Home খেলাধুলা ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘চোকার্স’ বলা হয় কেন

ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘চোকার্স’ বলা হয় কেন

35


স্পোর্টস ডেস্ক

টুর্নামেন্টে ফেবারিট হয়ে খেলতে গিয়ে দাপুটে শুরু। এরপর নকআউট পর্বে এসে বিপর্যয়। এক-দুবার নয়, ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বহুবার। তাইতো তাদের নামের সঙ্গে জুটেছে ‘চোকার্স’ অপবাদ। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই অপবাদ ঘোচানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ ছিল প্রোটিয়াদের। তবে এবারও অসফল তারা। বাগে পেয়েও ভারতের কাছে হেরে তাদের নামের পাশে যেন আরও জেঁকে বসল ‘চোকার্স’ অপবাদটি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ২৪ বলে মাত্র ২৬ রান। হাতে তখনো ৬ উইকেট। সেট ব্যাটার হিসেবে ব্যাটকে তখন খাপখোলা তলোয়ার বানিয়েছেন হেনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। তবে এই রানও অতিক্রম করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ৭ রানে হেরে অপবাদ ঘোচাতে পারল না দলটি।

বর্ণবাদ ইস্যুতে নিষিদ্ধ থাকার পর ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ থেকে ক্রিকেটে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। তবে বৃষ্টি আইনের অদ্ভূত নিয়মে হেরে যায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। ১৯৯৬ সালেও দারুণ পারফরম্যান্সে তরতর করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্যে এক পর্যায়ে ৪ উইকেট হারিয়েই ১৮৬ রান করে ফেলে প্রোটিয়ারা। তবে সেখান থেকে পথ হারিয়ে আর সেমিফাইনালে ওটার পথ বন্ধ হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চোকার্স নামকরণ ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে সেটি বলা কঠিন। তবে এই আলোচনায় উঠে আসে অস্ট্রেলিয়ান সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর নাম। ১৯৯৭-৯৮ সালে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ড। সেখানে গ্রুপপর্বে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে প্রত্যেকটি দল। যার মধ্যে ৭টিতেই জয় পায় প্রোটিয়ারা। একটি ম্যাচ হারে কিউইদের বিপক্ষে। ফাইনালে খেলে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

ত্রিদেশীয় সেই সিরিজে ফাইনাল ম্যাচ ছিল ৩টি। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচটি জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তার মানে, পরে মাত্র ১টি ম্যাচ জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত প্রোটিয়াদের। সেই অবস্থায় যে কেউ শিরোপার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকেই বাজির ঘোড়া হিসেবে ধরবে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ বললেন, পরের দুই ম্যাচে আমরাই জিতে শিরোপা নিশ্চিত করছি। কারণ, কাজের সময় মনোবল ধরে রাখতে পারে না দক্ষিণ আফ্রিকা। ঠিকই পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

শুধু ১৯৯২, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা সেই ত্রিদেশীয় সিরিজই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চোকার্সের অপবাদ লেগেছে পরের প্রায় প্রত্যেকটি আইসিসি টুর্নামেন্টেই। সেই নকআউট পর্বের দুর্বলতার কারণেই। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে শেষ ওভারে গিয়ে অ্যালান ডোনাল্ডের সেই পাগলাটে দৌড়ে বিদায় নেয় সেমিফাইনাল থেকেই। ২০০৩ বিশ্বকাপেও দুঃখজনকভাবে বিদায়। ২০০৭ সালের সেমিফাইনালেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায়। এরপর ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে গিয়ে এক পর্যায়ে প্রোটিয়ারা ২ উইকেট হারিয়ে করেছিল ১০৮ রান। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ হেরেছে ৪৯ রানে।

২০১৫ সালে এবিডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসি, ডেল স্টেইনদের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের নিয়েও বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। গত বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খুব কাছে গিয়েও ঘোচাতে পারল না চোকার্স অপবাদ।