলী থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মামুন মোল্লা, সাংবাদিক আলমগীর খান, সাংবাদিক আকাশ। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শরীরচর্চা শিক্ষক মনির হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি শাহিনা সুলতানা, জীববিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর হক। বক্তারা বলেন সাবেক হুইপ সৈয়দ আশরাফ ১৯৯১ সালে মহাবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণের কারণে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মহাবিদ্যালয়টি বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় করণের দাবি জানালেও নামের কারণে তা পিছিয়ে যায়।এ সময় শিক্ষকরা এডহক কমিটির সভাপতি কাছে পানি ব্যবস্থাপনা স্যানেটারি ব্যবস্থাপনা ও মাঠ সংস্কারের দাবি জানান। এডহক কমিটির সভাপতি বলেন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করার জন্য ও কলেজে উন্নয়নের জন্য সর্বদা আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে সকলের সহযোগীতা পেলে কলেজটি একটি মডেল কলেজ হিসেবে সুনাম অর্জন করবে।
দামুড়হুদায় রাষ্ট্রপতি ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গণজমায়েত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদায় রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর পদত্যাগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিপ্লবী ছাত্র জনতার উদ্যোগে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় দামুড়হুদা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দামুড়হুদার উদ্যোগে বিপ্লবী ছাত্র জনতার গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।গণজমায়েতে উপস্থিত বক্তারা, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারের দোসর ও গণহত্যার প্রতিবাদে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।
এসময় দামুড়হুদা উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ শতাধিক শিক্ষার্থী গণজমায়েতে অংশগ্রহণ করেন।
কালিগঞ্জে শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের পদত্যাগের ও শাস্তির দাবীতে ১ ঘন্টা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয় তা। ঘটনাটি মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ মহাসড়কের সাদপুর ব্রীজের উপরে ঘটেছে। এসময়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বক্তব্যে বলেন নিয়োগের নামে স্কুলের ৬ জন শিক্ষক ও স্টাফের নিকট থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকাসহ প্রতিষ্ঠানের বিবিধ খাতের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ছাত্রীদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ এবং দীর্ঘ ১৫ বছর স্কুল ফাঁকি দিয়ে আওয়ামীলীগের সভা সমাবেশ করে কাটিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। তাকে দ্রুত বরখাস্ত করার দাবী জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, নিয়োগ বানিজ্যের টাকা স্ব স্ব ব্যাক্তিকে ফেরত এবং সরকারী সম্পত্তি তসরুপের প্রতিকারসহ লম্পট শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা এখন সময়ের দাবী বলে জানান। বিক্ষোভ চলাকালে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ও থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আলোচনায় বসার আহবানে সাড়া দিয়ে সড়ক থেকে বিক্ষুব্ধরা স্কুলে যায়। সেখানেই তাদের দাবী তুলে ধরে।
খাটর রামানন্দ কাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৬০ লাখ টাকার দূর্নীতির অভিযোগ
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার খাটর রামানন্দ কাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে কাজী শামিনুল ইসলাম দোলন শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাটর রামানন্দ কাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সাবেক সভাপতি আ: ছাত্তার লঙ্কার ও প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর সমন্বয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতিসহ নানা প্রকার অপকর্ম করেছেন। বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়ে ৫৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকার মালামাল যেমন-রড ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, ফ্যান-১৭ পিচ, বিদ্যালয়ের মূল ফটকের গেইট সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে দিয়েছেন । অভিযোগ কারী বিষয়টি সু-বিবেচনায় নিয়ে সঠিক তদন্ত পূর্বক বিদ্যালয় এর দুর্নীতি গ্রস্থকারীদের আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার অনুরোধ করেন। ২০ অক্টোবর বিকাল ৪ টার সময়ে এবিষয়ে খাটর রামানন্দ কাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল সাত্তার লস্কার জানান, এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সব মিথ্যা অভিযোগ আমি কোন কিছুই জানি না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, নিয়োগ বাণিজ্য বিষয় সম্পর্কে আমি কিছু জানি না এটা সাবেক সভাপতি আব্দুর সাত্তার লস্কর জানান এবং রডের বিষয় সত্য নয়, ফ্যান স্কুলে আছে এবং প্রধান গেটের রড নিয়ম মেনে ৮১০০ টাকা বিক্রি করা হয়ে ছিলো। শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা মমতাজ বলেন, লিখিত অভিযোগ এর তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগটি শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দিতে হবে।
ভিক্ষাবৃত্তির হাতিয়ার হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করছে ভিক্ষুকরা
দাকোপ প্রতিনিধি
