Home স্বাস্থ্য হাঁটুব্যথা প্রতিরোধেরও আছে নানা উপায়

হাঁটুব্যথা প্রতিরোধেরও আছে নানা উপায়

28


ডা. মো. সাইদুর রহমান।।

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি হলো হাঁটু, যা শরীরের শুধু ওজনই বহন করে না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে, দৌড়াতে, এমনকি আমাদের বসতেও সাহায্য করে। নাবালক থেকে বৃদ্ধ- সব বয়সী যে কেউ হাঁটুব্যথায় ভুগতে পারেন। হাঁটুর ব্যথা অবহেলার বিষয় নয়।

হাঁটুব্যথার কারণ : বয়সজনিত, যেমন- হাঁটুর হাড়, তরুণাস্থিসহ বিভিন্ন গাঠনিক পরিবর্তন; বাতব্যথা; আঘাতজনিত, যেমন- হাঁটুর পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান বা চাপ খেলে বা লিগামেন্ট ছিড়ে গেলে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হলে; জীবাণুর সংক্রমণজনিত; ক্রিস্টাল বা স্ফটিক জাতীয় পদার্থের অস্বাভাবিক উপস্থিতি ও তার প্রভাব; কোমরের সমস্যাজনিত ব্যথা হাঁটুতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লে; সঠিক দেহভঙ্গির অভাবে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ। অন্যান্য রোগ, যেমন- টিউবারকিউলোসিস, হিমোফিলিয়া, ক্যানসার ইত্যাদি।

উপসর্গ : হাঁটুব্যথা, হাঁটু ফুলে থাকা, ভাঁজ করতে কষ্ট হওয়া, বসা থেকে দাঁড়ানো ও দাঁড়ানো থেকে বসতে কষ্ট হওয়া, হাঁটু পুরোপুরি সোজা করতে অক্ষম ইত্যাদি।

ঝুঁকিতে যারা : নাবালক থেকে বয়োবৃদ্ধ, যারা হাঁটুর ব্যবহার করেন প্রচুর। পঞ্চাশোর্ধ প্রায় সবাই (তবে ঝুঁকিতে নারীরা একটু বেশি থাকেন)। শারীরিক স্থূলতা। দীর্ঘ দূরত্বে দৌড়ানো, কম শারীরিক নড়াচড়া। সাধারণ তাপমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় কাজ করা মানুষ।

চিকিৎসা : হাঁটুব্যথার জন্য সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য ক্লিনিকাল পরীক্ষার পাশাপাশি ল্যাবরেটরি বা প্যাথলোজিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন চিকিৎসা এ ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। ফিজিক্যাল এজেন্টের ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে অনেকাংশেই ভালো থাকা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসাও দেওয়া হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হাঁটু রিপ্লেসমেন্টেরও প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে চলাফেরায় হাঁটুতে বাহ্যিক চিকিৎসা সেবা হিসেবে হাঁটুবন্ধনী বা ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাঁটুব্যথা প্রতিরোধ করবেন যেভাবে : চলাফেরা করার সময় সমতল রাস্তা ব্যবহার করুন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করবেন না। করলে টুলে পা রেখে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিন। একটু চেয়ারে বসে নেবেন। সাময়িক সময়ের জন্য হাঁটাচলা করবেন। বহুতল ভবনে ওঠানামার সময় লিফট ব্যবহার করুন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ভালো পা (ব্যথাবিহীন হাঁটু), নামার সময় অন্য পা আগে ব্যবহার করুন। দীর্ঘ উচ্চতার সিঁড়ি ব্যবহারকালে বিরতি নিয়ে উঠুন। অযথা সিঁড়ি ব্যবহার করবেন না। উঁচু হিলের জুতা পরিহার করুন। সতর্ক হয়ে হাঁটুন। প্রয়োজনে ওয়াকিং এইড ব্যবহার করুন। সতর্কতার সঙ্গে ভারী কাজ করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিদিন কিছু সময় সূর্যের আলোয় থাকুন। ক্যালসিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-ই, কোলাজেন ও বিভিন্ন খনিজ লবণসমৃদ্ধ খাবার খাবেন। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। উঁচু কমোড ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ কনসালট্যান্ট

রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ফিনিক্স টাওয়ার, তেজগাঁও, ঢাকা। ০১৭১৬৪৫৩২০৫

হাঁটুব্যথারোগচিকিৎসাচিকিৎসক