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধ্বগতির ফলে জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষের। সংসারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে। তবে কেউ কেউ আবার সহজ আয়ের মাধ্যম হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকেই মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে সময়ের ব্যবধানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অধিক আয়ের আশায় হাতিয়ার হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করছেন মোংলার দিগরাজে অনেক ভিক্ষুক। শিশু আইন- ২০১৩ অনুসারে, কোনও ব্যক্তি যদি শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন, বা শিশুকে দিয়ে ভিক্ষা করান, অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশোনায় নিয়োজিত কোনও ব্যক্তি শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান বা প্রদান করেন, তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শিশুদের ভিক্ষা বন্ধে এ ধরনের কঠোর আইন থাকলেও আইনের বাস্তবায়ন না থাকায় প্রকাশ্যে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ভিক্ষুক পুর্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমান টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও এখনো সম্পন্ন হয়নি ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কমংসংস্থান কার্যক্রম। তহবিলের অল্প কিছু টাকা ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ টাকাই এখনও ব্যাংকে পড়ে রয়েছে । ভিক্ষুকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়লেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন ভিক্ষুকদের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিরা। জেলায় কি পরিমাণ ভিক্ষুক রয়েছে এবং এদের মধ্যে কতজন স্থায়ী বাসিন্দা, কতজন অন্য জেলা থেকে দিগরাজে এসে ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত রয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যানও নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।শুক্রবার (১৮) অক্টোবর দিগরাজ ব্যাংক রোড জামে মসজিদে জুমআ’র নামাজ শেষে ল মসজিদের সামনে দেখা যায়, দশ-বারো জন ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই নারী। তাদের সাথে রয়েছে নানাবয়সী শিশুরাও। দিগরাজ এলাকার মতই বাসস্ট্যান্ড, সদর হাসপাতাল,মোংলা বন্দরের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের সামনে একই চিত্র দেখা যায়। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে বাসস্ট্যান্ডে, ফুটপাতে অসংখ্য ভিক্ষুকের দেখা মিলে। সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুকের দেখা মিলে বৃহস্পতিবার ও রবিবার । ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে কোন কোন ভিক্ষুক বলছে, শারীরিক অক্ষমতা, অভাব-অনটন, পরিবারের অসুস্থ সদস্য, সহায় সম্বলহীন এবং পরিবারে কোনো কর্মক্ষম সদস্য না থাকা। কেউবা বলছে সন্তানরা দেখাশুনা করেনা। আবার কেউ কেউ বলছে স্বামী কোন খোঁজখবর নেয়না। আবার অনেকেই জানিয়েছেন, সন্তানরা যে টাকা আয় করে তা দিয়ে তাদেরই সংসার চলে না, তাই বাধ্য হয়েই ভিক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। ভিক্ষাবৃত্তির সময় শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে ভিক্ষুকরা জানান, ছোট ছোট বাচ্চাদের বাসায় কারো কাছে রেখে আসার মত লোক নেই। অনেকে আবার সাথে বাচ্চা দেখলে মায়া করে টাকা-পয়সা একটু বেশি দেয়। তাই বাচ্চাদের সাথে নিয়েই ভিক্ষা করেন তারা। দিগরাজ বাজার এলাকার সামনে তিনটি শিশু বাচ্চাকে সাথে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির সময় আকলিমা আক্তার নামের এক ভিক্ষুকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আকলিমা আক্তার জানান, তার তিন বাচ্চার মধ্যে সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স দেড় বছর, মেজো সন্তানের চার বছর এবং বড়টির বয়স সাত বছর। ঘরে স্বামী অসুস্থ থাকায় শিশু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। চার বছর বয়সী আরেক শিশুকে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করতে আসা মুক্তা আক্তার নামের আরেক ভিক্ষুক জানান, অন্যের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করার পাশাপাশি ভিক্ষা করেন তিনি। ঝিয়ের কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলেনা। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। আয়শা নামের আরেক নারী ভিক্ষুকের সাথেও দুইটি শিশুকে দেখা যায়। শিশুদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশু দুইটি আমার বাচ্চা। একজনের বয়স চার বছর এবং আরেকটির বয়স দশ বছর। শিশুদের নিয়ে এভাবে ভিক্ষাবৃত্তির ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা করে খাই। আমাদের আবার ভবিষ্যৎ কীসের? দিগরাজ সড়কে ভিক্ষাবৃত্তির সময় লাকী নামের এক নারী জানান, তাদের স্থায় বাড়ি নাটোরে। গোনাই ব্রিজ এলাকায় ভাড়া থাকেন তিনি। স্বামী নেই, ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনরকমে তিন সন্তানকে নিয়ে জীবনযাপন করেন তিনি। দিগরাজের বিভিন্ন দোকানী ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনই অনেক ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। ভিক্ষুকদের অধিকাংশই নারী। দোকান খোলার পর থেকে রাত পর্যন্ত ভিক্ষুকেরা দলবেধে দোকানে দোকানে এসে ভিক্ষা করে। তবে বৃহস্পতিবার হলে ভিক্ষুকের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। আর শুক্রবারে এসব ভিক্ষুকরা বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভীড় করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে এলাকার অনেকেই বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো কোনভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসনের উচিৎ এই কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় আনা। আর শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদেরকে প্রশাসনিক সহায়তায় আয়-রোজগারের জন্য স্থায়ী কোন ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন। এ ব্যাপারে মোংলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য কয়েকবছর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ ভিক্ষুকদের তালিকা করে কিছু কিছু ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল। আর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থের বিষয়টি ডিসি অফিসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। তবে শিশু ভিক্ষুকের বিষয়টি তদারকি করে এবং তালিকা প্রস্তত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।










































